পুরুষ ছাড়া নারী কেন হতভাগিনীর মতো হয়ে যায়?

একুশে জার্নাল

একুশে জার্নাল

নভেম্বর ০৮ ২০১৯, ০৬:৫৮

মনযূরুল হক

রাস্তায় এক নারীকে দেখি চিৎকার করে কাঁদছে— ভাই, আমার স্বামী অসুস্থ। গাল বেয়ে অশ্রুর একটা সরু ধারা গড়িয়ে পড়ছে। কেউ তেমন ভ্রুক্ষেপ করছে না। জটলাও নেই। ভিক্ষুকই হবে। দুয়েকজন সিকি-আধুলি গড়িয়ে দিচ্ছে।

আজকাল হঠাৎ হঠাৎ কমবয়সী মেয়েরা বিধবা হয়ে যাচ্ছে। ডিভোর্সি তো আছেই, যখন তখন স্বামী মারা গিয়েও অসহায়ত্বের মুখে পড়ছে তারা। পরিচিতদের মধ্যে যেদিকে কান পাতি, শুনি ভাঙনের সুর।

ছেলেবেলায় দেখেছি, রাতে বাবা বাড়িতে না-থাকলে মায়ের চেহারা শঙ্কায় ভরে থাকতো। দু-ভাইবোনকে দুই পাশে নিয়ে ঘুমাতেন। আমাদেরও কেমন ভয় ভয় করত। সকালে স্কুলে পাঠাতে গিয়ে মা একটু বেশিই যত্ন করতেন। খুব করে বলে দিতেন— ছুটি হলেই বাড়ি ফিরে আসবি। দেরি করিস না, তোর বাবা বাড়ি নেই জানিস তো। বাবা ফিরলে ঘর ভরে উঠত। মনে হতো, এখন আর কোনও ভয় নেই।

এখন এই সময়ে এসেও দেখি একই রূপ। রাতে বাসায় ফিরতে দেরি হলে একটু পর পর বউয়ের ফোনকল। আর না-ফেরার মতো বিষয় হলে তো তিনদিন আগ থেকে বিকল্প ব্যবস্থা জানাতে হয়। নিজের কাছেও কেমন লাগে। এত বড় ছয় তলা বাড়ি, দরোজায় লাগোয়ব প্রতিবেশিদের ফ্লাট। তবু যেন বউ নিরাপদ নয়। ছেলে ফোন করে বলে— বাবা, তাড়াতাড়ি বাসায় আসো।

গ্রামের বাড়িতে যাওয়া-আসার পথেও বউ যেভাবে শক্ত করে হাত ধরে রাখে, মনে হয় এই বুঝি ক্ষয়ে গেল তার স্বামী। ব্যাগ-সুটকেস বইতে বইতে ফিরে ফিরে তাকাতে হয় আসতে পারছে কি না। কেবিনের বাইরে গেলে সঙ্গে যেতে হয় ওয়াশরুম পর্যন্ত।

কেনো?

এই যে আমি দীর্ঘ দুই মাস নিজের ফ্লাটে একা আছি। একা বসে লিখছি। নির্জন বিছানায় একা ঘুমাচ্ছি। বিদ্যুৎ না-থাকলে একা অন্ধকারে বসে বসে ঝিমোচ্ছি। ছাদে একা হাঁটছি। কই, আমার তো ভয় করছে না। অনিরাপদও লাগছে না।

তাহলে স্বামী ছাড়া, সঙ্গী ছাড়া, পুরুষ ছাড়া নারীর এত ভয় কেনো? সভ্যতার এত উৎকর্ষ, নারী-নিরাপত্তায় এত কঠোর আইন, বিশ্বের নেতৃত্ব নারীর হাতে, তারপরও নারী কেনো পুরুষ ছাড়া হতভাগিনীর মতো হয়ে যায়? পুরুষের কোনও শত্রু নেই, আর নারীর চারিপাশে হাজারও শত্রু নিশপিশ করছে, তা-ই কি?