কৃতজ্ঞ মানুষ আল্লাহর কাছে প্রিয়

একুশে জার্নাল

একুশে জার্নাল

আগস্ট ২১ ২০১৯, ২৩:১৮

এহসান বিন মুজাহির

কৃতজ্ঞ মানুষ আল্লাহর কাছে অনেক প্রিয় এবং অকৃতজ্ঞ মানুষকে আল্লাহ ভীষণ অপছন্দ করেন। কৃতজ্ঞতাবোধ আমাদের সমাজ থেকে এখন নির্বাসিত। বরং বিপদে সাহায্য করলে অস্বীকার তো বটেই, ক্ষেত্রবিশেষে তার ক্ষতি করতেও অনেকের বিবেকে বাধে না। ফলে পরিবারে, সমাজে, অফিসে, মহল্লায় ও রাষ্ট্রে অনাচার, রেষারেষি বৃদ্ধি পেয়েছে।

কোনো উপকারের বিনিময় উপকার দেওয়া খুব জরুরি। তথাপি, প্রতিটি উপকারের বিনিময় একই ধরনের উপকার করা মানবজাতির জন্য প্রায় অসম্ভব। এ ক্ষেত্রে আমাদের মৌখিকভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে হবে। কেউ কেউ বলেছেন কোনো পুরস্কার দিতে তোমার হাত যদি সঙ্কীর্ণ হয় তাহলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য তোমার জিহ্বাকে যথেষ্ট লম্বা করো। আমাদের প্রথমে আল্লাহর কাছে এবং পরে উপকারী আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধবের কাছে কৃতজ্ঞ হতে হবে। কৃতজ্ঞ হতে হবে স্রষ্টার সৃষ্টির প্রতি।

পৃথিবীতে সব মানুষ সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে জন্মায় না। একদল মানুষ সর্বদা সুবিধা ভোগ করে যায়, মনে করে এটা আমার প্রাপ্য। কাউকে ধন্যবাদ দেয়ার কিছু নেই। কৃতজ্ঞ হতে হবে কেন? অথচ কৃতজ্ঞতা মানুষের পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধনকে আরও বাড়িয়ে দেয়। আমরা সহজেই অতীত ভুলে যাই। উপকারী লোকের সঙ্গে দেখা হলে এমন ভাব করি যেন তার সঙ্গে এই প্রথম দেখা হয়েছে। এটা মোটেও ঠিক পথ নয়। ভুল পথ। ইসলামের পথ নয়, নাফরমানির পথ। অকৃতজ্ঞ লোককে দুনিয়ার কেউ পছন্দ করে না এবং হাশরের ময়দানে কঠোর শাস্তি হবে অকৃতজ্ঞদের।

বর্তমান সময়ে পরিবারে, সমাজে এমনকি রাষ্ট্রে পারস্পরিক সমঝোতা, সহযোগিতা ও বিনয় দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। এর মূল কারণ কৃতজ্ঞতাবোধ থাকা। কৃতজ্ঞতাবোধ হৃদয়ে আন্তরিকতা এবং সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় করে।

লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট ও শিক্ষক