ব্রহ্মপুত্রের চরে কালাইয়ের বাম্পার ফলনে খুশী চাষীরা

Raja Babu

Raja Babu

মার্চ ৩০ ২০২২, ০২:২৫

রোকন সরকার, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :

কুড়িগ্রামে সদ্য জেগে ওঠা চরের জমিতে যৌথভাবে খেসারী কালাই চাষ করে লাভবান হয়েছেন কৃষকরা। মাত্র সাড়ে ৪ মাস যত্ন নেওয়ার পর আসন্ন রমজান মাসের রোজার আগেই এই কালাই পেয়ে খুশি তারা। রোজায় ইফতারিতে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় পিয়াজু তৈরিতে এই খেসারী কালাইয়ের প্রয়োজন হয়। এ সময় বেশি দামে বিক্রি করে দুটো বাড়তি টাকা উপার্জন করতে পারবে এতেই খুশি চাষিরা।

জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর কুড়িগ্রাম জেলায় এক হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে খেসারী কালাইয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। সেখানে অর্জিত লক্ষ্যমাত্রা এক হাজার ১৬১ হেক্টর। চরাঞ্চলে অধিক পরিমাণে এই ডাল চাষ করা হয়ে থাকে। এবার কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নে ব্যতিক্রমভাবে দেড় শতাধিক চাষি যৌথভাবে ২৫ একর জমিতে কালাই চাষ করেন। একসঙ্গে চাষ করায় খরচ পরেছে বেশ কম। অল্প ব্যয়ে অধিক কালাই পেয়ে চাষিদের চোখে-মুখে হাসি ফুটে উঠেছে।

যাত্রাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী সরকার জানান, এই ইউনিয়নে প্রমত্ত ব্রহ্মপূত্র নদের বুক জুড়ে রয়েছে ছোট বড় প্রায় ২৫টি চর। এরমধ্যে অর্ধেক চরে মানুষ বসবাস করলেও নতুন জেগে ওঠা চর স্থায়ী না হওয়া পর্যন্ত সেই চরে মানুষ বসতী স্থাপন করে না। বিগত ৫/৬ বছর ধরে ভগবতীপুর ও পোড়ার চরের মাঝখানে প্রায় ৮০ একর জমি নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন একটি চর।

এই চরের অধিকাংশ জমিতে চাষ করা হচ্ছে বিভিন্ন ফসল। পালন করা হচ্ছে গবাদি পশুও। কেউ কেউ এখানে নতুনভাবে বসতি গড়ে তুলছেন। বিশাল এই চরের মধ্যে প্রায় ২৫ একর জমিতে পার্শ্ববর্তী চর যাত্রাপুর গ্রামের ১৫০টি পরিবার নতুন এই চরে যৌথভাবে চাষ করেছেন খেসারী কালাই। প্রথমবার চাষ করেই ভাল ফলন পেয়ে অত্যন্ত খুশি তারা।

চর পরিদর্শনে এসে কালাইয়ের চাষ দেখে বিস্মিত হয়েছেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রাসেদুল হাসান। তিনি জানান, চরের পতিত জমিতে যৌথভাবে ডাল উৎপাদন করে উদাহরণ সৃষ্টি করেছে দেড়শ ঘর পরিবার। এই রমজানের পূর্বে অধিক মূল্যে ডাল বিক্রি করতে পারবে তারা। এতে পতিত জমিগুলোও ব্যবহার উপযোগী হবে এবং যৌথ পদ্ধতিতে ডাল চাষের মাধ্যমে দেশের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।