রমযানের প্রস্তুতির মাস শাবান

একুশে জার্নাল

একুশে জার্নাল

এপ্রিল ১৭ ২০১৯, ২৩:৩১

হাবীব আনওয়ার

মুসলিম উম্মাহর দরজায় কড়া নাড়ছে প্রবিত্র মাহে রমজান। রহমত, মাগফিরাত আর নাজাতের আলোকবার্তিকা নিয়ে বছর ঘুরে আবারো আসছে রমযান। রমযানের পূর্ব মাসের নাম সাবান। শাবান হিজরী সনের অষ্টম মাস।শাবান শব্দের অর্থ বিস্তৃত হওয়া, বিস্তার লাভ করা। আল্লাহ তায়াআ শাবান মাসে বান্দার উপর বিশেষ রহমত নাজিল করেন।হযরত উসামা ইবনে যায়েদ রা. বলেন, হুজুর ছা. বলেছেন, প্রবিত্র শাবান আমার মাস, আর রমজান শরীফ হল আল্লাহর মাস। আল্লাহর রাসূল ছা. এই মাসকে রমযানের প্রস্তুতিমূলক মাস হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। হুজুর ছা. এই মাসে নিজে বেশি বেশি রোজা রাখতেন এবং সাহাবায়ে কেরামদেরও রোজা রাখার আদেশ দিয়েছেন।
আম্মাজান হযরত আয়েশা রা. বলেন, ‘নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শাবান মাসের চাইতে বেশি নফল রোযা অন্য কোন মাসে রাখতেন না। নিঃসন্দেহে তিনি পূর্ণ শাবান মাস রোযা রাখতেন।’
অন্য বর্ণনায় আছে, ‘অল্প কিছুদিন ছাড়া তিনি পূর্ণ শা‘বান মাস রোযা রাখতেন।’
বুলুগুল মারাম, হাদিস নং ১২৫৫

মাসায়েসুল আবরার গ্রন্থের ১৭৫ পৃষ্ঠায় হযরত আনাস ইবনে মালেক রা. থেকে বর্ণিত আছে যে, একবার হুজুর ছা. কে জিজ্ঞেস করা হলো রমজানের পর কোন রোজা উত্তম? উত্তরে হুজুর ছা. বলেন, রমজান মাসের সম্মানার্থে শাবানের রোজাই সর্বোত্তম রোজা।

অন্য হাদিসে রমযান মাসের হিসেব রাখতে শাবান মাসের চাঁদের হিসেব রাখার প্রতি তাগিদ দিয়েছেন। আবূ হুরায়রা রা. তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমরা রমযানের মাস নির্ধারণের জন্য শাবানের চাঁদেরও হিসাব রাখ।
জামে’ আত-তিরমিজি, হাদিস নং ৬৮৭

হযরত উসামাহ বিন যায়দ রা. থেকে বর্ণিত
তিনি বলেন, ‘একদা আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনাকে শাবান মাসে যত সিয়াম রাখতে দেখি তত অন্য কোন মাসে তো রাখতে দেখি না, (এর রহস্য কী)?’ উত্তরে তিনি বললেন, “এটা তো সেই মাস, যে মাস সম্বন্ধে মানুষ উদাসীন, যা হল রজব ও রমযানের মাঝে। আর এটা তো সেই মাস; যাতে বিশ্ব জাহানের প্রতিপালকের নিকট আমলসমূহ পেশ করা হয়। তাই আমি পছন্দ করি যে, সিয়াম রাখা অবস্থায় আমার আমল (আল্লাহর নিকট) পেশ করা হোক। নাসাঈ ২৩৫৭

শাবান মাসের মধ্যভাগে রাতের আমলের(শবে বারাত) প্রতি উৎসাহ প্রধান করে আল্লাহর নবী বলেন, মহান আল্লাহ তাআলা এই রাতে বান্দার প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দিয়ে ডাকতে থাকেন। হযরত আলী বিন আবূ তালিব রা. থেকে বর্ণিত রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যখন মধ্য শাবানের রাত আসে তখন তোমরা এ রাতে দাঁড়িয়ে সালাত পড় এবং এর দিনে রোজা রাখ। কেননা এ দিন সূর্য অস্তমিত হওয়ার পর আল্লাহ পৃথিবীর নিকটতম আকাশে নেমে আসেন এবং বলেন, কে আছো আমার নিকট ক্ষমাপ্রার্থী, আমি তাকে ক্ষমা করবো। কে আছো রিযিকপ্রার্থী আমি তাকে রিযিক দান করবো। কে আছো রোগমুক্তি প্রার্থনাকারী, আমি তাকে নিরাময় দান করবো। কে আছ এই প্রার্থনাকারী। ফজরের সময় হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত (তিনি এভাবে আহবান করেন)।
সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ১৩৮৮

এই বরকতময় রাতেও এমন কিছু হতভাগা রয়েছেন যাদের প্রতি আল্লাহ রহমতের দৃষ্টিতে তাকাবেন না।দুনিয়ার সকল মুসলমান ক্ষমা পেলেও মুশরিক, পিতামাতার অবাধ্য, আত্মীয়তা ছিন্নকারী, শরাবপানে অভ্যাস্থ, যাদুকর বা গণক, পায়ের টাখনুর নিচে লুঙ্গী, পায়জামা ইত্যাদি পরিধানকারীকে এই রাতে ক্ষমা করা হয় না। হযরত আবূ মূসা আল-আশআরী রা. থেকে বর্ণিত রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, আল্লাহ মধ্য শাবানের রাতে আত্মপ্রকাশ করেন এবং মুশরিক ও হিংসুক ব্যতীত তাঁর সৃষ্টির সকলকে ক্ষমা করেন।
রিয়াদুস সলেহিন, হাদিস নং ১৩৯০

কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, আমাদের দেশে শবে বারাত কে একটা আনন্দ উল্লাসের রাত মনে করা হয়। বিভিন্ন কুসংস্কার, আতশবাজী, রাত্রি জেগে হালুয়া রুটের আয়োজন করা সহ নানা অহেতুক কাজে সময় নষ্ট করা হয়।মসজিদে অতিরিক্ত আলোকসজ্জা, প্রয়োজনের চেয়ে বেশি মোমবাতি প্রজ্জলন করাসহ এমন কিছু কাজ করা হয়, যা সরাসরি হিন্দু ও অগ্নিপূজকদের সাথে সামঞ্জস্য। এছাড়াও টাকার অপচয় তো হচ্ছেই। যার ফলে নেকির পরিবর্তে গুনাহের ভার মাথায় নিচ্ছে। আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন।আমিন!

লেখক: শিক্ষার্থী, মেখল মাদরাসা হাটহাজারী,চট্টগ্রাম।