বালাগঞ্জে পোকার আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত বোরো বীজতলা: কৃষকদের মধ্যে হতাশা

একুশে জার্নাল

একুশে জার্নাল

ডিসেম্বর ১৩ ২০২০, ২১:৫৩

আবুল কাশেম অফিক, বালাগঞ্জ:

সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন হাওরে বোরো বীজতলায় কালো জাতিয় পোকা প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় শত শত একর জমির চারা নিঃশেষ হয়ে গেছে। এ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। তারা পোকা দমনে জরুরী ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় চলতি মৌসুমে বোরো আবাদ ব্যাপক হারে কমে যাবার আশঙ্কা রয়েছে। অবশ্য সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তারা পোকা দমনে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে চলতি মৌসুমে সরকারি ভাবে উপজেলায় প্রায় ৪৫০একর জমিতে বোরোধানের চারা রোপণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেকের চেয়ে বেশিই বীজতলা পোকার আক্রমণে নষ্ট হওয়ার পথে।

সরেজমিন পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্টদের সাথে আলাপকালে জানা গেছে, বালাগঞ্জ উপজেলার প্রায় প্রতিটি হাওরে বীজতলায় বোরো চারায় কালো জাতিয় পোকার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে শত শত একর জমির চারা প্রায় সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেছে। বালাগঞ্জ উপজেলার নলুয়া,মইছিড়ি, মাইজাইল হাওর, চাতল হাওর, পাটাচাতল, গোরাপুর হাওরসহ বিভিন্ন হাওরের অনেক বীজতলা বিরানভূমি হয়ে পড়েছে। এসব হাওরের অনেক কৃষকেরক নিরুপায় আবার নতুন করে বীজ বুনছেন। অথচ সাপ্তাহ খানেকের মধ্যেই পুরোদমে চারা রোপণ শুরু হবার কথা ছিল। কৃষকরা জানিয়েছেন, অচেনা পোকার আক্রমণে তাদের বীজতলা চারাশূণ্য হয়ে পড়ায় নতুন করে বীজবপন করতে হচ্ছে। এতে আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াও রোপণ প্রায় এক মাস পিছিয়ে পড়ছে। এরপরও বীজ সংকটের পাশাপাশি পুনরায় পোকার আক্রমণের আশঙ্কাও উঠিয়ে দেয়া যাচ্ছে না। সব মিলিয়ে কৃষকদের মধ্যে তীব্র হতাশা বিরাজ করছে।

এব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সুমন মিয়া সত্যতা স্বীকার করে তিনি বলেন এ পোকার আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনরায় বীজবপণের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এছাড়া পোকা দমনে মাঠ পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি নিজেও বালাগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন হাওর পরিদর্শন করে কৃষকদের দিগনির্দেশনা ও কীটনাশক ব্যাবহারের পরামর্শ দিয়েছেন।

কিন্তু বাস্তবে বালাগঞ্জ উপজেলা সদরের ৪নং ওয়ার্ডের মেম্বার আহমদ আলী, স্থানীয় কৃষক মাও. আব্দুস সহিদ,ছমচু মিয়া, কনর মিয়া, সুরুক আলী,রফিক মিয়া সহ অন্যান্যদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে তাদের হাওরসমুহের বীজতলার চারা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক বীজতলার চারা নিঃশেষ হয়ে গেছে। তারা সহ স্থানীয় কৃষকরা পুনরায় বীজ রোপণ করছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত স্থানীয় কৃষি অফিস থেকে বীজতলা পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।