চট্টগ্রামে হেফাজতের সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত


আমীরে হেফাজত আল্লামা আহমদ শফী দা.বা. এর বিরুদ্ধে কটুক্তিকারীদের শাস্তি এবং বি’বাড়িয়ায় খতমে নবুওয়াত মাদ্রাসায় হামলাকারী কাদিয়ানী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবীতে আয়োজিত-

সাংবাদিক সম্মেলনের লিখিত বক্তব্য

 

প্রিয় সাংবাদিক ভাইয়েরা !

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ

আজকের সংবাদ সম্মেলনে কষ্ট করে উপস্থিত হওয়ার জন্য আপনাদের সবাইকে আন্তরিকভাবে মোবারকবাদ জানাচ্ছি।

আমরা অত্যন্ত বিক্ষুব্ধ হৃদয় নিয়ে আজ আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি এই বাংলাদেশে যুগযুগ ধরে ধর্মীয় দিক থেকে সকল মতের আলেম ওলামা ও ইসলামী জনতা সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করে আসছে। আমরা লক্ষ্য করছি যে, কতিপয় ইসলামবিদ্বেষী নাস্তিক, ভণ্ডনবী মির্জা গোলাম আহমদের অনুসারী কাদিয়ানী সম্প্রদায় এবং তথাকথিত কিছু আলেম নামধারী ব্যক্তি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নানা উস্কানীমূলক বক্তব্য দিয়ে এই সুন্দর ও শান্তিময় পরিবেশকে অশান্ত করে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরীর ষড়যন্ত্র করছে।

গত ১৪ জানুয়ারি মঙ্গলবার বাদ এশা বি’বাড়িয়া শহরে অবস্থিত তাহাফফুজে খতমে নবুওয়াত মাদ্রাসায় কাদিয়ানী সন্ত্রাসীরা ন্যাক্কারজনকভাবে হামলা চালিয়ে অনেক ছাত্র শিক্ষক ও আলেম ওলামাদের গুরুতর আহত করেছে। যা কোন ভাবেই বরদাশ্ত করা যায় না। আমরা এই হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং সরকারের নিকট হেফাজতের পক্ষ থেকে জোর দাবি করছি যে, অনতিবিলম্বে খতমে নবুওত মাদ্রাসার উপর হামলাকারী কাদিয়ানীদের গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করুন। কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করুন। অন্যথায় আলেম-ওলামা বৃহত্তর তৌহিদি জনতাকে সঙ্গে নিয়ে প্রয়োজনে রাজপথে নেমে দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবো। হযরত মুহাম¥দ সা. খাতামুন্নবীয়্যিন, সর্বশেষ নবী। সুতরাং খতমে নবুওয়ত আকীদার বিষয়ে কোনো আপস হবে না এবং কোনো ছাড় দেয়া হবেনা।

প্রিয় সাংবাদিক ভাইয়েরা!

ইসলাম শান্তি ও সম্প্রীতির ধর্ম। আর অলেমসমাজ হলো নায়েবে রাসূল ও শান্তির বার্তবাহক। আলেমরাই ওয়াজ নসীহতের মাধ্যমে পবিত্র কুরআন হাদীসের বাণী এবং প্রিয়নবী সা.এর পবিত্র জীবনাদর্শ আলোচনা করে সর্বসাধারণকে ইহকালে শান্তি ও পরকালে মুক্তির পথ দেখিয়ে আসছেন। ওয়াজ মাহফিল হলো মানুষকে দ্বীনের সহীহ তালিম, ঈমান আকিদার হেফাজত, সদুপোদেশ প্রদান, মানবতার কল্যাণ, ন্যায় নীতি ও ইনসাফের কথা বলার সমাজিক অনুষ্ঠান ও ইসলামী সংস্কৃতি। আলেমসমাজ যুগযুগ ধরে সাধারণ মানুষকে অপরাধ ও পাপাচারমুক্ত রাখতে বিরামহীন প্রচেষ্ঠা চালিয়ে আসছে। বর্তমান আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে মাঠের ওয়াজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ইউটিউবের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে সর্বত্র। যাতে সর্বস্তরের মানুষ উপকৃত হচ্ছে।

কিন্তু অত্যান্ত পরিতাপের বিষয় হলো, কতিপয় নামধারী আলেম নিজেদের সুন্নী পরিচয় দিয়ে মাহফিলে ওয়াজ নসীহতের পরিবর্তে ঈমান আকীদা বিরোধী নানা বক্তব্য দিয়ে ধর্মপ্রাণ জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করেছে। দেশের খ্যাতনামা শীর্ষ আলেম ওলামাদের অশ্লীল ভাষায় গালি-গালাজ করছে। যা সভ্য কোন মানুষের মুখে শোভা পায় না।

সম্প্রতি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া পৌরসভার মাহবুবুল হক আলকাদেরী নামক (কথিত নুরে বাংলা) জনৈক বক্তা সাতকানিয়া থানার খাগরিয়ায় এক মাহফিলে দেশের সর্বজন শ্রদ্ধেয় শীর্ষ মুরুব্বি, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সম্মানিত আমীর, কওমী মাদরাসা সমুহের সর্বোচ্চ বোর্ড আল হাইয়াতুল উলইয়ার চেয়ারম্যান, জামিয়া আহলিয়া দারুল উলুম হাটহাজারীর মহাপরিচালক শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী দা.বা. সহ খ্যাতনামা ওলামায়ে কেরামকে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালিগালাজ করে এবং উস্কানিমূলক বক্তব্য দেয়। এতে স্থানীয় আলেমসমাজ ও ধর্মপ্রিয় জনতা বিক্ষুব্ধ হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেন। স্থানীয় প্রশাসন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্খায় তাকে গ্রেফতার করেছে। আমরা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও বিচার দাবী করছি।

প্রিয় সাংবাদিক ভাইয়েরা!

বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের শান্তি ও সম্প্রীতির উজ্জল দৃষ্ঠান্ত রয়েছে। আমাদের দেশে মুসলমানদের মধ্যে মতপার্থক্য আছে কিন্ত হানাহানি রক্তপাত নেই। কারো উস্কানির কারণে সাধারণ মানুষের মাঝে কোন গণ্ডগোল তৈরী হোক আমরা কেউ কামনা করিনা। সতরাং যে সব বক্তা মাহফিলে কুরুচিপূর্ণ ও নোংরা ভাষায় বক্তব্য দিয়ে বিতর্কিত হয়েছেন (চট্টগ্রামের আবুল কালাম বয়ানী, ঢাকার হাসানুর রহমান নক্সবন্দীসহ) তাদেরকে চিহিত করে আইনের আওতায় এনে শাস্তি প্রদানের জন্য জোর দাবী জানাচ্ছি। দেশের শান্তি শৃঙ্খলা, জনগণের নিরাপত্তা ও বিরাজমান সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার জন্য কার্যকর প্রদক্ষেপ করতে আমরা সংশ্লিষ্ট সকল মহল এবং প্রশাসনের প্রতি আহবান জানাচ্ছি।

আপনাদের সকলকে আন্তরিক মোবারকবাদ জানিয়ে আজকের সংবাদ সম্মেলন এখানেই শেষ করছি।

ওয়াসসালাম-

আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী

মহাসচিব, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ

তারিখ: ১৬ জানুয়ারি, ২০২০