ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ওআইসির কাছে জোর দাবি জানাবে সৌদি

একুশে জার্নাল ডটকম

একুশে জার্নাল ডটকম

ডিসেম্বর ২৯ ২০১৯, ২০:৫১

উপত্যকাটিতে একতরফা পদক্ষেপের ব্যাপারে ভারত সরকারের বিরুদ্ধে জোরালো পদক্ষেপ নিতে পারে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)।

এ ব্যাপারে সৌদি আরব পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে বলে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশি জানিয়েছেন। রোববার মুলতানে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি। খবর জিয়ো নিউজ উর্দূর।

পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন ও জাতীয় নাগরিক পঞ্জিসহ ভারত সরকারের হিন্দুত্ববাদী কার্যক্রমে বিশ্ব এখন আর চুপ থাকবে না। আমরা শুরু থেকেই তাদের এমন হিংসাত্মক মনোভাবের বিষয়টি আন্তর্জাতিক ফোরামে তুলে ধরেছি।

আগামী এপ্রিল মাসে পাকিস্তানে অধিকৃত কাশ্মীর ও ভারতীয় মুসলমানদের উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি বৈঠক ডেকেছে অরগানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি)।

গত সপ্তাহে ইসলামাবাদ সফরে গিয়েছিলেন সৌদির পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল-সউদ। সেখানে পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশির সঙ্গে এ বৈঠকের কথা চূড়ান্ত হয়।

ফারহান আল সউদ এবং শাহ মাহমুদ কোরেশির বৈঠক নিয়ে পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, বৈঠক চলাকালীন জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বিলোপ, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন, জাতীয় নাগরিক পঞ্জিসহ সাম্প্রতিক কালে ভারত সরকারের নেয়া একাধিক সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন শাহ মাহমুদ কোরেশি। কীভাবে বেছে বেছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, বিশেষ করে মুসলিমদের ভারতে টার্গেট করা হচ্ছে, তাও তুলে ধরা হয়।

ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কাশ্মীরের ব্যাপারে ওআইসির ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়েছে দু’দেশের মধ্যে। ভারতে সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতির দিকে নজর রয়েছে ওআইসির জেনারেল সেক্রেট্যারিয়টের। নাগরিকত্বের অধিকার এবং বাবরি মসজিদ মামলাসহ সাম্প্রতিক ঘটনায় যথেষ্ট উদ্বিগ্ন তারা। ভারতের সংখ্যালঘু মুসলিম এবং তাদের পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা রক্ষায় যে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, ফের আশ্বস্ত করেছে ওআইসি।

ওআইসির এ বৈঠককে নিজেদের কূটনীতিক বিজয় হিসেবে দেখছে পাকিস্তান।

সপ্তাহ খানেক আগে মালয়েশিয়ার ডাকা ইসলামি দেশগুলোর বৈঠক থেকে পাকিস্তানকে সরে আসতে বাধ্য করেছিল সৌদি আরব। তারই প্রতিদান হিসেবে কাশ্মীর নিয়ে ইসলামাবাদ চাপ সৃষ্টি করায় রিয়াদ তা মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।