প্রকৃত সুখ

একুশে জার্নাল

একুশে জার্নাল

নভেম্বর ২২ ২০১৮, ১৭:১৫

হাবীব আনওয়ার

‘সুখ’ ছোট্ট একটি শব্দ। অথচ এই সুখ নিয়ে মানুষের কত জল্পনা-কল্পনা! একটু সুখের আশায় মানুষ কত কিছুই না করে। দেশ থেকে দেশান্তরে ছুটে চলছে বিরামহীনভাবে। এক চিলতে সুখের আশায় পাড়ি দেয় প্রবাস বাড়িতে।
সুখের আশা সবাই করে। এমনকি সুখের জন্যে মানুষ মানুষকে হত্যা পর্যন্ত করে!

একজন রিকশা চালক, একটু সুখের জন্য ঘুরছে ব্যস্তময় শহরের অলিগলি। প্রখর রোদে লাঙ্গল কাধে কৃষক ছুটছে জমিনের দিকে।কামার আগুন নিয়ে ব্যস্ত শুধু সুখের জন্য। একজন ডাকাত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাতের আঁধারে ধারালো অস্ত্রহাতে উৎ পেতে থাকে শুধু একটু সুখের জন্য। একজন ছাত্র রাত জেগে টেবিলে উবু হয়ে বসে থাকে সুখের জন্যে। চাকরী প্রত্যাশী ছেলেটি সুখের জন্য বসের দরজায় ঘুরতে ঘুরতে জুতোর তলা ক্ষয় করছে! কারণ, সুখ ছাড়া যে জীবনটাই বিষাদ হয়ে যায়।
মাছের জীবন যেমন পানি ছাড়া মূল্যহীন, তেমনি একজন মানুষের জীবনও সুখ ছাড়া মূল্যহীন! তাইতো সুখের জন্য এত কিছু, এত কষ্ট, এত যাতনা সহ্য করা —তারপরও কেনো মানুষ সুখের দেখা পায়না! কখনো সুখের বস্তুটাই অসুখের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু কেন?!

আমার ছোট্ট জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে বুঝতে পেরেছি, ‘সুখ’ খোঁজা হচ্ছে বে-জায়গায়! অনেকটা ভিন্ন পথে, ভিন্ন মতে!!

প্রশ্ন হতে পারে, প্রকৃত সুখ, প্রতিক্ষিত সুখ পাবো কোথায়??
মহান আল্লাহ তাআলা উত্তরে বলছেন, ভালো করে বুঝে লও,আল্লাহ তাআলার যিকির দ্বারায় আন্তরসমূহ শান্ত হয়ে থাকে| সূরা রা’দ আয়াত…?

পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে,আল্লাহ তায়ালার যিকির দ্বারাই অর্জন হয় হ্নদয়ের প্রকৃত সুখ ও শান্তি!

আর রাসূল ছা. বলেন, তোমাদের কি বলে দিব না, দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ কিসে?আর তা হলো, আল্লাহর যিকিরে নিজের জিহ্বাহকে নাড়াতে থাকা। (মিশকাত শরীফ হাদীছ…?)

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, হুজুর ছা.বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর যিকির অধিক পরিমাণে করে সে মুনাফেকি হতে মুক্ত।
অথচ আমরা ছুটছি দুনিয়ার নিকৃষ্ট পদ্ধতির দিকে! সৃষ্টকর্তাকে ভুলে সুখ চাচ্ছি সৃষ্টের কাছে!!
টাকা পয়সা,বাড়ি-গাড়ি, ধন-দৌলতকে সুখের উপকরণ ভেবে বসে আছি। কিন্তু টাকা-পয়সা আর বড় বড় ইমারতে যে সুখ নেই তা কখনো চিন্তা করিনা। টাকা দিয়ে সুখের বস্তু কেনা যায় তবে সুখ কেনা যায় না। প্রকৃত সুখ যে হ্নদয়ের প্রশান্তির মাঝে লুকিয়ে তা আমরা আজ মনতে নারাজ!!

কথিত আছে, এক রাজা তার সৈন্যবাহিনী নিয়ে কোথাও যাচ্ছিল| হঠাৎ বাদশার নজর কাড়লো রাস্তার পাশে বসে জুতো সেলাই করছে এক মুচি! জীর্ণ শরীর শীর্ণ মুচি দেখে বাদশার হ্নদয়ে দরদ উতলে উঠলো! বাহন থেকে নেমে ধীর পায়ে এগিয়ে গেলেন|পঞ্চাশ হাজার স্বর্ণ মুদ্রার একটি থলে তুলে দিলেন মুচির হাতে! কিন্তু বেচারা মুচি পড়লেন মহা মুশকিলে! এগুলো রাখবে কোথায়— সেই দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলো! বাড়ি ফিরলো কিন্তু না, তার টেনশন কোনভাবেই দূর হচ্ছে না| আবার ঘুমানোর সাহসও পাচ্ছে না; কখন জানি ডাকাত এসে হামলে পরে! আর নিঃশেষ করে দেয় জীবন প্রদীপ!
এপাশ ওপাশ করে নির্ঘুম রাত কাটালো। সকাল সকাল হাজির হলেন রাজার দরবারে। ফিরিয়ে দিলেন রাজার দেওয়া স্বর্ণ মুদ্রা!! অবাক হয়ে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকালেন রাজা।
উত্তরে মুচি বললো, এই স্বর্ণ মুদ্রা আমার রাতের ঘুমকে হারাম করে দিয়েছে! এই স্বর্ণ মুদ্রার চেয়ে আমার কাছে প্রতিদিনের এক-দুই দেরহাম রোজগার অনেক ভালো| আর কিছু না হোক; রাতে আরামে একটু ঘুম হয়; যা আমার কাছে আপনার দেওয়া স্বর্ণ মুদ্রা থেকে উত্তম!

এই ঘটনার থেকে স্পষ্ট প্রতিয়মান হয় যে,টাকা পয়সা কখনো মানুষকে প্রকৃত সুখ দিতে পারে না।
আমাদের চারপাশে যদি চোখ ফেরালে দেখতে পাই, কোটি-কোটি টাকার মালিক অথচ অশান্তির ঘোর অন্ধকার তাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে! আদুরে ছেলে মাতাল হয়ে পড়ে আছে মদ,গাজা খেয়ে| মেয়ে ঘুরছে প্রেমিকের হাত ধরে! আর বিশ্বাসের বাতিঘর স্ত্রীও জড়িত পরকীয়া- প্রেমে! অশান্তির আগুনে দগ্ধ হচ্ছে প্রতিক্ষণে! কিন্তু পাশের বাসার দিনমুজুর লোকটি খেয়ে না খেয়ে আছে মহাসুখে! জীবন যাপন করছে ছবর আর শোকরের সাথে|
প্রকৃত সুখ একমাত্র অন্তরের সুখ। আর অন্তরের সুখ আসে আল্লাহর যিকিরে। সৃষ্টির সেবায়। মানবতার কল্যাণকামিতায়। তাই আসুন…!

লেখক: শিক্ষার্থী মেখল মাদরাসা,হাটহাজারী,চট্টগ্রাম।