নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে সন্ত্রাসী কার্যক্রম; রিজভী

সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঢাকাতেও সন্ত্রাসী কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘ইভিএমে সুষ্ঠু ভোটের ন্যুনতম সুযোগ নেই। ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনও চট্টগ্রামের মতো দখলের নীল নকশার প্রস্তুতি কি না তা নিয়ে জনমনে সংশয় দেখা দিয়েছে। ঢাকাতেও সন্ত্রাসী কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রচারণার সময়ে গ্রেপ্তার অভিযান করবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। এখন গ্রেপ্তার চলছে, অভিযানও চলছে, আক্রমণ চলছে, হামলা চলছে এবং হামলার মাধ্যমে একটা ভয়ভীতির পরিবেশ তারা সৃষ্টি করেছে। প্রতিনিয়ত নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করছে সরকারী দলের প্রার্থীরা। ধানের শীষের পোষ্টার ছিঁড়ে ফেলছে সন্ত্রাসীরা। বেছে বেছে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাও নিয়োগ দেয়া হয়েছে ছাত্রলীগের ক্যাডারদের। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হিসাবে দায়িত্বে থাকবে সরকারের আস্থাভাজন চিহ্নিতরা।’

৩০ জানুয়ারি চূড়ান্ত ভোট ডাকাতির প্রস্তুতি চলছে ঢাকার দুই সিটিতে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমরা আশংকা করছি চট্টগ্রামের মতো ঢাকার দুই সিটির ভোটেও ভোটের আগে বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি-ধমকি, হামলা আর ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রে আসতে নিষেধ করা হচ্ছে। ধানের শীষের প্রার্থীর সমর্থক ও ভোটারদের প্রতিনিয়ত নিগৃহীত করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম-৮ আসনে উপ-নির্বাচনের মতো সরকারের বিশ্বস্ত ভাঁড় প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা ঢাকাতেও নিজের তেলেসমাতি অক্ষুন্ন রাখবেন কি না সেটি নিয়েও জনমনে নানা প্রশ্ন দীর্ঘ হচ্ছে।’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার প্রাণনাশের উদ্দেশে প্রায় দুই বছর যাবত বিনা অপরাধে বন্দী রাখা হয়েছে। বিনা চিকিৎসায় তাকে পঙ্গু করে ফেলা হয়েছে। ৭৫ বছর বয়স্ক দেশ নেত্রীর জীবন প্রতি মুহূর্তে শংকার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সরকারের মদদে তার গুরুতর অসুস্থতা গোপন করা হচ্ছে। তিনি এখন কি অবস্থায় আছেন তা কাওকে জানতে দেয়া হচ্ছে না।’

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘বেগম জিয়ার শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকারের মন্ত্রী ও পাতি নেতারাও কুৎসিত ‘ডার্ক হিউমার’ করে যাচ্ছেন। পিজি হাসপাতালের মেডিকেল বোর্ড তার স্বাস্থ্য সম্বন্ধে যে প্রতিবেদন দিয়েছে তাতে বলা হয়েছে তার বর্তমান অবস্থায় এডভান্স চিকিৎসা দরকার। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। কারণ অন্যায়ের বিরুদ্ধে বারবার জোরালোভাবে দাঁড়ানো এই নেত্রীকে কোনভাবেই সহ্য করতে পারছে না সরকার ও সরকার প্রধান। এজন্য এক দুর্বিষহ মাষ্টারপ্ল্যান নিয়ে সরকার কাজ করছে।