জাগতিক জ্ঞানে মাদরাসা বনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হালচাল: একটি অভিজ্ঞতা

একুশে জার্নাল

একুশে জার্নাল

ডিসেম্বর ২৯ ২০২০, ১৯:২৩

মাদরাসা পড়ুয়া আলিমদের মূল্যায়ন করে সলিমুল্লাহ খান স্যারের একটি উক্তি নিয়ে পক্ষেবিপক্ষে বেশ বিতর্ক চলছে৷ স্যারের কথার বাস্তবতা নিয়ে আমার কিছু অভিজ্ঞতার কথা বলি—

আমি আগাগোড়া কওমি মাদরাসায় পড়ুয়া মানুষ৷ স্কুলের বারান্দায়ও পা ফেলি নি জীবনে৷ আমি একবার দেশের একটি নামকড়া পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ও মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের সাথে তাবলিগে বের হলাম৷ চল্লিশ দিন আমরা একত্রে কাটিয়েছি৷ এই পুরো সময়ে একটি ব্যাপার আমি খুবই দুঃখের সাথে অবলোকন করেছি, তা হল- তাদের বয়ান বা আলোচনার ভাষা ও উপস্থাপনা ছিল আশাহত হবার মত ৷ শব্দ চয়নে, প্রয়োগে যেমন প্রচুর ভুল হত, তেমনি উচ্চারণেও ছিল অনেক সমস্যা৷ আর আঞ্চলিকতার দুষণ তো আছেই৷ তারা সবাই আমাকে খুবই সমীহ করত, ভালবাসত ৷ আমি একদিন তাদের একজনের সাথে খোশালাপকালে সেই প্রসঙ্গ তুললাম৷ আমার আপত্তি শুনে সে অনেকটা গা ছাড়াভাবে বলে উঠল— ভাই দেখেন, আমরা তো আর বাংলা ফ্যাকাল্টির স্টুডেন্ট না৷ তাই এরকম কমবেশ হবেই৷ আমাদের স্যারদেরও ভাষার যে অবস্থা! তার উত্তর শুনে তো আমি অবাক! বললাম, কেন ভাই? আমিও তো বাংলা অনুষদের নই, বরং আমি তো মাদরাসার; তাও কওমি মাদরাসার!

আমি প্রায়ই সুযোগ পেলে তাদের সাথে আমাদের দেশের এবং উপমহাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক নানা সমস্যা এবং মুঘল আমল থেকে বর্তমান পর্যন্ত সময়ের রাজনীতি ও শিক্ষাব্যবস্থার ইতিহাস নিয়ে অনেক আলাপ করতাম৷ তারা খুব গুরুত্বের সাথে এবং খানিকটা অবাক হয়ে শুনত৷ মাঝেমাঝে আমি তাদের কাছে এসব বিষয়ে আমার অমীমাংসিত কিছু বিষয়ে জানতে চাইতাম৷ লক্ষ্য করতাম, তারা তখন বিব্রতবোধ করত৷ তেমন কোন সদুত্তর দিতে পারত না৷ একবার এটা নিয়েও আমি কিছুটা আপত্তির স্বরে জিজ্ঞেস করলাম যে, দেশ-রাজনীতি, ইতিহাস ও সমাজ-দর্শন সম্পর্কে আপনাদের তেমন জানাশোনা নেই কেন? তখন তাদের আরেকজন আগেরবারের মতই দায়সারা জবাব দিল, ‘দ্যাখেন, আমরা তো আর রাষ্ট্রবিজ্ঞান বা ইতিহাসের ছাত্র না’৷ অপর একজন যোগ করল, ‘আমাদের যার যে সাবজেক্ট তার বাইরে আমাদের তেমন কোন পড়াশোনা হয় না’৷

এবারও খুব অবাক হলাম৷ ভাবলাম, নাহ.. আমার ডাক্তার বাবা আমাকে মাদরাসায় পড়িয়ে ঠকান নি৷ কারণ আমি উপরোল্লিখিত সকল বিষয়ের জ্ঞান মাদরাসার চার দেয়ালে বসেই রপ্ত করেছি৷