পদ্মা সেতুর টোল যমুনার চেয়ে কত বেশি?

একুশে জার্নাল

একুশে জার্নাল

ডিসেম্বর ১১ ২০২০, ২৩:১৮

আবির আবরার:

পদ্মা সেতু চালু হলে দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোর সঙ্গে রাজধানীর যাতায়াতে গড়ে অন্তত দুই ঘণ্টা সময় বেঁচে যাবে। এটা শুধু অভ্যন্তরীণই নয়, আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পদ্মা সেতুর সর্বশেষ (৪১তম) স্প্যান বসানো হয়েছে গতকাল বৃহস্পতিবার। তবে সেতুর অবকাঠামো নির্মাণকাজ এখনো অনেক বাকি। এই সেতু নির্মাণে যে টাকা ব্যয় হবে, তা টোল বা গাড়ি পারাপারে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা আদায়ের মাধ্যমে ওঠাবে সরকার। সেতু বিভাগ টোলের একটি প্রাথমিক হার নির্ধারণ করেছে।

বর্তমানে ফেরিতে একটি বড় বাস পদ্মা নদী পার হতে লাগে ১ হাজার ৫৮০ টাকা। পদ্মা সেতু হলে টোল দিতে হবে ২ হাজার ৩৭০ টাকা। বঙ্গবন্ধু সেতু পার হওয়ার জন্য বড় বাসের টোল ৯০০ টাকা।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বিদেশি অর্থায়নে সেতু নির্মাণ করা হলে কত টাকা টোল ধার্য করা উচিত, সে বিষয়ে দাতাদের শর্ত বা পরামর্শ থাকে। কিন্তু দেশিয় অর্থায়নে নির্মিত সেতুর ক্ষেত্রে এ রকম কোনো নীতিমালা নেই। সাধারণত সেতু হওয়ার আগে ফেরিতে যে হারে টোল নেওয়া হয়, সেতুতেও সেই হারে টোল নির্ধারণ করে থাকে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)।

পদ্মা সেতু চালুর পর ১৫ বছরের জন্য একটি টোল হারের তালিকা কর হয় গত বছর। তালিকা অনুসারে, ছোট ট্রাকের জন্য ১ হাজার ৬২০ টাকা টোল প্রস্তাব করা হয়েছে, মাঝারি ট্রাকের ২ হাজার ১০০ টাকা, বড় ট্রাকের ২ হাজার ৭৭৫ টাকা, চার এক্সেলের ট্রেইলারের ৪ হাজার টাকা এবং ট্রেইলারের ক্ষেত্রে চার এক্সেলের পর প্রতি এক্সেলে দেড় হাজার টাকা টোল যোগ হবে।

প্রতি ১৫ বছর পরপর টোলের হার ১০ শতাংশ করে বাড়ানো হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে সেতু বিভাগের প্রস্তাবে। এক্ষেত্রে বর্তমানে পদ্মা নদী ফেরিতে (শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি) পারাপার হতে যে টাকা লাগে, সেতুতে তার দেড়গুণ টোলের হার নির্ধারণ করা হতে পারে। আর বঙ্গবন্ধু (যমুনা) সেতুর টোলের সঙ্গে তুলনায় তা হবে দ্বিগুণ বা তারও বেশি।

বঙ্গবন্ধু সেতুর চেয়ে পদ্মা সেতু নির্মাণে খরচ বেশি। আবার এর দৈর্ঘ্যও বেশি। এ কারণে পদ্মা সেতুতে টোল বেশি হবে। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার পদ্মা সেতু তৈরিতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা। যেখানে বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতু তৈরিতে খরচ হয়েছিল চার হাজার কোটি টাকা।