বিশ্বজুড়ে করোনায় আক্রান্ত কোটি ছাড়াল, মৃত্যু প্রায় ৫ লাখ

একুশে জার্নাল

একুশে জার্নাল

জুন ২৮ ২০২০, ১৭:২২

আবির আবরার: করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর সাত মাসের মাথায় বিশ্বে এ ভাইরাসে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা এক কোটি ছাড়িয়ে গেল আর মৃত্যুর সংখ্যাও পৌঁছে গেছে পাঁচ লাখের কাছাকাছি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বরাত দিয়ে রয়টার্স লিখেছে, প্রতিবছর বিশ্বে যত লোক মারাত্মক ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত হয়, সাত মাসে মোটামুটি তার দ্বিগুণ মানুষকে সংক্রমিত করেছে নতুন করোনাভাইরাস আর করোনাভাইরাসে এ পর্যন্ত যত মানুষের মৃত্যু হয়েছে, তা এক বছরে ইনফ্লুয়েঞ্জায় মৃত্যুর প্রায় সমান।

জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাত্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় রোববার বিকালে সাড়ে ৪টায় বিশ্বে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১ কোটি ১ হাজার ৫২৭ জন। আর মোট মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৯৯ হাজার ১২৪ জন।

বিভিন্ন দেশের প্রকাশ করা সরকারি তথ্যের বরাতে রয়টার্সের খবরে বলা হয়, বিশ্বে এ পর্যন্ত যত রোগী শনাক্ত হয়েছে, তার ২৫ শতাংশ করে হয়েছে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা এবং ইউরোপে। এছাড়া ১১ শতাংশ রোগী এশিয়ার এবং ৯ শতাংশ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর।

একক দেশ হিসেবে সবচেয়ে বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে ২৫ লাখ ১০ হাজারের বেশি মানুষের দেহে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে।

বিধিনিষেধের মধ্যে মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রে সংক্রমণের গতি কিছুটা কমে এলেও লকডাউন তুলে দেওয়ার পর এখন তা আবার বাড়ছে। আগে যেসব এলাকা সংক্রমণের বাইরে ছিল, এখন সেসব এলাকাতেও ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ার খবর আসছে।

এছাড়া ব্রাজিলে ১৩ লাখ ১৩ হাজার, রাশিয়ায় ৬ লাখ ৩৩ হাজার, ভারতে ৫ লাখ ২৮ হাজার, যুক্তরাজ্যে ৩ লাখ ১১ হাজার কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হওয়ার তথ্য দেওয়া হয়েছে সরকারিভাবে।

মৃত্যুর সংখ্যাতেও বিশ্বে সবার চেয়ে এগিয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্র, সেখানে এক লাখ ২৫ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর পরেই রয়েছে ব্রজিল, সেখানে সরকারের নথিতে এসেছে ৫৭ হাজার মানুষের মৃত্যুর তথ্য। এছাড়া যুক্তরাজ্যে ৪৩ হাজারের বেশি ও ইতালিতে ৩৪ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
অনেক দেশে করোনাভাইরাস পরীক্ষার ঘাটতি থাকায় এবং কোনো কোনো দেশ হাসপাতালের বাইরে মারা যাওয়া ব্যক্তিরা হিসাবের মধ্যে না আনায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা অনেক বেশি বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে নতুন ধরনের এই করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মানবদেহে ধরা পড়ে; খুব দ্রুত বাড়তে থাকে আক্রান্তের সংখ্যা। পরে এ ভাইরাসের নাম দেওয়া হয় নভেল বা নতুন করোনাভাইরাস। আর এ ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট রোগের নাম দেওয়া হয় কোভিড-১৯।