ক্রিকেটের পরিভাষায় আধুনিক ও উত্তরাধুনিক কালের ইসলাম

একুশে জার্নাল

একুশে জার্নাল

ফেব্রুয়ারি ০৭ ২০১৯, ১১:১৫

মনোয়ার শামসী সাখাওয়াত

উনিশ শতকে আধুনিক পাশ্চাত্য সভ্যতার সূর্য তখন মধ্যগগণে। সেই সময়ে এই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক আধুনিক সভ্যতার মোকাবেলায় সতর্কতার সাথে কিছুটা ডিফেন্সিভ পশ্চারে ওপেনিং ব্যাটসম্যানের মত ইসলামিক ইনিংস শুরু করেছিলেন সৈয়দ জামালুদ্দিন আফগানি, মুফতি মুহম্মদ আবদুহু, রশিদ রিদা, সৈয়দ আহমদ খান, সৈয়দ আমীর আলী প্রমুখ। উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানরা যেভাবে বেশি টাফ বোলিং ফেস করতে গিয়ে ব্যাকফুটে চলে যান তেমনি এরাও কিছুটা যেতে বাধ্য হয়েছিলেন।

কিন্তু বিশ শতকের প্রথমে ও মধ্যে যখন আধুনিক যুগের ইসলামের ইনিংস বেশ কিছুটা এগিয়েছে এবং মোটামুটি একটা স্কোর জমে গেছে তখন মিডল অর্ডারে এলেন কিছু ব্যাটসম্যান, যেমন আল্লামা ইকবাল, হাসান আল বান্না, সাইয়িদ আবুল আ’লা মওদূদী, সৈয়দ আবুল হাসান আলী নাদভী, বদিউজ্জামান সাইয়িদ নূরসি, সাইয়িদ কুতুব, আয়াতুল্লাহ খোমেনি, আলি শরিয়তি প্রমুখেরা। তাঁরা আধুনিক পাশ্চাত্য সভ্যতাকে ছেড়ে কথা বলেন নি। অফেন্সিভ স্ট্রাটেজিতে সমানে চার ছক্কা মেরেছেন আধুনিক সভ্যতার দুর্বলতাগুলোর বিরুদ্ধে।

এরপরে বিশ শতকের শেষার্ধে ও একুশ শতকের সূচনায় এলেন আরো কয়েকজন ব্যাটসম্যান যারা আধুনিক যুগের ইসলামী ইনিংসকে আরও একধাপ এটাকিং পশ্চারে নিয়ে গেলেন, যেমন শায়খ আবদুল্লাহ আযযাম, উসামা বিন লাদেন, মোল্লা ওমর এবং শায়খ আনওয়ার আল আওলাকি প্রমুখ।
কিন্তু এদের বেশি এটাকিং ব্যাটিং যখন বিপর্যয় নিয়ে এল তখন আবার ইনিংসকে সংহত করতে এগিয়ে এলেন কিছু ডিফেন্সিভ ব্যাটসম্যান যেমন শায়খ ইউসুফ আল কারযাবি, তাকি উসমানি, সৈয়দ তাহিরুল কাদরী, রশিদ ঘানুশি, নাজমুদ্দিন এরবাকান, জাভেদ আহমেদ গামিদি, তারিক রামাদান প্রমুখ।

তাহলে দেখা যাচ্ছে পরিস্থিতির আলোকে এই ব্যাটিং বৈচিত্র্যের মত-ই আধুনিক ও উত্তরাধুনিক যুগের ইসলামী চিন্তার বাঁকবদল ঘটছে। ভবিষ্যতেও এইরকমই ঘটতে থাকবে।