কোরআন শরীফ পাঠরত অবস্থায় মাদরাসা শিক্ষকের ওপর হামলা

একুশে জার্নাল

একুশে জার্নাল

মে ১৫ ২০১৯, ২২:৩৭

পবিত্র কোরআন শরীফ পাঠরত অবস্থায় ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার আসলাম মোল্যা (৩৫) নামের এক ইমাম ও মাদরাসা শিক্ষকের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার জাটিগ্রাম শাহ্ আরজানিয়া হাফেজিয়া মাদরাসা ও জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।

তিনি গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার টুপুরিয়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আ. সালাম মোল্যার ছেলে।
হাফেজ আসলাম মোল্যা জাটিগ্রাম শাহ্ আরজানিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও জামে মসজিদের ইমাম ও মাদ্রাসা শিক্ষক।

গত শনিবার মাদরাসার নূরানি বিভাগের ছাত্র ওমর মোল্যা বিলম্বে মাদরাসায় প্রবেশ করার অপরাধে শাসন হিসাবে দু’টি চড় দেন মাদরাসার ঐ শিক্ষক। পরে বিষয়টি মাদরাসা ছাত্র ওমর ফারুক বাড়ীতে গিয়ে তার মায়ের নিকট বিষয়টি জানান।

বিষয়টিতে তার মা ক্ষুব্ধ হয়ে পার্শ্ববর্তী গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার খায়েরহাট গ্রামের তার ছোট ভাই মো. আরিফ সিকদারকে ঘটনাটি জানায়। পরবর্তীতে ঘটনার সময় আরিফ শিকদার তার চাচাতো ভাই তাজিম, সাদিক, আলম ও সাকিবসহ পাঁচ-ছয় জনকে সাথে নিয়ে মাদরাসায় প্রবেশ করে।

তখন মাদরাসা শিক্ষক আসলাম মোল্যা মাদরাসার অভ্যন্তরে কোরআন শরীফ পাঠরত অবস্থায় ছিলেন। তখন তার ওপর হামলা করে তারা। এসময় আরিফ সিকদার হাতে থাকা ছুরি দিয়ে ইমামের মাথায় কোপ দিলে তিনি ডান হাত দিয়ে ঠেকাতে গেলে হাতের বাহুতে লেগে রক্তাক্ত জখম হয়।

এতে তিনি অসুস্থ হয়ে মাটিতে পড়ে গেলে হামলাকারীরা তার পা ধরে টেনে মাদরাসার বাইরে নিয়ে যায়। ফলে তিনি বিবস্ত্র হয়ে পড়ে। আসলামের চিৎকারে মাদরাসার পার্শ্ববর্তী বাড়ীর রবিউল মোল্যার গর্ভবতী স্ত্রী শোভা বেগম ঠেকাতে এলে তিনিও আহত হয়।

পরে তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে হামলাকারীরা পরবর্তীতে মাদরাসা শিক্ষকের হাত কেটে নেওয়ার হুমকি দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়।

এ সময় আশপাশের লোকজন ইমামকে শিক্ষককে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে তাকে গোপালগঞ্জ মেডিকেলে পাঠানো হয়। আর আহত নারীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।

জানতে চাইলে ওমর মোল্যার নানা ও হামলাকারী আরিফের বাবা আশরাফ শিকদার ছেলের অন্যায়ের কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, আমার ছেলে অন্যায় করেছে। আমি মাদরাসা কমিটির লোকদের বলেছি এর সুষ্ঠু বিচার দিবো।

এ ব্যাপারে আলফাডাঙ্গা থানা ভারপ্রাপ্ত কমকর্তা (ওসি) মো. রেজাউল করিম বলেন, মোবাইলে অভিযোগ পেয়েছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।