বাড়ি ভাড়ায় অতিষ্ঠ রাজধানীর সাধারন মানুষ

একুশে জার্নাল

একুশে জার্নাল

এপ্রিল ১৫ ২০১৯, ২১:৪৩

মাহবুব হুসাইনঃ একটি স্বায়িত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের মসজিদের ইমাম কাজী আব্দুর রহমান। তার মাসিক বেতন ১৮ হাজার টাকা,বসবাস করেন রাজধানীর মগবাজারের একটি ভাড়া বাসায়।প্রতিমাসে তাকে ভাড়া দিতে হয় প্রায় সাড়ে ৯ হাজার টাকা। এছাড়া গ্যাস,পানি,বিদ্যুৎসহ আনুসঙ্গিক বিল রয়েছে্।অর্থাৎ সব মিলিয়ে তার বেতনের অর্ধেকের বেশি অংশ মাসের শুরুতে বাড়ি ভাড়া বাবদ বাসা মালিকের হাতে তুলে দিতে হয়্। এ সমস্যা শুধু আব্দুর রহমানের নয়, রাজধানীতে বসবাসকারী বেশিরভাগ ভাড়াটিয়াদের মাসের শুরুতে বেতনের বা আয়ের সিংহভাগ বাসা মালিকদের হাতে তুলে দিতে হয়।

লাগামহীন বাড়ার কারনে বিপর্যস্ত নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ। কর্মসংস্থানের সিংহভাগ ঢাকা কেন্দ্রিক হওয়ায় সাধারন মানুষ প্রতিনিয়ত কাজের সন্ধানে রাজধানীমুখী হচ্ছেন। প্রতিদিনই কর্মসংস্থান বা ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় ঢাকায় আসছেন মানুষ। আর এসব মানুষের প্রায় ৮০শতাংশ ঢাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। ফলে বাসার চাহিদা থাকায় নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই বাড়িওয়ালারা তাদের মন মত ভাড়ার বোঝা চাপিয়ে দেন ভাড়াটিয়াদের কাধে। কোথাও যেন জবাবদিহিতা নেই।

 

ইংরেজি বছর শেষে নতুন বছর শুরু হয়েছে। বছর শেষে হওয়া সাথে সাথে বাড়িওয়ালারাও বাড়িয়ে দিয়েছেন তাদের বাসা ভাড়া। লাগামহীন বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধিতে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন রাজাধানী ঢাকার সাধারন মানুষ।নিম্নবিত্ত থেকে উচ্চ মধ্যবিত্ত সবাই বাড়ি ভাড়ার এ পাগলা ঘোড়ার কাছে অসহায়।

রাজধানীর মধ্যবাড্ডায় দুই রুমের একটি বাসায় পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকেন বেসরকারী চাকরিজীবী ফারুক আহমেদ। তিনি বলেন,মাসের বেতন যা পাই তার অর্ধেকের বেশি মাসের শুরুতেই বাসা মালিকের হাতে তুলে দিতে হয়। প্রতি বছরেই ভাড়া বেড়ে চলছে। রাজধানীতে প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ ভাড়া বাসায় বসবাস করেন,কিন্তু অল্প সংখ্যক বাসা মালিকের কাছে তারা জিম্মি। তিনি আরও বলেন, আমার মত একজন সাধারন মানুষ প্রায় ৩০ হাজার টাকা পাই। যার মধ্যে বাসা ভাড়া ১৪ হাজার আর গ্যাস,পানি,বিদ্যুৎ বিল মিলে ১৬ হাজার টাকা পড়ে। বাকি ১৪ হাজার টাকা দিয়ে সংসার চালাতে হয়। যার মধ্যে খাওয়া-দাওয়া, সন্তানের পড়ালেখার খরচ,চিকিৎসা সবই করতে হয়। সরকারের উচিত এ বিশাল সংখ্যক মানুষের কথা বিবেচনা করে বাসা ভাড়া আইন সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ বিষয়ক সংগঠন কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের(ক্যাব)একটি সমীক্ষা থেকে জানা যায়,২৫ বছরে রাজধানীতে বাড়ি ভাড়া বেড়েছে প্রায় ৪শ” শতাংশ। একই সময় নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে ২শ” শতাংশ। অর্থাৎ নিত্যপণ্যের দামের তুলনায় বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধির হার প্রায় দ্বিগুন।এ বিষয়ে ভাড়াটিয়া পরিষদের সভাপতি বাহরানে সুলতান বাহার বলেন, রাজধানীতে লাগামহীনভাবে বাসা ভাড়া বৃদ্ধি রোধে প্রয়োজন আইনের সঠিক প্রয়োগ। প্রতি বছরেই ভাড়া বৃদ্ধি করে চলছে বাসার মালিকরা। তাদের আচরনের কাছে অসহায় হয়ে আছেন ভাড়াটিয়ারা। এমন সমস্যা সমাধানে আইন ও বিধি যথোপযোগী করে তার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।