ব্যক্তির অপরাধের দায় কেবল-ই ব্যক্তির, প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের নয় – মুফতি শামসুদ্দোহা আশরাফী

একুশে জার্নাল2

একুশে জার্নাল2

জুলাই ০৭ ২০১৯, ১৬:৪৯

একুশে জার্নাল ডেস্ক: বাড়াবাড়ি আমাদেরকে ভালোভাবেই পেয়ে বসেছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো যারা উদারতার কথা বলে তারাও ক্ষেত্রবিশেষ বাড়াবাড়িতে মত্ত হয়ে যায়।

আর এ বাড়াবাড়ির রোষানল থেকে বাদ যায় না ধর্ম ,দল-মত, সংগঠন,প্রতিষ্ঠান কোন কিছুই।

ইদানিং কিছু মাদ্রাসা ও ব্যক্তিগতভাবে সংঘটিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেখা যাচ্ছে আমাদের কিছু ভাই বেশ বাড়াবাড়িতে লিপ্ত হয়েছে। যেন তারা ভুলেই গেছে ব্যক্তির অপরাধের দায় কখনো দল, গোষ্ঠী , সংগঠন বা প্রতিষ্ঠানের উপর ঢালাওভাবে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

পুরুষ কিংবা মহিলা মাদ্রাসায় বা বেক্তিগতভাবে যৌনতা বিষয়ক যে ঘটনাগুলো সংঘটিত হওয়ার সংবাদ আমাদের সামনে আসছে সেগুলো নিছকই কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ।

তবে এ ঘটনাগুলোকে গুরুত্বহীন ভাবার সুযোগ নেই। বরং এগুলো প্রতিকারে আমাদের সকলেরই এগিয়ে আসা উচিত। প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে চেষ্টা করা উচিত।

কিন্তু তা না করে ব্যক্তিগত আক্রোশ মেটানোর মতো করে পুরা শিক্ষা ব্যবস্থা,বোর্ডে, দল ও সংগঠনের বিরুদ্ধে স্ট্যাটাস দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

কেউ কেউ ওলামায়ে কেরামের অবস্থান জানতে চাচ্ছেন, আবার কেউ কেউ একটু আগ বাড়িয়ে ওলামায়ে কেরাম এসব বিষয়ে চুপ থাকেন এমন মিথ্যা অভিযোগ করছে।

লাগামহীন শব্দে অভিযোগ আনয়ন কারীদের কেউ কেউ মাদ্রাসাতে কিছু পড়াশোনা করে এখন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন।

তাদেরকে বলব,আপনাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সংঘটিত বিভিন্ন কেলেংকারি নিয়ে আগে কিছু করে দেখান। কি করতে হয়, কিভাবে করতে হয়‌। তারপর না হয় আমাদের বলতে আইসেন।

ওলামায়ে কেরাম এসব বিষয়ে সব সময়ই সচেতনতা মূলক কথা বলেন,বক্তব্য দেন। নিজেদের সাথে সম্পর্ক রাখেন এমন দায়িত্বশীলদেরকে সচেতন করেন।

মহিলা মাদ্রাসা বিষয়ে এ দেশের সর্বজন শ্রদ্ধেয় মুফতি সাহেবগণ সবসময়ই সর্তকতা অবলম্বন করে ফাতওয়া দিয়েছেন । আবাসিক পদ্ধতি বন্ধ এবং অনাবাসিক পদ্ধতি চালু করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে। বিভিন্ন লিখনিতে এবং ফাতওয়ায়ে বেশ কঠোর শর্ত জুড়ে দিয়েছেন।

এমন কি নারীদের নিরাপত্তা ও অন্যান্য দিক বিবেচনা করে মসজিদে যাওয়ার মত একটি আবেগ পূর্ণ বিষয়েও বিরত থাকতে অনুরোধ করে থাকেন অনুৎসাহিত করে থাকে ক্ষেত্রবিশেষ কেউ কেউ নিষেধ ও করেছেন।

অবশ্য এজন্য তাদেরকে বেশ কটু মন্তব্য শুনতে হয়েছে, শুনতে হয়।

নারী বিদ্বেষী, নারী শিক্ষা বিরোধী,পশ্চাৎপদ, বাস্তবতা বিবর্জিত ফতোয়া দাতা! আরো কত কি?

সারকথা হলো,নারী শিক্ষা,সংস্কৃতি ও শিল্পচর্চা এবং ইবাদত কোনোটা করতে বাধা নেই, নিষেধ নেই। কিন্তু এক্ষেত্রে শরীয়তের সর্বোচ্চ প্রতিপালন জরুরি। ওলামায়ে কেরামের বেঁধে দেয়া নিয়ম নীতি মেনে নেয়া আবশ্যক। তা না করে লাগামহীন শিক্ষা ব্যবস্থা চালু ও শিল্পচর্চা হতে থাকলে আগামীতে আমাদের কে আরও মারাত্মক বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হতে পারে।
আল্লাহ তা’আলা আমাদের সবাইকে হেফাজত করুন।