পেঁয়াজ-আলু ৪ গুণ দামে বিক্রি, পৌনে ৫১ লাখ টাকা জরিমানা

১৭ মার্চ প্রতি কেজি পেঁয়াজ কৃষকদের কাছ থেকে ব্যবসায়ীরা কিনেছিলেন ১৭ থেকে ১৮ টাকায়। আর আলু বেচেছিলেন ৬ থেকে ৭ টাকায়। চার দিনের মাথায় আজ শনিবার একই পেঁয়াজ তাঁরা ৬৫ ও আলু ২৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছিলেন। ভোরে যাত্রাবাড়ী বড় বাজার আড়তে অভিযান চালিয়ে এমন তথ্য পেলেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। হাতেনাতে ও নথিতে প্রমাণ পাওয়া ৩২ জন ব্যবসায়ীকে ৩০ লাখ টাকা জরিমানা করলেন তাঁরা।

আর ৬ বছর আগের আমদানি করা মাছ এখনো মজুত করে রাখায় একটি হিমাগারের মালিকদের ২০ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন তাঁরা।

আজ শনিবার ভোর ছয়টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলমের নেতৃত্বে অভিযানটি চলে।

যাত্রাবাড়ীতে অভিযান চালানোর সময়ে ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজের দাম কমিয়ে মান ভেদে ৩২ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি করা শুরু করেন। আর আলুর দামও কমিয়ে ১২ থেকে ১৪ টাকায় নামিয়ে আনেন। পরে পুরান ঢাকার শ্যামবাজারে যান র‌্যাবের সদস্যরা। সেখানে অভিযানের খবর পেয়ে ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজ ও আলুর দাম কমিয়ে ৩৫ টাকা ও ১৪ টাকায় নামিয়ে আনেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম মিডিয়াকে বলেন, ‘আমরা যাত্রাবাড়ীর ওই আড়তের মালিকদের পেঁয়াজ ও আলুর ক্রয় ও বিক্রয়ের রসিদ পরীক্ষা করি। সেখানে দেখা গেছে তাঁরা যে দামে ওই দুটি পণ্য কিনেছেন তার চেয়ে তিন থেকে চার গুণ দামে বিক্রি করছেন।

ধারাবাহিকভাবে ঢাকার অন্যান্য বাজারেও এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে বলে তিনি জানান।

র‌্যাবের অভিযানে যাত্রাবাড়ীর আরশাদ বরফকল ও হিমাগারে অভিযান চালানো হয়। সেখানে বিদেশ থেকে আমদানি করা ছয় বছরের পুরোনো মাছের বিশাল মজুত পায় র‌্যাব। এসব মাছের বেশির ভাগই নষ্ট হয়ে গেছে। সেখান থেকে দুর্গন্ধ বেরোচ্ছিল ও বরফ দিয়ে সেগুলো সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। ওই অপরাধে হিমাগারের ব্যবস্থাপক উত্তম কুমার সাহা, আল মামুন, প্রদীপ চক্রবর্তী ও মো. ইউসুফকে ২০ লাখ টাকা জরিমানা করেন।

অন্যদিকে ৩২ জন আড়তদারের বেশির ভাগের আলু ও পেঁয়াজ কেনা–বেচার নথি পরীক্ষা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সেখানে দেখা যায়, তাঁরা ১৭ মার্চ প্রতি কেজি পেঁয়াজ ২৮ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছেন। আর আলু বিক্রি করেছেন ১০ থেকে ১২ টাকা কেজি দরে। পরের দিন ১৮ মার্চ পেঁয়াজের কেজি তাঁরা বাড়িয়ে ৩৫ টাকা, এর পরের দিন ৫০ টাকা ও ২১ মার্চ তা ৬৫ টাকা করে বিক্রি করেন।

র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম এ বিষয়ে এক আবেগঘন পোস্ট করেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের নিজস্ব আইডিতে। তার সেই স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

“ভাবতেই কষ্ট হয় তিন দিন আগেও প্রতি কেজি পেয়াঁজ পাইকারি বিক্রি হয়েছে ২৮-৩১ টাকা সেটা কোন কারণ ছাড়াই গতকাল বিক্রি করেছে ৬৫-৭০ টাকা। আর খুচরা বাজারে ৮০-৮৫ টাকা। ১২-১৪ টাকা কেজি দরে পাইকারি বিক্রি হত আলু, সেটা করে ফেলল ২৫-৩০ টাকা। আজ সকালে যখন যাত্রাবাড়ি আড়তে ক্রেতা সেজে ইউনির্ফম ছাড়া ফোর্স নিয়ে প্রবেশ করলাম তখনো দেখলাম গতকালের চিত্র। কিন্তু যখনই বুঝল মোবাইল কোর্ট আসছে তখনই পেয়াঁজ হল ৩৫-৪০ টাকা আর আল হলো ১৪-১৬ টাকা কেজি।

অতিরিক্ত মূল্যে পেঁয়াজ ও আলু বিক্রয় করায় যাত্রাবাড়ীর ৩১ টি আড়তকে এবং আমদানীকৃত মেয়াদোত্তীর্ণ মাছ মজুদ করায় একটি হিমাগারকে মোট ৫০ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং ৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দিয়েছে RAB -10 এর সহযোগিতায় পরিচালিত ভ্রাম্যমান আদালত।”