মুসলমানদের ‘নিপীড়িত সংখ্যালঘু’ বানিয়েছে ভারত: নোয়াম চমস্কি

একুশে জার্নাল ডটকম

একুশে জার্নাল ডটকম

ফেব্রুয়ারি ১৩ ২০২২, ১৩:০২

অধ্যাপক নোয়াম চমস্কি বলেছেন, ‘ভারতে ইসলাম ভীতি (ইসলামোফোবিয়া) সবচেয়ে মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে। প্রায় ২৫ কোটি মুসলমানকে ‘নির্যাতিত সংখ্যালঘু’তে পরিণত করেছে ভারত।’

তিনি বলেন, ‘ইসলাম ভীতির রোগ সমগ্র পশ্চিমজুড়েও বাড়ছে। তবে এটি ভারতে সবচেয়ে মারাত্মক রূপ নিয়েছে।’

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বখ্যাত ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির (এমআইটি) অধ্যাপক এমেরিটাস এই বিখ্যাত লেখক এবং মানবাধিকার কর্মী গত বৃহস্পতিবার এক ওয়েবিনারের ভিডিও বার্তায় একথা বলেন।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডাব্লিউ)-এর এশিয়া অ্যাডভোকেসি ডিরেক্টর জন সিফটন বলেছেন, ভারতীয় সংবিধানের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হল সংখ্যালঘুদের বাদ দিয়ে ভারত সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠের ধর্মকে সুবিধা দিচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘বিজেপি এবং এর সহযোগীরা নির্বাচনের সময় আসলে হিন্দু ভোট লাভের জন্য মুসলমানদের বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক মন্তব্য করছে’।

জন সিফটন বলেন, বিজেপি সরকার এমন আইন ও নীতি গ্রহণ করেছে যা ধর্মীয় সংখ্যালঘু এবং অন্যান্য গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নিয়মতান্ত্রিকভাবেই বৈষম্য করে এবং এটি তার সমালোচকদেরও কোণঠাসা করে। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, ভারত সরকার সংখ্যালঘুদের, বিশেষ করে ভারতীয় মুসলমানদের টার্গেট করেই ‘নাগরিকত্ব আইন’ প্রণয়ন করেছে।

ক্যালিফোর্নিয়ার বার্কলে ইউনিভার্সিটির একজন ভারতীয় নৃতত্ত্ববিদ এবং পণ্ডিত অঙ্গনা চ্যাটার্জি বলেছেন, ক্ষমতাসীন হিন্দু জাতীয়তাবাদী বিজেপির সরকারের মধ্যে থাকা বিদ্বেষ এবং কুসংস্কারগুলো ভারতের পুলিশ এবং আদালতের মতো স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতেও অনুপ্রবেশ করেছে। উগ্র জাতীয়তাবাদী দলগুলোকে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের হুমকি, হয়রানি এবং আক্রমণ করার ক্ষমতা দিয়েছে।

অঙ্গনা চ্যাটার্জি বলেন, ‘হিন্দু ধর্মীয় নেতারা মুসলমানদের জাতিগতভাবে নির্মূলে জড়িত। বিজেপি নেতারা এবং এর সহযোগী গোষ্ঠীগুলি দীর্ঘদিন ধরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, বিশেষ করে মুসলমানদেরকে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা এবং হিন্দু জীবনধারার জন্য হুমকি হিসেবে চিত্রিত করে আসছে। তারা ‘লাভ জিহাদ’ এর গুজব ছড়িয়েছে এবং দাবি করছে যে মুসলিম পুরুষরা হিন্দু নারীদেরকে ইসলামে ধর্মান্তরিত করার জন্য বিয়েতে প্রলুব্ধ করছে, মুসলিম অভিবাসীদের চরমপন্থী হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং মুসলিমদের বিরুদ্ধে গরু জবাইয়ের মাধ্যমে হিন্দু অনুভূতিতে আঘাত করার বিদ্বেষমূলক অভিযোগ তুলেছে।’