চলুন একসঙ্গে বসি

একুশে জার্নাল

একুশে জার্নাল

ফেব্রুয়ারি ২৭ ২০১৯, ১৭:৩৮

মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন

উপরের সারিতে দূরত্বের কারণেই নিচের সারিতে দূরত্ব বাড়ছে। যদিও উপরের দিকে দূরত্বের পরিমাণ কম; কিন্তু নিচে যেতে যেতে পর্যায়ক্রমে সেই দূরত্ব মহা-দূরত্বে পরিণত হচ্ছে। অথচ বর্তমান সময় হচ্ছে দূরত্ব ঘোচানোর, যতটা সম্ভব ঐক্যবদ্ধ থাকার।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সহজলভ্যতার ফলে আমাদের এখন আর বাইরের শত্রুর প্রয়োজন হচ্ছে না। নিজেরাই নিজেদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে রেখেছি। ইটের জবাবে পাটকেল নিক্ষেপ করছি। এ কথা ভুলেই গেছি যে, কাউকে গালি দেয়া হারাম। আর কেউ আমার সমালোচনা করেছে বা আমাকে গালি দিয়েছে এজন্য কি তাকে এর চেয়ে জঘন্য ভাষায় গালি দিতে হবে? সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কৃত কর্মের কি কোন জবাব দিতে হবে না আল্লাহর কাছে?

এহেন পরিস্থিতিতে আমরা যারা মাঠ পর্যায়ে রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক মঞ্চে বক্তৃতা করি এবং মানুষ আমাদের বক্তৃতা ফলো করে, আমাদের অবশ্যই একসঙ্গে বসা উচিত। তাহলে আন্তদলীয় ও সাধারণ কাজগুলোর ক্ষেত্রে একটা জবাবদিহিতার জায়গা তৈরি হতে পারে। কমে আসবে কর্মীদের মাঝে দূরত্ব। ইতোমধ্যে আমরা কওমী ফোরাম নামে একসঙ্গে চলা ও সাধারণ জবাবদিহিতার একটা ব্যানার তৈরি করেছি। আলহামদুলিল্লাহ! যথেষ্ট সমর্থন পেয়েছি। হোক কোন নামে কিংবা বেনামে, বসলে দূরত্ব কমে আসবেই।

মাঝেমধ্যে অনানুষ্ঠানিকভাবে হলেও একসঙ্গে বসা উচিত। একসঙ্গে বসলেই তো আর কেউ কারো দলের হয়ে যায় না; কিংবা কেউ কারো মতবাদকে গ্রহণ করে নিয়েছে বলে ধর্তব্য হয় না। তাহলে সমস্যা কোথায়?

কেউ প্রশ্ন করতে পারেন এগুলো ফেসবুকে না লিখে সরাসরি অফিসে গেলেই তো হয় কিংবা ফোনে কথা বলে নিলেই তো হয়। আসলে আমাদের মাঝে প্রতিবন্ধকতার দেয়াল বেশ উঁচু। কোথাও গেলে কারো দরজা বন্ধ থাকবে নাকি খোলা থাকবে সেটাও নিশ্চিত নয়।

দ্বিতীয়তঃ চট করেই ফোনে কোন বিষয়ে আলোচনা করে নেয়া যায় না। বাকি লেখালেখির মাধ্যমে অন্তত ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করা যায়। যদি সবাই ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে তাহলে পরস্পর কাছাকাছি হওয়ার স্পেস তৈরি হবে। হয়তো কেউ কম অগ্রসর হবে, কেউ বেশি অগ্রসর হবে। যদি সেজন্যে আমাকে কোন কুরবানী দিতে হয়, আমি সদা প্রস্তুত আছি , ইনশাআল্লাহ।

সুতরাং আমি মনে করি- কওমী ফোরামের সদস্যবৃন্দ, ইসলামী আন্দোলনের নেতা মাওলানা ফয়জুল করিম, মাওলানা আ ফ ম খালেদ, জমিয়তের মাওলানা বাহাউদ্দীন জাকারিয়া, ইনকিলাবের মাওলানা নদভী সহ বিভিন্ন হালকা থেকে প্রতিনিধি মাঝেমধ্যে একসঙ্গে বসার একটা ব্যবস্থা করে নিতে পারে।

যদি এই বিষয়ে আমরা সকলেই একমত থাকি, তাহলে নানা মাধ্যমে আগ্রহ ও প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি প্রকাশ করতে পারি। প্রস্তাব করতে পারি কারো নাম। অবশ্যই যার পক্ষ থেকে আগে যোগাযোগ হবে সে প্রতিদান বেশি পাবে। কেননা, ফজিলত অগ্রগামীর জন্য। এভাবেই এক সময় হয়তোবা সহনশীল পরিবেশ সৃষ্টি হবে।

সম্পাদক, যমযম টোয়েন্টিফোর ডটকম