কোরআনের উপর জুতা তোলায় বক্তার বিরুদ্ধে মামলা

একুশে জার্নাল

একুশে জার্নাল

February 18 2020, 08:02

ওয়াজের স্টেজে পবিত্র কোরআন শরীফের উপর জুতা তুলে দেশের জনপ্রিয় ওয়ায়েজ আল্লামা হাফিজুর রহমান সিদ্দিক কুয়াকাটাকে কুত্তার বাচ্চা, নাস্তিক ও দেশ থেকে তাড়ানোর হুমকি দেওয়া জামায়াত শিবির সমর্থক মাসুদ ইবনে মুজিবের বিরুদ্ধে কোরআন অবমাননার মামলা করেছেন কলরব শিল্পীগোষ্ঠীর প্রধান পরিচালক আবু সুফিয়ান।

জানা যায়, গত ১৫ ফেব্রুয়ারী মাওঃ মাসুদ ইবনে মুজিব ফারুকী নামের জনৈক বক্তা এক মাহফিলে স্টেজে ওয়াজ করার সময় প্রকাশ্যে জনসম্মুখে আল কোরআনকে টেবিলের উপরে রেখে তার নিজ পায়ের জুতা খুলে হাফিজুর রহমান নামের অপর বক্তাকে কুত্তার বাচ্চা, নাস্তিক এবং দেশ থেকে তাড়ানোর হুমকি দিচ্ছে। এসময় তিনি বারবার কর্কটভাষায় বলেন তোমার গালে জুতা মারি!

এতে কোরআন অবমাননা এবং সামাজিক শান্তি শৃংখলা বিনষ্টের অভিযোগ এনে ঐ বক্তার বিরুদ্ধে ঢাকার সিএমএম আদালতে মামলা করেন আবু সুফিয়ান।

মামলার বিবরণে জানা যায়, বাংলাদেশের সময়ের জনপ্রিয় আলোচিত বক্তা মাওলানা হাফীজুর রহমান ছিদ্দীক সাহেবের সারাদেশে গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা দেখে হিংসাত্মক মনোভাব নিয়ে অশালীন কুরুচিপূর্ণ ও নোংরা ভাষায় গালিগালাজ করে। তার নাম উল্লেখ করে বক্তা নিজ পায়ের জুতা উত্তোলন করে পবিত্র গ্রন্থ আল কোরআনের উপরে তুলে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করে। যাহা একজন বক্তার মুখে কখনো শোভা পায় না।

মাওলানা হাফীজুর রহমান ছিদ্দীক সাহেব সময়ের আলোচিত সম্মানিত জনপ্রিয় দ্বীনের দাঈ। তাকে এভাবে প্রকাশ্যে অসম্মান করা সুস্থ মানসিকতার পরিচয় বহন করে না। তিনি যখন জুতা উত্তোলন করেন তখন টেবিলের উপর মহাগ্রন্থ আল কোরআন ছিলো। আল কোরআনকে টেবিলের উপর রেখে জুতা উত্তোলন নিঃসন্দেহে আল কোরআনকে অবমাননার শামিল। তিনি মাওলানা হাফীজুর রহমানকে হুমকি দিয়ে বলেন, তুমি এদেশে থাকতে পারবে না, এদেশ হতে চলে যাও৷

জনৈক বক্তার এহেন কথাবার্তায় প্রমাণ হয়, তিনি বিশেষ একটি দলের এজেন্ট হয়ে কাজ করছেন। তার এই বক্তব্য প্রদানের কিছুক্ষণের মধ্যেই অনলাইন জগতে ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়।
সারাদেশে এনিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। চারিদিক থেকে আওয়াজ উঠে কথিত বক্তাকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার।

সোস্যাল মিডিয়ায় মাসুদ ইবনে মুজিবকে জামায়াত শিবিরের লোক দাবী করে তাকে গ্রেফতারেরও দাবী উঠে।
তার বক্তব্যে জামায়াত সমর্থিত আরেক সমালোচিত বক্তা আজহারীকে দেশ থেকে তাড়ানোর পিছনে কওমি ওলামায়ে কেরামকে দোষারোপ করেন ওয়ায়েজ।

তার এই কুরুচিপূর্ণ ও আক্রমণাত্মক বক্তব্যে গোটা ধর্মীয় অঙ্গন থেকে দাবী আসছে তাকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি প্রদান করা করার।