খেলাফত মজলিসের কর্মী সমাবেশ: মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের-এর অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দাবী

একুশে জার্নাল ডটকম

একুশে জার্নাল ডটকম

নভেম্বর ০৫ ২০২১, ২১:৩৬

জ্বালানী তেল -গ্যাসের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার করতে হবে

—মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক 

খেলাফত মজলিসের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক বলেছেন, নতুন করে জ্বালানী তেল ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ফলে জনজীবনে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। হঠাৎ করে দেশে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটার প্রতি ১৫ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে জনগণের যখন নাভিশ্বাস উঠেছে সেই সময়ে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম হঠাৎ করে ২৩% বৃদ্ধি করে জনগণের উপর জুলুম করা হচ্ছে। জ্বালানী তেলের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে পণ্য পরিবহন খরচ বাড়বে। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য আরো বাড়বে। বাস ভাড়া বৃদ্ধির ফলে যাতায়ত খরচ বাড়বে। কৃষি ও সেচসহ জ্বালানী তেলের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল সেবাখাতে মূল্যবৃদ্ধির মারাত্মক প্রভাব পড়বে। এতে করে জনগণের ভোগান্তি আরো চরম আকার ধারণ করবে। তাই জনগণের স্বার্থে অবিলম্বে ডিজেল-কেরাসিন ও জ্বালানী গ্যাসের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার করতে হবে।

খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগরী আয়োজিত কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আজ শুক্রবার সকাল ৯টায় জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে ঢাকা মহানগরী উত্তরের সভাপতি প্রফেসর ডাক্তার রিফাত মালিকের সভাপতিত্বে ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি তাওহীদুল ইসলাম তুহিন ও উত্তরের সেক্রেটারি মাওলানা সাইফুদ্দিন আহমদ খন্দকারের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা আজীজুল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংগঠনের সিনিয়র নায়েবে আমীর অধ্যাপক মাওলানা যোবায়ের আহমদ চৌধুরী। প্রধান বক্তা ছিলেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নায়েবে আমীর মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, যুগ্মমহাসচিব ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সল, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজী, প্রশিক্ষণ সম্পাদক অধ্যাপক কাজী মিনহাজুল আলম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য প্রভাষক মুহাম্মদ আবদুল করিম, ইসলামী ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ মনির হোসাইন, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহসভাপতি খন্দকার সাহাবউদ্দিন আহমদ খন্দকার, দক্ষিণের সহসভাপতি হাফেজ মাওলানা নূরুল হক, মুহাম্মদ জিল্লুর রহমান, মুজিবুর রহমান ফরাজী, মোঃ আবুল হোসেন, প্রিন্সিপাল মাওলানা আজিজুল হক, শ্রমিক মজলিসের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আবুল কালাম, খেলাফত মজলিস কামরাঙ্গীরচর থানা সভাপতি মুফতি মাওলানা জাফর আহমদ, হাফেজ মাওলানা মাসুম বিল্লাহ, ছাত্র মজলিস ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ সভাপতি আহসান আহমদ খান, মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি মুহাম্মদ আবু সালেহ, মুহাম্মদ সালমান, রিয়াজুল ইসলাম প্রমুখ।

মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক বলেন খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের একজন সুশিক্ষিত, ভদ্র ও স্বচ্ছ রাজনীতিবিদ। তিনি কখনো কোনো রকম ভাংচুর বা উশৃঙ্খল কাজের সাথে জড়িত ছিলেন না। তাকে অন্যায়ভাবে দীর্ঘদিন যাবৎ কারারুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। আমরা অবিলম্বে মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের-এর নিঃশর্ত মুক্তি দাবী করছি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা যোবায়ের আহমদ চৌধুরী বলেন, দেশের চলমান সঙ্কট দ্রæত নিরসন করতে না পারলে দেশ, জাতি ও ইসলাম মহাসঙ্কটে নিপতিত হবে। ইসলামের সুমহান আদর্শ সকলের কাছে তুলে ধরতে হবে। দেশ খেলাফতের আদলে চললে জমিনে শান্তি নেমে আসবে।

প্রধান বক্তা ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন বলেন, হঠাৎ করে জ্বালানী তেলের মূল্য বৃদ্ধি করে জনজীবনকে দুর্বিসহ করে তোলা হয়েছে। নৈতিক অবক্ষয় চরম আকার ধারণ করেছে। দেশ ও দেশের জনগনের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা সে ষড়যন্ত্রের অংশ। এই ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি আরও বলেন, খেলাফত মজলিস কোনরকম চরমপন্থায় বিশ্বাস করে না। খেলাফত মজলিস একটি আদর্শবাদী সংগঠন হিসেবে ধারাবাহিক কর্মসূচি নিয়ে দেশ ও জনগনের স্বার্থে মাঠে কাজ করছে।

মাওলানা মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন বলেন, দেশের স্বাধীনতা সার্বভ্রৌমত্ব রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।

মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী বলেন, শান্তির আদর্শ ইসলামকে সমাজে প্রতিষ্ঠা করতে হলে ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদেরকে নিজেদের জীবনে ইসলামের আদর্শ ধারণ করতে হবে। এবং সবাইকে ময়দানে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

যুগ্মমহাসচিব ড, মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সল বলেন, আল্লাহ আমাদেরকে খেলাফত প্রতিষ্ঠার কাজের দায়িত্ব দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। মানবতার কল্যাণে সবাইকে দ্বীন প্রতিষ্ঠার কাজে আত্মনিয়োগ করতে হবে।

সমাবেশে খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের-সহ গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি দাবী প্রসঙ্গ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা প্রসঙ্গ ও জ্বালানী তেল-গ্যাসসহ দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতি প্রসঙ্গে ৩টি প্রস্তাব গৃহীত হয়।

অনুষ্ঠানে ইসলামী সংগীত পরিবেশন করেন দাবানল শিল্পী গোষ্ঠীর সদস্যবৃন্দ এবং খ্যাতিমান নাশীদ শিল্পী শেখ এনাম।