জিয়ার ভুয়া কবর সরিয়ে ফেলা হবে : মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী

একুশে জার্নাল ডটকম

একুশে জার্নাল ডটকম

আগস্ট ৩১ ২০২১, ১৮:৪৪

স্থপতি লুই আই কানের মূল নকশা অনুযায়ী জাতীয় সংসদ ভবনের নকশা করা হবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

তিনি বলেছেন, ‘জিয়ার ভুয়া কবর এই নকশার বাহিরে। এই ভুয়া কবর দ্রুত সরিয়ে দেয়া হবে বলে।’

আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টায় শাহবাগে জাতীয় শোকদিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করলেও তার আদর্শ হত্যা করা সম্ভব হয়নি। বঙ্গবন্ধু শুধু বাংলাদেশের নেতা ছিলেন না। তিনি বিশ্ব মানবতার নেতা ছিলেন। তিনি ছিলেন বিশ্বের দরিদ্র মানুষের মুক্তির দূত। আমি আবারও বিএনপিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলছি, জিয়ার ভুয়া কবর নিয়ে মিথ্যাচার করবেন না। জিয়ার ডিএনএ টেস্ট করে দেখুন। অবশ্যই প্রমাণিত হবে এটি কখনোই জিয়ার কবর নয়।’

তিনি বলেন, ‘স্থপতি লুই আই কানের মূল নকশা অনুযায়ী জাতীয় সংসদ ভবনের নকশা করা হবে। জিয়ার ভুয়া কবর এই নকশার বাহিরে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে অন্য ব্যক্তির লাশ নিয়ে এসে এখানে কবর দেয়া হয়েছে। জিয়ার ভুয়া কবর এখানে থাকতে পারে না। এই ভুয়া কবর দ্রুত সরিয়ে দেয়া হবে।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত মূল কুশীলব জিয়ার দল বিএনপি এখনো ষড়যন্ত্র করছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংসকারী জিয়ার ভুয়া কবর নিয়ে বিএনপি অপরাজনীতি করার চেষ্টা করছে। দেশের জনগণ বিএনপির প্রতারণা বুঝে গেছে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে অতীতের ন্যায় সামনের দিনগুলোতে তরুণ প্রজন্মকে আরোও ভূমিকা পালন করতে হবে।’

আলোচনা সভায় ঢাবির অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, “একাত্তরের পরাজিত অপশক্তি দোসররা ১৫ আগস্টের কালরাত্রিতে ২৬ জনকে গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল। এটি ইতিহাসের নৃশংসতম হত্যাকাণ্ড। ছোট্ট শিশু শেখ রাসেলও হায়েনাদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি। বঙ্গবন্ধুর আজীবনের সহযোদ্ধা ছিলেন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। বঙ্গবন্ধু যখন জেলে ছিলেন তখন বঙ্গমাতা দলের জন্য নিজের গহনা পর্যন্ত বিক্রি করেছিলেন। আমাদের দাবি বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে জড়িত দেশি ও বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীদের মুখোশ উন্মোচন করার জন্য একটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন তদন্ত কমিশন গঠন করতে হবে। তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন শ্বেতপত্র আকারে প্রকাশ করতে হবে। বঙ্গবন্ধু কন্যার বিরুদ্ধে এখনোও ষড়যন্ত্র চলমান। বিষধর সাপরা এখনো সক্রিয়। এদেরকে চিহ্নিত করতে হবে।’

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, “আসিফ নজরুল প্রতিনিয়ত ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। শহীদ জননী জাহানারা ইমামের সাথে প্রতারণা করে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির যুদ্ধাপরাধ বিষয়ক তথ্য-উপাত্ত ও দালিলিক প্রমাণ রাজাকারদের নিকট বিক্রি করে বিহারী পুত্র আসিফ নজরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি নিয়েছিল। স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তির এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার অপচেষ্টা করছে। পাকিস্তানের গুপ্তচর জিয়া কখনোই মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। পাকিস্তানের আইএসআইয়ের এজেন্ট হিসেবে জিয়া কাজ করেছিল। স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি জিয়ার দোসরদের সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে।’

বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. আল মামুনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন ঢাবির দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ, যুবলীগ নেতা আরিফুর রহমান সোহেল, ভাস্কর শিল্পী রাশা, সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনেট মাহমুদসহ প্রমুখ।