বাঙালি কি স্বভাবগতভাবেই ডাকাত?

একুশে জার্নাল ডটকম

একুশে জার্নাল ডটকম

মার্চ ২২ ২০২০, ২১:৩৭

•জুবের আহমদ•

আমরা জাতি হিসাবে স্বভাবগতভাবেই কি ডাকাত? মানুষের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে যারা টাকা কামায় তারা কী? আমি তাকে ডাকাত‌ই বলবো। ডাকাত বলবো এ কারণে যে, বাংলাদেশে আপনি যদি অসুস্থ হয়ে ডাক্তারের শরণাপন্ন হন তাহলে ডাক্তার আপনার হাতে ধরিয়ে দিবে একগাদা টেস্ট। আপনার অসুস্থতা যতই হাল্কা হোক না কেনো, টেস্ট আপনাকে করতেই হবে। এই টেস্ট কিন্তু আপনার উপকারের জন্য নয়, তাদের পকেট ভারি করার জন্য। ওরা চিন্তাও করবে না যে , আপনার সেই টেস্ট করানোর মতো সামর্থ্য আছে কি নেই? টেস্ট করানোর পর যে ঔষধগুলো লিখে দিবে, সেই ঔষধগুলোও নির্দিষ্ট কোম্পানির। যদিও সেই কোম্পানির ঔষধ নিম্ন মানের হোক না কেন! এখানে আপনার স্বাস্থ্য ওদের কাছে বিবেচ্য বিষয় নয়, বিবেচ্য বিষয় হচ্ছে টাকা।

আপনি যদি আপনার বোন, ভাগিনি কিংবা স্ত্রীকে ডেলিভারির জন্য কোনো প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করান, তখন বুঝতে পারবেন কি পরিমাণ মানসিক চাপ তারা আপনার উপর তৈরি করে। নরমাল ডেলিভারি খুব‌ই সম্ভব হলেও বলবে বাচ্চার পজিশন ভালো নয়, অপারেশন করতে হবে। একবারের জন্যও চিন্তা করবে না রোগীর আজীবন শারীরিক অবস্থার কথা। তাদের চিন্তা করার টাইম‌ই নেই। তাদের চাই টাকা আর টাকা। এদেরকে আপনি কি বলবেন, ডাক্তার নাকি ডাকাত? তবে হ্যাঁ! সব ডাক্তার একরকম নয়। সব বিষয়ের মতোই এখানেও কিছু ব্যতিক্রম থাকাটাই স্বাভাবিক।

এবার আসুন ইংল্যান্ডে। ইংল্যান্ডে যারা অবৈধভাবে আছেন কিংবা কোনো কারণে অসহায় হয়ে বাঙ্গালি সলিসিটারের কাছে গিয়েছেন তারা জানেন সলিসিটার কি জিনিস। এক একটি সাধারণ কাজের জন্য তারা কি পরিমাণ চার্জ করে! সহজ কাজকে হাইকোর্ট সুপ্রিম কোর্ট দেখিয়ে আপনার গলা কাটবে। ফাইল রিসিভ করবে, পয়সা এডভান্সড দিবেন, তারপর কথা বলার সময়‌ই পাবেন না! দিনের পর দিন ফাইল পড়ে থাকবে। প্রত্যেক ভিজিটে টাকা দিবেন তো ফাইল নড়বে, নতুবা পড়েই থাকবে! এইসব বাঙালি সলিসিটারকে আপনি কি বলবেন? পেশাদার না কি ডাকাত ? তবে সবাই একরকম নয়।

এবার আসুন বাঙালি গ্রোসারি শপগুলিতে। করোনা ভাইরাস যখন দরজায় কড়া নাড়লো, সাথে সাথে জিনিসপত্রের দাম ওরা বাড়িয়ে দিলো। তাও সহনশীল মাত্রায় নয়, অতিমাত্রায়! করোনা ভাইরাসে শুধু ইংল্যান্ডে নয়, সাড়া ইউরোপে বাঙালি মালিকানাধীন প্রায় প্রত্যেকটি দোকানে জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়েছে! পক্ষান্তরে ইংলিশ কিংবা পর্তুগীজ শপগুলিতে দাম বাড়ায়নি, উল্টো ছাড় দিয়ে বিক্রি করেছে!‌ এইসব বাঙালি গ্রোসারি শপ মালিকদের আপনি কি বলবেন? ব্যবসায়ী না ডাকাত? তবে হ্যাঁ, সব বাঙালি ব্যবসায়ী ডাকাত নয়।

এবার আসুন, আমরা যারা ক্রেতা, যাদের টাকা আছে, তারা কি করলাম? টাকার জোরে একসাথে সবকিছু কিনে স্টক করে ফেললাম। একবারের জন্যও আরেকজন ভাইয়ের কথা চিন্তা করলাম না। অনেকেই টাকার জোরে প্রয়োজনের চেয়েও অনেক কিছু বেশি কিনেছেন। স্টক করে বাজারে জিনিসের চাহিদা বাড়িয়েছেন। সেই সুযোগে ব্যবসায়িরা মানুষের গলা কেটেছে। আপনি তাদের সহযোগী, আপনিও ডাকাত।

ডাকাতি আমাদের স্বভাবগত। লোভ আমাদের মজ্জাগত। কাকে দোষ দেবেন! কয়জনকে দুষবেন! বাংলাদেশের কোন সেক্টরে ডাকাতি হচ্ছে না? কে ডাকাতি করছে না? যে যখন সুযোগ পাচ্ছে মানুষের গলা কাটছে। দেশে কিংবা বিদেশে। এই ডাকাতির স্বভাব আমাদের কখনও যাবে না যদি আমরা মানুষের কষ্টের কথা চিন্তা না করি। আমরা যদি মানুষের অসহায়ত্বের কথা ভেবে, তার পকেট না কেটে, সহযোগী হ‌ই, সহমর্মী হ‌ই, তবেই কেবল আমরা মানবতাবাদী জাতি হতে পারব। অন্যথায় এ জাতির বদনাম আর কখনও ঘুচবে না।

লেখক: জুবের আহমদ , পর্তুগাল প্রবাসী।