পারস্পরিক সম্মতিতে সম্পর্কে জড়ানোর পর‌ও যে কারণে ধর্ষণ মামলা

একুশে জার্নাল

একুশে জার্নাল

নভেম্বর ০৫ ২০২১, ২২:৩১

ডা. তৃণা ইসলাম

আমরা বেশিরভাগই যারা ‘বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ’ এই অভিযোগে মামলা নিয়ে বাদীর উপর ক্ষিপ্ত হই, তাদের অনেকেই জানি না এই ধরণের মামলা কিন্তু বাংলাদেশে বিদ্যমান আইনের কারণেই ভিকটিমকে করতে হয়।
কারণ মিউচুয়াল কনসেন্টে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের কোন আইনগত স্বীকৃতি নেই এদেশের আইনে।

তাহলে বলেন, পারস্পরিক সম্মতিতে এ ধরণের সম্পর্কে জড়ানোর পর কোন এক পক্ষ যদি মনে করে তার সাথে প্রতারণা করা হয়েছে এবং দেশের শক্তিশালী একটি আইনে সুস্পষ্টভাবে ‘প্রতারণামূলকভাবে সম্মতি আদায় করে শারীরিক সম্পর্ক’ করলে একে ধর্ষণ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা থাকে তাহলে ভিকটিমের আগে পুলিশই বাধ্য এই ধরণের মামলাকে ‘বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ’ এই টার্মের মধ্যে ফেলতে।

যারা বিচার চাইতে যায় তারা তো সবাই আইন জেনে যায় না থানায়। ধারণা করি, প্রান্তিক অঞ্চলে যেখানে নারীরা এখনো স্বাবলম্বী নয় বা জ্ঞানের অভাবে সহজেই মিষ্টি কথার ছলে পড়ে গিয়ে প্রকৃতই প্রতারণার শিকার হয়, অন্তঃসত্ত্বা হয়ে সামাজিক মান-মর্যাদা হারায় তাদের সুরক্ষার কথা ভেবে এটিকে আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আর আইন এমনভাবে তৈরি করতে হয় যেখানে সমাজের সকল স্তরের মানুষ আইন দ্বারা প্রতিকার পায়। কেবল শহুরে, কেবল গ্রামীন কিংবা ধনীর জন্য আলাদা দরিদ্রের জন্য আলাদা আইন বানানো হয় না।

এটা পরিতাপের বিষয় যে আইনের এই অংশটির এখন প্রচুর মিসইউজ হচ্ছে, যাদের কথা ভেবে বানানো তাদের বাদ দিয়ে বরং সচেতন-শিক্ষিতরাই এটির ব্যবহার বেশি করছেন।

আইনে সম্মতি নিয়ে প্রাপ্তবয়স্কের সেক্স এর কোন স্বীকৃতি নেই। ফলে এ সম্পর্ক সৃষ্ট অভিযোগ/অপরাধের প্রতিকার নিয়ে আলাদা আইন নেই। কিন্তু খেয়াল করে দেখেন, শিক্ষিত-সচেতন নারীর সাথে কিন্তু পুরুষের সম্পর্কজনিত প্রতারণা বন্ধ নেই।

বহুল আলোচিত আইনটির সংশোধন আপনি চাইতে পারেন, বাতিল দাবী করতে পারেন। তার আগে মামলার বাদীকে গালাগালি করে আসলে লাভ নেই।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০ (সংশোধনী২০০৩) এর– ৯ ধারায় ধর্ষণ সম্পর্কে কতগুলো প্রভিশন রয়েছে।

যদি কোন পুরুষ বিবাহবন্ধন ব্যতীত
ষোল বৎসরের অধিক বয়সের কোন নারীর সাথে তার সম্মতি ছাড়া
বা ভীতি প্রদর্শন বা প্রতারণামূলকভাবে তার সম্মতি আদায় করে, অথবা ষোল বৎসরের কম বয়সের কোন নারীর সাথে তার সম্মতিসহ বা সম্মতি ব্যতিরেকে যৌন সঙ্গম করেন, তাহলে তিনি উক্ত নারীকে ধর্ষণ করেছেন বলে গণ্য হবেন।

দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারায় ধর্ষণ সম্পর্কে বলা হয়েছে:
১ম: মেয়ের ইচ্ছার বিরুদ্ধে
২য়: মেয়ের অনুমতি ছাড়া
৩য়: মৃত্যুভয়ে বা আঘাত দেওয়ার কারণে সম্মতি নিয়ে
৪র্থ: সম্মতিতে, যখন মেয়েটিকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ছেলেটি সম্মতি আদায় করে, ছেলেটি জানে ভবিষ্যতে সে মেয়েটিকে স্ত্রী রূপে গ্রহণ করবে না
৫ম: তার সম্মতি বা সম্মতি ছাড়া, যখন ভিক্টিমের বয়স চৌদ্দ বছরের নিচে হয়।

ধর্ষণের শাস্তি:

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ ধারা অনুযায়ী অপরাধ প্রমাণিত হলে তিনি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করবেন এবং এর অতিরিক্ত অর্থদণ্ডও তাকে দেয়া যেতে পারে।



(লেখাটি ব্যারিস্টার নিঝুম মজুমদারের একটি ফেসবুক পোস্টে করা ডা. তৃণা ইসলামের কমেন্ট থেকে সংগৃহীত।)