দু-একজনের জন্য পুরো পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে: নুর

একুশে জার্নাল ডটকম

একুশে জার্নাল ডটকম

মার্চ ০৫ ২০২২, ১৮:৩১

দুই একজনের জন্য পুরো পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব নুরুল হক নুর।

শনিবার (৫ মার্চ) রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির প্রতিবাদে গণঅধিকার পরিষদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে ‘পুলিশ, ছাত্রলীগ, যুবলীগের হামলা ও সামগ্রিক পরিস্থিতি’ নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে দলটি।

রমনা জোনের উপকমিশনার হারুন অর রশিদের অপসারণের দাবি জানিয়ে নুরুল হক নুর বলেন, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্ধ্বগতির প্রতিবাদে শুক্রবার শহীদ মিনারে পূর্বঘোষিত কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় গণঅধিকার পরিষদের মিছিলটি শাহবাগ মোড়ে পুলিশি বাধার সম্মুখীন হয়। এ সময় দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তারা প্রেস ক্লাবে সমাবেশ করার পরামর্শ দিলে আমরা শাহবাগে মোড় ঘুরে মিছিলটি নিয়ে প্রেস ক্লাবের উদ্দেশ্য রওনা দেই। ঢাকা ক্লাবের সামনে আসতেই রমনা জোনের উপকমিশনার হারুন অর রশিদের নেতৃত্ব একদল পুলিশ ও সাদা পোশাকের লোক আমাদের উপর অতর্কিত হামলা করে। হামলায় অন্তত ১১২ জন আহত হয়। কোনো ধরণের উস্কানি, সংঘর্ষ ছাড়াই পুলিশ ও সাদা পোশাকের লোকজন আমাদের উপর হামলা করে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।

গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব বলেন, এর আগে গত বছর ২৭ মার্চ প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে ছাত্র অধিকার পরিষদের চার নেতা রবিউল, সোহাগ, সজল ও আলামিন আটিয়াকে আটক করেও শাহাবাগ থানায় মুখে গামছা ও চোখে কাঁচা মরিচ লাগিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় বর্বর নির্যাতন করে। শুক্রবারের ঘটনায়ও স্পষ্ট হয়েছে যে জনাব হারুন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়েই সাদা পোশাকের লোকজনসহ আমাদের উপর বর্বর আক্রমণ করে। আমরা অনতিবিলম্বে হারুনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পুলিশ কর্তৃপক্ষের কাছে জোরালো দাবি জানাই। দুই একজন হারুনের জন্য পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, গণঅধিকার পরিষদের কর্মসূচিতে সহযোগিতা না করে পূর্বঘোষিত কর্মসূচিস্থল ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগকে দিয়ে দখল করিয়ে সরকার তার জনবিচ্ছিন্ন অবস্থার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে আয়োজিত সমাবেশে বাধা প্রদান করে সরকারি দলের নেতা-কর্মীরা প্রমাণ করেছে তারা গণবিরোধী রাজনীতি করছে।

নুর বলেন, দমন-পীড়ন, হামলা-মামলা করে অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকা যায় না। তাই অনতিবিলম্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে এনে অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

‘সরকারের বেআইনি আদেশ পালন’ না করার পাশাপাশি সভা-সমাবেশ, মিছিল-মিটিংয়ের মতো গণতান্ত্রিক কর্মসূচি ও সাংবিধানিক অধিকারের প্রশ্নে পুলিশসহ প্রশাসনকেও সহনশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক ডক্টর রেজা কিবরিয়ার সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন— যুগ্ম-আহ্বায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খান, ফারুক হাসান, শাকিল উজ্জামান, মাহফুজুর রহমান খান, আবু হানিফ, সোহরাব হোসেন, যুগ্ম সদস্য সচিব আতাউল্লাহ, ফাতেমা তাসনিম, তামান্না ফেরদৌস প্রমুখ।