যুগে যুগে নারীর ফাঁদ-পর্ব ৩

Mahbubur Rahman

Mahbubur Rahman

সেপ্টেম্বর ১৬ ২০২১, ১৩:২৪

মাওলানা হাসান মুরাদ:

লেখা-পড়ার সুবাদে আমি তখন ঢাকায়।ছুটির দিনগুলো এখানে সেখানে ঘুরে কাটাতাম। সাথে থাকত প্রিয় বন্ধু আরিফুল হক। ২০০৭ সাল, ১৬ই ডিসেম্বর। সেদিন ঘুরতে বের হলাম বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর প্রদর্শনী দেখতে। সে সময় আগারগাঁও পুরান এয়ারপোর্টে বিমান,নৌ এবং সেনাবাহিনী সুন্দর প্রদর্শনী দেখাত। জানিনা এখন আর দেখানো হয় কি না? আমরা বেশ সকালেই গ্যালারিতে স্থান করে নিলাম। সারাদনি ঘুরে অনেক কিছু দেখেছিলাম।বিশেষ করে দেখলাম পাক বাহিনির সাথে নিরস্ত্র বাঙ্গালির যুদ্ধের অভিনব কলা-কৌশল। ঘুরতে ঘুরতে আমরা এক সাময়িানায় ঘেরা বেষ্টনীতে প্রবেশ করলাম। সেখানে বড় পর্দায় যুদ্ধের বিভিন্ন চিত্র দেখানো হচ্ছিল। একটা চিত্র আমাদের সামনে চিত্রিত হল। সেটি বাংলাদেশ টেলিভিশন কর্তৃক প্রচারিত হচ্ছিল ।চিত্রটি এমন: রাস্তার পাশে ক’জন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বন্দুক হাতে দাড়িয়ে আছে। পাশে কয়েকটি বাড়ি।বাড়ি থেকে একজন অর্ধবয়সি নারী বেরিয়ে আসছে। পড়নে শাড়ি । নারীটি মুখে আঙ্গুল রেখে ইশারাতে একজন পাক সেনাকে ডাকছেন। পাকসেনা নারীর ডাকে সাড়া দিয়ে কাছে আসছে। নারীটি ধীরে ধীরে বাড়ির দিকে যাচ্ছে। সেনাটিও তাকে অন্ধ অনুসরণ করে চলছে। ওদিকে বাড়ির ভেতরে পূর্ব থেকেই কিছু মানুষ দেশিয় অস্ত্র নিয়ে প্রস্তুত। পাক সেনা ভেতরে প্রবেশের সাথে সাথেই প্রস্তুত মানুষগুলো আতর্কিত হামলা করে সেনাদের ধরাশায়ী করছেন। নারীটি আবার একই তরিকাতে আরেক সেনাকে আকৃষ্ট করছেন। সেনাসদস্য ভেতরে আসার পর একই অবস্থা। এভাবে সবগুলো সেনাকে হত্যা করা হল। যুদ্ধের সয়ম বাস্তবেই এমন ঘটনা ঘটেছিল কি না জানি না। তবে শত্রু পক্ষকে কাবু করার বেশ অভিনব ফাঁদ। প্রতিটি যুদ্ধেই নারীদের ফাঁদ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ক্রসেড যুদ্ধের সিরিজ যারা পড়েছেন তাদের বেশ জানা,খ্রিষ্টান নারীরা মুসলিমদের কিভাবে ফাঁদে ফেলতে সচেষ্ট ছিল।

আল্লাহর নবী হযরত ইউসুফ আ.। নবী-রাসুলগণ নিষ্পাপ। কিন্তু নিষ্পাপ সেই নবীকে নারী জুলেখা কিভাবে ফাঁদে আটকে দিল! আযিযে মিসর নিজেও ইউসুফ আ. এর নির্দোষতার প্রমান পেল। তবুও ইউসুফ আ. জেলে বন্দি হলেন। কয়েক বছর জেলে বন্দি থাকলেন।আল্লাহ তায়াল নবী ইউসুফ আ. এর নির্দোষতার প্রমান দিলেন। অন্যথা দুনিয়ার মানুষ নবী সম্পর্কে হয়ত মন্দ ধারণা রাখত।

হযরত আয়েশা রা. বর্ণনা করেন: একবার ১১জন নারী একত্রিত হল।তারা প্রত্যেকেই একে অপরের কাছে নিজেদের স্বীমির দোষ-গুণ বর্ণনা করতেছিল। তাদের ১১ তম স্ত্রী ছিল উম্মু ঝারয়া। উম্মু ঝারয়া বলেন,আমার স্বামী,আবু ঝারয়া। আমি ছিলাম গ্রামের গরিব ঘরের মেয়ে। আবু ঝারয়া আমাকে সেখান থেকে বিয়ে করে তার ঘরে নিয়ে আসল। আবু ঝারয়ার ঘরে আমার সুখের কমতি ছিলনা। আমার শূন্য দেহ অলংকারে পূর্ণ হলো ।হালকা দেহ সিমসাম হলো। আমার কাজ করতে হতো না। কাজের লোকই সংসারের কাজ করত। একদিনের ঘটনা। আবু ঝারয়া সফরে বের হবে। আবু-ঝারয়ার জন্য দুধ গরম করা হল। নাস্তা প্রস্তুত। এমন সময় আবু ঝারয়া বাইরে বের হল। ঘরের বাইরে একজন নারী বসা ছিল। সাথে দুটো বাচ্চা।বাচ্চাদুটো মায়ের স্তন নিয়ে খেলা করছিল। নারিটি বাচ্চাদের স্তনের দুধ পান করাতেছিল। আবু-ঝারয়া দৃশ্যটি দেখল। এবং ফাঁদে আটকে গেল। নারীটির প্রতি আসক্ত হয়ে গলে। এরপর উম্মু ঝারয়া বলেন; শেষ পর্যন্ত আবু-ঝারয়া আমাকে তালক দিয়ে দিল। আবু-ঝারয়া সে নারীকে বিয়ে করল। আমারও পরে অন্য জনের সাথ বিয়ে হলো ।দ্বিতীয় স্বামীও আমাকে অনেক সুখে রেখেছে। কিন্তু আবু-ঝারয়ার মত সুখ আমি পায়নি। (মুসলিম শরিফ)

আবু আব্দুল্লাহ উন্দুলুসী রহ.। প্রসিদ্ধ বুজুর্গ। নিজ সময়ের বিখ্যাত ওলী ছিলেন।ছিলেন জগদ্বিখ্যাত মুহাদ্দিস ও শ্রেষ্ঠ মনীষী।পূর্ণ কোরআন এবং ত্রিশ হাজার হাদিস মুখস্থ করেছিলেন। উন্দুলুসী রহ. এর ছত্রি ছিলেন শিবলি নোমানী,জোনায়েদ বোগদাদী রহ.। ছাত্রের পরিচয়ে অনুমেয় কত উচু স্তরের মানুষ ছিলেন। এমন উচু দরের একজন ওলী। একদিন ভক্তদের নিয়ে সফরে বের হলেন। চলতেই থাকলেন। চলা থামল পানিশূন্য এক উপত্যকয়া।দুপাশে খ্রিষ্টান পল্লি। সালাতের সময় হলো। কিন্তু পানির সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না ।এমন সময় বিপরীত দিক থেকে একদল তরুণীদের পানি নিয়ে আসতে দেখলেন। তাদের হাতে-কাঁকে পানির মশক। তরুনী দলের মধ্যে একজন ছিল অনিন্দ্য সুন্দরী। খ্রিষ্টান পরিবারের মেয়ে। আবু-আব্দুলাহ উন্দলুসী রহ. এর দৃষ্টি পড়ল সেই যুবতী নারীর উপর। দৃষ্টি পড়তেই তিনি ফাঁদে আটকে পড়লেন। সেখানেই বসে পড়লেন। তিনদিন কারো সাথে কোন কথা নেই। তিনদিন পর শাগরেদ শিবলি নুমানী রহ. সাহস করে জানতে চাইলেন; হুজুর আপনার কি হলো? পীর সাহেব বললেন: আমার থেকে ওলীর পোশাক কেড়ে নেয়া হয়েছে। আল্লাহর ফায়সালা হয়েগেছে। গত দুদিন আগে যে যুবতী নারীকে তোমরা দেখেচ,আমি তার ফাঁদে আটকে পড়েছি।(উম্মুল আমরাজ,শাইখুল হাদীস যাকারিয়া রহ.)

প্রিয় পাঠক! যুগে যুগে নারীর এ ফাঁদ বিস্তৃত।শয়তানের বড় হাতিয়ার নারী। নারীর ফাঁদে ফেলে শয়তান অযুত-নিযুত মানুষকে পথভ্রষ্ট করেছেন। নারীর ফাঁদে পড়ে সংসার বিনষ্ট হয়েছে এমন সংখ্যা আমাদের দেশেও অগণিত।

রাসুল সা. বলেন; আমার মৃত্যৃর পর পুরুষদের জন্য নরী অপেক্ষা আর বড়ো কোন ফিতনা নেই। (বুখারী) এ জন্যই রাসুল সা. উম্মতকে নারী ফিতনা থেকে বাচতে দোয়া শিখিয়েছ। হে আল্লাহ আমি আপনার কাছে নারী ফিতনা ও জাহান্নামের আগুন থেকে আশ্রয় পার্থানা করছি। আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন। আমিন!

চলবে ইনশাআল্লাহ!