টাকা আত্মসাতের মামলায় নাজিরহাট মাদ্রাসা দখলকারী সেই সলিমুল্লাহ কারাগারে

একুশে জার্নাল

একুশে জার্নাল

অক্টোবর ৩১ ২০২১, ১৭:০১

সমবায় সমিতি খুলে অধিক লাভের লোভ দেখিয়ে গ্রাহকের প্রায় সাড়ে ৫ কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ফটিকছড়ির ফারুকিয়া মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা সলিমুল্লাহকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

রবিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে ভুক্তভোগী গ্রাহকের পক্ষে আসাদুজ্জামান নামে এক এক ব্যক্তির দায়ের করা মামলায় জামিনের শুনানি শেষে চট্টগ্রামের চীপ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কামরুন্নাহার রুমির আদালত সলিমুল্লাহর জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সলিমুল্লাহর আইনজীবী এডভোকেট জাবেদ হোসেন বলেন, মাওলানা সলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে এহসান এস সোসাইটির গ্রাহকদের টাকা আত্মসাতের ঘটনায় মোট ৭টি মামলা ছিলো। একটি মামলায় আজকে জামিনের শুনানি ছিলো। পরে আদালত জামিন বাতিল করে আসামীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এই মামলায় আরো দুইজন আসামী ইতোমধ্যে জামিনে আছেন।

জানা যায়, ২০০৭ সালে এহসান এস নামে মাল্টিপারপাস প্রতিষ্ঠানটির ফটিকছড়ির নাজিরহাটে শাখা খোলেন মাওলানা সলিমুল্লাহ। উচ্চ হারে লাভ দেয়ার কথা বলে অল্প দিনের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটিকে জমিয়ে তোলেন তিনি। তবে এক পর্যায়ে ২০১৬ সালের দিকে হাজারখানেক গ্রাহকের প্রায় ৫ কোটি টাকা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির ক্যাশিয়ার মাওলানা মনির হাসান গা ঢাকা দেন। গ্রাহকদের অভিযোগ, মাওলানা সলিমুল্লাহ’র যোগসাজশে মনির এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন।

জানা যায়, ওই ঘটনার প্রতিবাদে ভুক্তভোগী গ্রাহকরা সেসময় সলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে কয়েকদফা মানববন্ধন ও ঝাড়ু মিছিল করেছে। এইসব অভিযোগে তারা ফটিকছড়ি থানা ও আদালতে ৭টি মামলা দায়েরও করেছেন। পরে সলিমুল্লাহ একটি ছাড়া সবকটি মামলায় জামিন নেন।

উল্লেখ্য, মাওলানা সলিমুল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে ফটিকছড়ির ঐতিহ্যবাহী নাজিরহাট বড় মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন। হেফাজতে ইসলামের প্র‍য়াত আমীর আল্লামা শফির ছোট ছেলে মাওলানা আনাস মাদানীর সাথে তার ঘনিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে নাজিরহাট বড় মাদ্রাসাটি দখল করে নেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে সমবায় সমিতি করে টাকা আত্মসাতের পাশাপাশি মাদ্রাসার জন্য মধ্যপ্রাচ্য থেকে চাঁদা সংগ্রহের সময় আত্মসাতসহ অনেক অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে আনাস মাদানীর মতো তিনিও মাদ্রাসার ছাত্রদের আন্দোলনের মুখে নিজের কর্মস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হন। পরে নিজেই জামিয়া ফারুকিয়া নামে একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে সেই মাদ্রাসার প্রধান হয়ে যান মাওলানা সলিমুল্লাহ।