রাজশাহীর দুর্গাপুরে ভ্যাকসিন না পেয়ে ফিরে গেলেন প্রায় তিন শতাধিক মানুষ 

একুশে জার্নাল ডটকম

একুশে জার্নাল ডটকম

আগস্ট ১৪ ২০২১, ২৩:৩৭

দুর্গাপুর (রাজশাহী) প্রতিনিধি : রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে মোবাইল ফোনে এসএমএস না যাওয়ায় করোনাভাইরাস প্রতিরোধী ভ্যাকসিন না পেয়ে ফিরে গেলেন উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের প্রায় তিন শতাধিক মানুষ।

রেজিষ্ট্রেশনকারীদের মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন নারী। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও ভ্যাকসিন পাননি তারা। এক সময় উপস্থিত লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশের সহায়তায় তাদের বাড়ি ফিরতে বাধ্য করা হয়।

অভিযোগ উঠেছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিসংখ্যানবিদ রোমেনা পারভীনের ভুল বা গোঁয়ার্তুমির কারণেই ভ্যাকসিন না পেয়ে বাড়ি ফিরতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। তবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের দাবি, সার্ভার জটিলতার কারণে রেজিষ্ট্রেশন সম্পন্নকারীদের আগের দিন এসএমএস দেওয়া সম্ভব হয়নি।

তাছাড়া সাত-আটজন ভ্যাকসিন পেয়েছেন দাবি করেন। তবে একইদিন রাজশাহীর অন্যান্য উপজেলায় ভ্যাকসিন বা টিকা পেতে সাধারণ মানুষের কোনো সমস্যা হয়নি বলেও জানা গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, তারা নিয়ম অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করে রেজিস্ট্রেশনের কাগজ হাতে করে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা নিতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। কিন্তু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ তাদের জানান ফোনে এসএমএস না আসলে আপনারা টিকা পাবেন না। এ

কপর্যায়ে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়লে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ তাদের বাড়ি ফিরে যেতে বলেন। সার্ভার ত্রুটির নিছক গল্পটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের বানানো বলেও দাবি করেন নাম প্রকাশ না করতে অনিচ্ছুক ব্যক্তিরা। কেননা একই দিন রাজশাহী সহ দেশের অন্যান্য উপজেলায় কোনো সমস্যা ছাড়াই ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ভ্যাকসিন নিতে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী রেজিষ্ট্রেশন করেন টিকা নিতে আগ্রহী ব্যাক্তিরা। কিন্তু শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়েও ভ্যাকসিন বা টিকা পাননি সাধারণ মানুষ। তাৎক্ষনিক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ উপস্থিত লোকজনকেও কোনো আশ্বাস দেননি। এক পর্যায়ে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ পুলিশের সহায়তায় জড়ো হওয়া লোকজনকে বাড়ি ফিরতে বাধ্য করেন।

সম্প্রতি দুর্গাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শৃংখলা ভঙ্গ, নানা অনিয়ম-দুর্নীতি ও ও নৈতিক স্খলনের কারণে রোমেনা পারভীনকে বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি করা হয়। ৩/৪ মাস না যেতেই প্রভাব খাটিয়ে ফের দুর্গাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলী হয়েছেন।

সূত্রে জানা গেছে, গত সপ্তাহে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পূণরায় যোগদান করেছেন পরিসংখ্যানবিদ রোমেনা পারভীন। ভ্যাকসিন নেয়ার জন্য রেজিস্ট্রেশনকারীদের মোবাইলে এসএমএস দেওয়ার কাজটি তিনিই করে থাকেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে রোমেনা পারভীন রেজিষ্ট্রেশনকারীদের মোবাইল ফোনে এসএমএস দেননি। ফলে শনিবার ভ্যাকসিন নিতে এসে ভ্যাকসিন না পেয়ে ফিরে গেলেন প্রায় তিন শতাধিক সাধারণ মানুষ।

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ায় ভাইরাস সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে সরকার টিকা নিতে সাধারণ মানুষকে নানা ভাবে উদ্বুদ্ধ করলেও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় বলে দেয় সরাকারি দায়িত্ব পালন তারা কতটা দায়িত্বশীল।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মাহবুবা খাতুন বলেন, রেজিস্ট্রেশনকারীদের ফোনে এসএমএস যায়নি বিষয়টি তিনি তাৎক্ষণিক জানতে পারেননি। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছেন সার্ভারে ত্রুটি থাকায় রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন কারীদের ফোনে এসএমএস পাঠানো সম্ভব হয়নি।

তিনি আরো বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাঃ মেহেদী হাসান ও পরিসংখ্যানবিদ রোমেনা পারভীন এসএমএস পাঠানোর বিষয়টি দেখভাল করেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।