চিত্রশিল্পের কাজের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হতে চান উলিপুরের দুর্লভ

রোকন, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :

শ্রী দুর্লভ কুমার। একজন চিত্রশিল্পী হিসেবে ছাত্রাবস্থায় কাঁধে তুলে নিয়েছেন সংসারের ভার।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের হোকডাঙ্গা গ্রামের শ্রী গজেন্দ্রনাথ বর্মণের ছেলে শ্রী দুর্লভ কুমার চিত্রশিল্পের কাজের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছেন। সে স্থানীয় পল্লবী আর্ট সেন্টার নিয়মিত চিত্রশিল্প ও লেখালেখির কাজ করছেন।

চিলমারি ডিগ্রি কলেজে পড়াশোনার পাশাপাশি ঢাকা সংস্কৃত কলেজেও পড়ছেন বলে জানা যায়।

তিস্তার করালগ্রাসে কয়েকবার নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়ে আবাদী জমি ও বাস্তুভিটা হারিয়েছে তার পরিবার। এর পরই সংসারের দৈন্য ঘুচাতে চিত্রশিল্পের কাজের মাধ্যমে আয় করে বাবার পাশে দাড়ায় সে। দুর্লভ জানায়-পল্লবী আর্ট সেন্টারে কাজের পাশাপাশি তিনি পুজো পার্বণে মূর্তি তৈরি, বিভিন্ন বিদ্যালয়ের অবকাঠামোয় চিত্রাঙ্কণ সহ আর্ট এর উপর টিউশনি করিয়ে আয় করছেন। তবে যৎসামান্য এই আয় ও কাজের স্বল্পতায় এখনও পুরোপরি ঘুরে দাড়াতে পারেনি তার পরিবার।

একটি নিজস্ব আর্ট সেন্টার করার ইচ্ছা থাকলেও অর্থ ও সুযোগের অভাবে করতে পারছেন না বলে জানায় সে।বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চিত্রশিল্পের কাজগুলো পাওয়া ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাকে সহযোগিতা করবেন বলে আশাবাদী সে।

দুর্লভ কুমার সানরাইজ প্রি-ক্যাডেট স্কুল নামক একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অঙ্কনের অতিথি শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক আব্দুর রব বলেন-” কথিত আছে;শিল্পীরা মানুষ খুন করতে পারে না। এই ধারণাটা আপনার কাছে সত্য প্রমাণিত হবে তখন, যখন একজন শিল্পীর শৈল্পিক কর্ম প্রাণবন্ত মনে হয়।সত্যি বলতে, দুর্লভ কুমার কুড়িগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকায় বেড়ে ওঠে। প্রতিভা বিকাশের প্রারাম্ভেই প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়। অংশ নেয় জীবনযুদ্ধে। নানান প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে একটু একটু করে ক্রমান্বয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। আমি তার জীবনের সর্বাঙ্গীণ উন্নতি কামনা করছি।”