বড়উঠানে বন্যহাতির উপদ্রব নিরসনে জনসচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

একুশে জার্নাল ডটকম

একুশে জার্নাল ডটকম

জানুয়ারি ৩০ ২০২১, ২০:১১

নিজস্ব প্রতিনিধি: ‘বন্যপ্রাণী প্রকৃতির অংশ আমরা প্রকৃতিকে বাঁচাবো আগামী প্রজন্ম’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার বড়উঠান ইউনিয়নে বন্যহাতি-মানুষ সংঘাত নিরসন বিষয়ক জনসচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৩০জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় উপজেলার বড়উঠান ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগ (পটিয়া রেঞ্জ)।

ইউপি চেয়ারম্যান দিদারুল আলম দিদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ খোরশেদ আলম।

এতে আরও বক্তব্য রাখেন পটিয়া বনবিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, ইউপি সদস্য হারুন তালুকদার,সংরক্ষিত মহিলা সদস্য মোমেনা আক্তার নয়ন,মনজু আকতার,ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আবু ছিদ্দিক, রফিক ইসলাম, আব্দুল মন্নান ও হাসিনা বেগম।

রফিকুল ইসলামের সঞ্চলনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বনবিভাগের কর্মকর্তা শহিদুর রহমান, মোঃকাইছার,হেডম্যান মহিউদ্দিন, বিলেজার মাহবুব, মোঃ জেবলসহ বড়উঠান ইউনিয়নের বন্যহাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত জনসাধারণ।

চেয়ারম্যান দিদারুল আলম বলেন, সন্ধ্যা হলে আমরা কেউ নিরাপদে থাকতে পারিনা না সারাদিন পরিশ্রম করে যখন বাড়িতে ফিরি ভাত খেতে বসলে উঠে যেতে হয়। কখন হাতি আসতেছে।

তিনি বলেন,২০১২ সালে হাতির আক্রমণে ৭ম শ্রেণীর ছাত্র জুয়েল দাশ নিহত হয়েছে। নিহত হয়েছে জালাল আহমদ, মায়ারাণী বড়ুয়া। হাতির আক্রমণে প্রতি রাতে গ্রামের মানুষ আমাকে ফোন করে। বাড়ির সামনে হাতি এসে গেছে। আমার জমির ফসল নষ্ট করে দিছে। আমরা আমার মা বোন সন্তানকে আর হারাতে চায় না এবং কোনো কৃষকের ফসল নষ্ট হোক তাও চায় না।

চেয়ারম্যান আরও বলেন, ২০১১ সালে থেকে এবিষয়ে অভিযোগ জানিয়ে আসছি। কিন্তু কার্যকর কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

তবে মাননীয় ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদকে বিষয়টি জানালে তিনি হাতির আক্রমণ থেকে গ্রামবাসী রক্ষা করার জন্য ১০ লাখ টাকা অনুদান দেবেন বলে জানিয়েছিলো। যেটি আমি পরে বনবিভাগকে জানিয়েছিলাম। কিন্তু কোনো সুফল আমরা পাচ্ছি না। টাকা লাগলে নিয়ে যান তবুও আমার বড়উঠানবাসীকে হাতীর আক্রমণ থেকে রক্ষা করুন।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কর্মর্কতা মোহাম্মদ খোরশেদ আলম বলেন, আপনারা হাতিকে আক্রমণ করবেন না। এটা জাতীয় সম্পদ। আপনারা হাতি দেখলে আমাদের খবর দিবেন। আমরা যতটুকু সম্ভব নিরসনের ব্যবস্থা করব।

তিনি আরও বলেন, এসব অনাকাঙ্খিত ঘটনায় বন বিভাগের পক্ষ থেকে হাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে ২৫ হাজার, আহত পরিবারকে ৫০ হাজার এবং নিহত ব্যক্তির পরিবারকে ১লক্ষ টাকা দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেন।