চাচার প্ররোচনায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে বলাৎকারের মিথ্যা অভিযোগ তোলে ছেলেটি, ক্ষমা চাইলেন বাবা

একুশে জার্নাল

একুশে জার্নাল

জানুয়ারি ০২ ২০২১, ২১:৩৬

চাঁদপুরের কচুয়ায় মাদরাসার শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনা শিশু নির্যাতনের ঘটনায় সেই শিক্ষক নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার পর মাদরাসা কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন অভিযোগ তোলা শিক্ষার্থীর বাবা। ভুক্তভোগী শিক্ষকের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তোলার পেছনে সেই শিক্ষার্থীর চাচার ষড়যন্ত্র ছিল বলে জানিয়েছেন তার বাবা।

মিডিয়াকে এ তথ্য জানিয়েছেন সাতবাড়িয়া তালিমুল কুরআন মাদরাসার মোহতামিম মাওলানা হোসাইন আহমাদ।

মাওলানা হোসাইন আহমাদ বলেন, সেই ছেলের বাবা জানিয়েছেন, পড়াশোনায় অমনযোগিতা ও চাপ বোধের কারণে ভুক্তভোগী শিক্ষকের বিরুদ্ধে চাচার প্ররোচনায় এই অভিযোগ তোলে ছেলেটি। শিক্ষকের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তোলার পেছনে সেই শিক্ষার্থীকে তার ষড়যন্ত্রকারী চাচাই প্ররোচনা দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীর বাবা রিপন আলী।

ক্ষমা চাওয়ার সময় ছেলেটির বাবা অনাকাঙ্খিত ঘটনার জন্য কেঁদে ফেলেন। শুরুতে তিনি নির্যাতনের শিকার শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করতে রাজি ছিলেন না বলে জানান। পরবর্তী ভাইয়ের প্ররোচণায় মামলা করেন।

গতকাল (১ জানুয়ারী) সন্ধ্যায় কচুয়া জামিয়া আহমদিয়ার মুহতামিম মাওলানা আবু হানিফার নেতৃত্বে মাদরাসার এক মিটিং-এ সাংবাদিক, আইনজীবীদের সামনে সিসি টিভি ফুটেজ দেখানো হয়। যেখানে ষড়যন্ত্রের শিকার সেই শিক্ষক নিদোর্ষ প্রমাণিত হন। এই মিটিং-এ এসব জানান সেই শিক্ষার্থীর বাবা।

সূত্র মতে জানা যায়, সেই শিক্ষার্থীর চাচা আমিনুল ইসলাম শিপন এলাকায় কিছুটা প্রভাবশালী ও ইসলাম বিদ্বেষী হিসেবে পরিচিত। এলাকায় কওমী মাদরাসাকে তিনি পছন্দ করেন না।

সূত্র জানায়, উস্তাদের নামে অভিযোগ তোলা শিক্ষার্থীটি অন্যান্য ছেলেদের তুলনায় পড়াশোনায় অমনোযোগী ও দুষ্ট। কিছুদিন আগে দুষ্টামির কারণে উস্তাদ তাকে শাসন করলে বাড়িতে গিয়ে সে অভিযোগ করলে তার চাচা আমিনুল ইসলাম শিপন এলাকার কয়েকজন গুণ্ডাকে নিয়ে মাদরাসায় হুজুরকে মারধরের জন্য আসেন। তখন মুহতামিম সাহেব সবাইকে বসিয়ে বিষয়টির মিমাংসা করেন। তারা সুযোগ না পেয়ে চলে যায়।

এর কিছুদিন পর ওই ছেলে রেহাল নিক্ষেপ করে দুষ্টুমি করে। উস্তাদ এসে তাকে ধমক দিলে চাচার প্ররোচণা ও ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে উস্তাদের বিরুদ্ধে বলাৎকারের অভিযোগ তোলে ছেলেটি।

ইতিপূর্বে আলেম বিদ্বেষ থাকলেও তা প্রকাশের কোন সুযোগ না পাওয়ায় সেই ছেলের অভিযোগকে ভিত্তি করে ছেলেটির চাচা এলাকাবাসীকে উস্কে দেয়। মাদরাসায় আক্রোমণ করে সিসি ক্যামেরা ভেঙে ফেলে এবং সেই উস্তাদের উপর নির্যাতন করে।