যেসব কারণে ব্যতিক্রমি এবারের হাটহাজারী মাদ্রাসার মাহফিল

একুশে জার্নাল

একুশে জার্নাল

জানুয়ারি ০২ ২০২১, ০৯:৩২

জাকারিয়া নোমান ফয়জী

লোকে লোকারণ্য প্রিয় দারুল উলূম হাটহাজারী। জনসমাগম যেন অতীতের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। সবকিছুর এন্তেজামও অত্যন্ত পরিপাটি। খানাপিনার আয়োজনেও নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। গরু-মহিষও গতবারের দুই গুণ। আগত মেহমানরাও সাচ্ছন্দে উপভোগ করেছে এবারের আয়োজন। রাস্তায় নেই বড় যানযট। স্টেজ আলোকিত হচ্ছে দেশের সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলেম-উলামাদের পদচারণায়। গোটা হাটহাজারীজুড়ে সাজসাজ রব পড়েছে। দাঁড়ি-টুপি-পাঞ্জাবিওয়ালাদের আনাগোনায় মুখরিত গোটা হাটহাজারী।

সব কিছু ঠিক আছে। কোথাও নেই কোনো কমতি বা অপূর্ণতা। বিশেষ করে মাগরিবের পর আল্লামা মামুনুল হক দা.বা. এবং খতীবে বাঙ্গাল মাওলানা জুনাইদ আল হাবিবের শিহরণ জাগানো বয়ান, সর্বশেষ আল্লামা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী দা.বা. এর দরদমাখা বয়ান মানুষকে দারুণভাবে আলোড়িত করেছে। দুপুরে আমিরে হেফাজতের তেজোদীপ্ত বয়ান, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের কৌশলী ও বুদ্ধিদীপ্ত বয়ান, আল্লামা আবদুল বাসেত খানের গভীর মনযোগ আকর্ষণীয় বয়ান, আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, আল্লামা নোমান ফয়জী, আল্লামা মুফতি আব্দুল হালিম, আল্লামা আজিজুল হক আল মাদানির বয়ান সবার খুব ভাল লেগেছে।

সবার মুখ থেকে বের হয়েছে মাদ্রাসার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, নিরীহ ওলামায়ে কেরামগণের বিরুদ্ধে মামলার নিন্দা, আল্লামা বাবুনগরীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে কঠিন হুশিয়ারি। তবে প্রচণ্ডরকম অভাব বোধ হয়েছে শাইখুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন আল্লামা শাহ আহমদ শফি রহ. এর। তাঁকে আমরা প্রচণ্ডভাবে মিস করেছি। প্রচুর মানুষ হযরতের মাকবারায় যিয়ারত করেছেন। দেখেছেন তার ‘কুলাঙ্গার’ ছেলেগুলোর মাকবারায় যিয়ারত সম্পর্কে চরম মিথ্যাচার।

প্রতি বছর মাহফিলে জোহরের পরের এই সময়টাতে প্রিয় শায়খ রহ. আমলী আলোচনা করতেন। মাহফিলে আগত মেহমানরা মনযোগ দিয়ে শায়খের আলোচনা শুনতেন। আজ মাঠে এবং মাদরাসায় ধর্মপ্রাণ তাওহীদি জনতার কোনো অভাব নেই। অভাব নেই খ্যাতিমান আলোচকের। কিন্তু তিনি নেই।
আল্লাহ প্রিয় শায়খকে জান্নাতের সুউচ্চ মাকাম দান করুন।

এবারের মাহফিলে ৩টি সিদ্ধান্ত খুবই প্রশংসিত হয়েছে।
১. পাগড়ী দেওয়ার জন্য যে ১০০০ টাকা নেওয়া হতো তা এবার নেওয়া হয়নি। তাই গত বছরের প্রচুর ছেলে এবার পাগড়ি নিয়েছে।
২. দাওরায়ে হাদিস এবং মিশকাত জামাতের পক্ষ থেকে মাহফিল উপলক্ষে যে গরু দেওয়া হতো এবার ছাত্রদের পক্ষ থেকে কোন গরু নেওয়া হবে না বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
৩. প্রতিজন শিক্ষকের বেতন থেকে ২০০০ টাকা করে কেটে গরু কেনা হতো তা এবার বাতিল করা হয়েছে। তাদের থেকে কোন টাকা নেওয়া হয়নি।

সব মিলে অনেক দিন পর উৎসবমুখর ও দালালমুক্ত পরিবেশে এই বার্ষিক মাহফিল সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।