বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইসলামের জাগরণের নেপথ্যে

একুশে জার্নাল

একুশে জার্নাল

ডিসেম্বর ২৮ ২০২০, ১১:০০

১. গতরাতে বাংলাদেশে ইসলামি আন্দোলন বা জিহাদি আন্দোলন নিয়ে শাহরিয়ার কবির প্রযোজিত ডকুমেন্টারি ‘portrait of jihad’ (জিহাদের প্রতিকৃতি) দেখলাম৷ যেটার কথা শাহরিয়ার কবির আব্বাসী সাহেবের সাথে তার টকশোতে বারবার উল্লেখ করছিলো৷ রাজনৈতিক, অরাজনৈতিক নির্বিশেষে সকল ইসলামী ঘরানার চিন্তাশীল এবং গবেষক দর্শকদের জন্য তাতে নেয়ার মত, ভাবার মত অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান আছে৷ টুকে রাখার মত অনেক তথ্য আছে৷

২. আজ সকালে হলি আর্টিযানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠিত ৭১ টিভির একটি পুরনো টকশো দেখলাম৷ এতে অংশ নিয়েছিল সুলতানা কামাল, শাহরিয়ার কবির এবং স্যার সলিমুল্লাহ খান৷ শেষোক্ত এই দু’জনের একসাথে কোন টকশোতে বসা মানেই সেখানে মজার কিছু থাকবে৷ যাইহোক, তাদের যৌথ আলাপের মধ্য দিয়ে এদেশের সমাজ ও রাজনীতিতে ইসলামের প্রভাব সম্পর্কে চমৎকার কয়েকটি সূত্র বেরিয়ে এলো৷ আশাজাগানিয়া বটে!

১. ব্রিটিশ আমল পরবর্তী জমিদার আমলে হিন্দু জমিদারদের জুলুম, শোষণ আর অবিচারের কারণে এদেশের মুসলমানরা ব্যাপকহারে পাকিস্তান আন্দোলনে যোগ দিয়েছিল৷ যার ফলে ১৯৪৭ এ ইসলামের ভিত্তিতে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা হয়৷

২. পরবর্তীতে পাকিস্তানী সেনা ও আমলাদের জুলুম নিপীড়নের কারণে বাংলার জনগণ ফের বাঙালি জাতীয়তাবাদের দিকে ঝুঁকে পড়ে, ফলশ্রুতিতে ৭১ এর স্বাধীনতা সংগ্রাম ও বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা৷

৩. দেশ স্বাধীনের পর ৭২ এ সেক্যুলার সংবিধান রচিত হয়৷ এবং তা কার্যকর করার ফলে দেশে ধর্মীয় রাজনীতির সকল পথ সাময়িকভাবে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে৷ ৭৫ পর্যন্ত তা চলে৷

৪. ৭৫ পরবর্তীকালে জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির দুয়ার পুনরায় উন্মুক্ত করে দেন৷ ফলে রাতারাতি দেশে দুয়েক বছরের মাথায় অর্ধশত ইসলামী রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটে৷ আশি থেকে নব্বই পর্যন্ত সময়টা এদেশের ইসলামি রাজনীতির যৌবনকাল বা স্বর্ণযুগ বলা যায়৷ এ সময়ে আরববিশ্বের সাথে এদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক খুব জোরদার হয়ে ওঠে৷

৫. এ সম্পর্কের ফলে আরববিশ্বের বাংলাদেশী প্রবাসিরা সেখানকার ধর্মীয় আচার ও রীতিনীতি দ্বারা ভীষণনভাবে প্রভাবিত হয়৷ কাজেই তারা সেখান থেকে দেশে ফেরার সময় শুধু আরবের পেট্রোডলারই নয়, বরং সেখানের ধর্মীয় সংস্কৃতি ও চেতনা-মানসিকতাও সাথে করে নিয়ে আসেন৷ সুতরাং এ পথেও এদেশের জনগণের মাঝে বাঙালি চেতনা ছাপিয়ে ইসলামি চেতনার প্রভাব বেড়েছে বলে তারা মনে করে৷

৬. দেশের কবি সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবী শ্রেণী অতিমাত্রায় পশ্চিমা সংস্কৃতিমনা হয়ে ওঠায় তাদের আলাপ আলোচনা ও সাহিত্যে একচেটিয়া উগ্র পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রতিফলন ঘটতে থাকে৷ তাতে এ দেশের সাধারণ ধর্মীয় সংস্কৃতির প্রতি তাচ্ছিল্য ও বিষোদগার প্রকাশ পেতে থাকে৷ যা এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ সাধারণ মানুষ ভালভাবে নেয় নি৷ এক কথায় বুদ্ধিজীবী শ্রেণী এদেশের সাধারণ জনগণের মনের ভাষা এবং তাদের আবেগ অনুভূতি বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে৷ ফলে তাদের সাথে সাধারণ জনগণের মনের দূরত্ব দিন দিন বেড়েছে৷ এতে করে তাদের সাংস্কৃতিক আন্দোলন আর সফলতার মুখ দেখে নি৷

৭. ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলগুলো ধর্মীয় প্রতিবাদী শক্তিগুলোকে বারবার নিস্তব্ধ করে দিতে চাইলেও মাঠপর্যায়ে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা ও ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার স্বার্থে বারবারই তাদের সাথে আপোষ করতে বাধ্য হয়েছে৷

লেখক পরিচিতি: আবু ইয়াহ‌ইয়া উসামা সিরাজ, শিক্ষক: আরবি ভাষা ও সাহিত্য, জামিয়া আল-ইহসান, শনির আখড়া, ঢাকা