লক্ষ্মীপুরে মেডিকেল সনদ জালিয়াতি; প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরির কারাদন্ড

একুশে জার্নাল ডটকম

একুশে জার্নাল ডটকম

এপ্রিল ০৪ ২০২২, ১৮:২৫

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: মেডিকেল সনদ জালিয়াতি করে সমাজ সেবা অধিদপ্তর থেকে অনুদান প্রাপ্তির জন্য আবেদন করতে গিয়ে আটক হয়েছে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের পাঁচপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি ও একই এলাকার রুহুল আমিনের পুত্র মো: নুর হোসেন (৩৫)।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, কিডনী, লিভার, হৃদরোগ, ষ্টোকসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্তদের সরকারী ভাবে জেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে অনুদান দিয়ে থাকে।

সেই লক্ষ্যে অনুদানের জন্য নুর হোসেন তার স্ত্রী হাছিনা বেগম ও আপন বড় ভাই মো: মনজু নামে পৃথক ২টি আবেদর ফরম করে স্বাক্ষরের জন্য ০৪ এপ্রিল (সোমবার) দুপুরে জেলা সিভিল সার্জন ডা: আহাম্মদ কবিরের সাথে দেখা করে ওই ফরম গুলোতে স্বাক্ষর নেওয়ার জন্য যায়। সিভিল সার্জন মেডিকেল কাগজপত্র দেখে সন্দেহ হয়। পরে তিনি ওই ডায়াগনষ্টিক সেন্টার নোয়াখাল তে যোগাযোগ করে জানতে পারে রিপোর্ট গুলো জনৈক শাহাব উদ্দিন নামে এক ব্যাক্তির

তখন সিভিল সার্জন বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও জেলা সমাজ সেবার উপ-পরিচালক কে অবহিত করে। পরে জাল জালিয়াতি প্রমাণ পাওয়ায় নুর হোসেন কে আটক করে রাখে। খবর পেয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: ইমরান হোসেন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনারস্থলে যায়। অপরাধ প্রমানীত হওয়ায় নুর হোসেন কে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার ভূমি অমিত রায় ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে ১৫ দিনের সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করে।

জেলা সমাজ সেবা উপ-পরিচালক নুরুল ইসলাম পাটওয়ারী জানান , কিডনী, লিভার, হৃদরোগ, ষ্টোকসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্তদের এককালিন ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত অনুদান দিয়ে থাকে। তবে কাগজপত্র সঠিক থাকলে ও জেলা সিভিল সার্জনের স্বাক্ষরের মাধ্যমে আবেদন যাচাই-বাচাই শেষে জেলা প্রশাসকের অনুমোদনক্রমে অনুদানের চেক দেওয়া হয়ে থাকে। মেডিকেল কাগজপত্র জাল করে নুর হোসেন তার ভাই ও স্ত্রীর নামে আবেদন জমা দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে জেলা সিভিল সার্জন অফিস যায়। পরে কাগজপত্র জাল বলে প্রমাণীত হয়।

জেলা সিভিল সার্জন ডা: আহাম্মদ কবির জানান জনৈক শাহাব উদ্দিনের মেডিকেল রির্পোট নাম পাল্টিয়ে হাছিনা বেগম ও মো: মনজু বসিয়ে আমার কাছে স্বাক্ষরের জন্য আসলে আমি রির্পোটের কাগজ থেকে ওই ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে নাম যাচাই বাছাই করে জালিয়াতির প্রমাণ পাই। পরে জেলা প্রশাসক মহোদয় কে অবহিত করলে তিনি নিবাহী ম্যাজিষ্ট্রেটদের পাঠান।

নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার ভূমি অমিত রায় সাংবাদিকদের জানান. দন্ডবিধি ১৮৬০ এর ১৮৮ ধারায় অপরাধ প্রমানীত হওয়ায় নুর হোসেন কে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

এ দিকে পুলিশ হেফাজনে থাকায় অবস্থায় নুর হোসেন সাংবাদিকদের জানান, তার স্ত্রী অসুস্থ ও অন্যদিকে তার ভাই সম্প্রতি গাছ থেকে পড়ে অসুস্থ অবস্থায় রয়েছে। তাদের চিকিৎসা অর্থের জন্য তিনি মেডিকেল রির্পোট নকল করে অনুদানের জন্য আবেদন করেছে। সেই তার ভুল স্বীকার করেছে।