নজরুল “জাতীয় কবি” হলেও বাংলাদেশের সাহিত্য প্রধানত অ-নজরুলীয়

একুশে জার্নাল

একুশে জার্নাল

এপ্রিল ১৭ ২০১৯, ২৩:৫৮

মনোয়ার শামসী সাখাওয়াত: কাজী নজরুল ইসলামকে আমরা “জাতীয় কবি”র আখ্যাটাই শুধু দিয়েছি। কিন্তু তাঁর আধ্যাত্মিক সাহিত্যের আদর্শ, বিষয়, চেতনা, ইসলামের ইতিহাস ও পারসিক চিরায়ত মিথ থেকে আহরিত প্রেরণা, ভাষা রীতি, কাব্যশিল্প বা কাব্যনন্দন চর্চার ঐতিহ্য, আঙ্গিক, প্রকরণ, অলঙ্করণ ও বাক শৈলীকে আমরা যোগ্যতার সঙ্গে অনুধাবন ও অনুসরণ করতে এখনো পারি নি এবং পারছিও না।

১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পূর্ব বাংলায় যে আধুনিক সেক্যুলার বাঙালি জাতিবাদী সাহিত্য ও সংস্কৃতি আদর্শ অনুসৃত হয়ে চলেছে তা কাজী নজরুলের চেতনা থেকে সরে এসেছে বলে মনে করি। পঞ্চাশের দশকে হাসান হাফিজুর রহমান, শামসুর রাহমান প্রমুখের নেতৃত্বে ‘সমকাল’ পত্রিকার মাধ্যমে এবং ষাটের দশকে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের ‘কন্ঠস্বর’ পত্রিকার মাধ্যমে যে সাহিত্যাদর্শ এদেশে বিকশিত হয়েছে তা প্রধানত অ-নজরুলীয়।

১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধোত্তর বাংলাদেশ একারণে কাজী নজরুলকে “জাতীয় কবি” হিশেবে বরণ করার মধ্য দিয়ে তাঁকে শুধু একটি আনুষ্ঠানিক বিগ্রহে পরিণত করেছে। কিন্তু কার্যত কাজী নজরুলের আধ্যাত্মিক ও সাম্যবাদী এবং/অথবা ইনসাফী সাহিত্য আদর্শকে পরিত্যাগ করে কলকাতায় বুদ্ধদেব বসু ও তাঁর সহযোগীদের দ্বারা উদ্ভাবিত তিরিশি আধুনিকতাকে ব্রত ও পাথেয় করে নিয়েছে। একারণে আমাদের সাহিত্য মৌলিক উৎকর্ষ অর্জনে ব্যর্থ হয়ে একধরণের দ্বিতীয় স্তরের কলকাতা অনুবর্তী মিডিওক্রিটি বা মাঝারি মানের মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছে।