যারা নতুন চাকুরী/খিদমত খুঁজছেন তাদের জন্য চারটি টিপস

একুশে জার্নাল

একুশে জার্নাল

জুন ১০ ২০১৯, ১৩:০৫

মুফতী ইউসুফ সুলতান

প্রথমেই নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করি। দেশে ইফতা ‘র পরীক্ষার সময় মুফতী হাফিজুদ্দীন সাহেব হাফিজাহুল্লাহ একটা নতুন মাদ্রাসার স্বপ্ন শেয়ার করলেন, সাথে সাথে রাজী হয়ে গেলাম। সেটা ছিল জামিয়াতুল আস’য়াদ।
তিনি হজ্জ্বে যাবেন, মসজিদে জুমার কথা বললেন, আরেকজনকে বলেছিলেন, তিনি ঈদের ছুটি বাড়িতে কাটাবেন তাই রাজী হন নি। আমি সাথে সাথেই রাজী হয়ে গেলাম। সেখান থেকে পরে হলো মালিবাগ মসজিদের খেতাবাত। এরপর হলো মালিবাগ জামিয়া, এভাবেই হঠাৎ করে, একজন বললেন, রাজী হয়ে গেলাম। আইইউটিও একই।
টিভিতে গেলাম, একই রকম। তিনজন ছিলাম, আমাকে হঠাৎ বললো, সরাসরি লাইভ করতে হবে, সাথে সাথে রাজী হয়ে গেলাম।

এরপর সব ছেড়ে মালয়েশিয়া আসলাম। ভেবেছিলাম, কেউ ডেকে নেবে, যেহেতু প্রায়ই জুমা পড়াই, প্রায় সবাই চেনে। পরে বুঝলাম, সব প্রফেসর ভাবেন, আমাকে অলরেডি কেউ নিয়োগ দিয়েছেন, বা আমার প্রয়োজন নেই। এক প্রফেসর শেখালেন, সবাইকে আমার চাহিদা জানাতে। এরপর পরিচিত সব প্রফেসরকে বললাম, অন্য প্রতিষ্ঠানেও বললাম। প্রায় সাত মাস পর প্রথম সুযোগ আসল, ছোট, তবে নিয়ে নিলাম। এরপর আলহামদুলিল্লাহ আর থামতে হয় নি।

আমার জীবনের শিক্ষা দুটো:
(১) ছোট-বড়, বন্ধু-শিক্ষক সবাইকে বলা যে আপনি চাকুরী/খিদমত খুঁজছেন। পেট/মাথা আপনার, ব্যথাও আপনার। আর সুযোগ কখন কার কাছে থাকে কেউ জানেন না। কাজেই সবাইকে বলে রাখবেন, লজ্জার/তাকাল্লুফের কিছু নেই, এটা কোনো ভিক্ষা না। যার মাধ্যমে পাবেন, তার জন্য দুয়া করবেন, এপ্রিশিয়েট করবেন।

(২) হঠাৎ কোনো সুযোগ, ছোট হলেও, চলে আসলে নিয়ে নিবেন। আপনি কখনো জানবেন না কোন ছোট সুযোগ থেকে বড় কী কখন হয়ে যাবে, একমাত্র আল্লাহ তায়ালা জানেন। আর আপনার জন্য যা নির্ধারিত, তা আপনার কাছে আসবেই, আপনি না চাইলেও।

এ দুটো বিষয়ের পাশাপাশি অনবরত দুয়া করতে থাকুন, এবং অবসরে নতুন নতুন স্কিল/পড়াশোনা চালিয়ে যেতে থাকুন। ইনশা’আল্লাহ বদ্ধ দুয়ার খুলে যাবে।
ভালো থাকুন।