কুড়িগ্রামে মুক্তিযুদ্ধে প্রথম শহীদ ৫ কারারক্ষীর শাহাদত দিবস পালিত

একুশে জার্নাল ডটকম

একুশে জার্নাল ডটকম

এপ্রিল ০৭ ২০২২, ১৯:৫০

রোকন সরকার, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:  নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে কুড়িগ্রামে মুক্তিযুদ্ধে প্রথম শহীদ তৎকালীন মহকুমা কারাগারের ইনচার্জসহ ৫ কারারক্ষীর শাহাদত দিবস পালিত হয়েছে।১৯৭১ সালের সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বর্তমান সার্কিট হাউসের সামনে তাদের লাইন করে দাঁড় করিয়ে গুলি করে নৃশংসভাবে হত্যা করেছিল। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে তৎকালীন কুড়িগ্রাম মহকুমায় এরাই ছিলেন প্রথম শহীদ।

বৃহস্পতিবার (৭ এপ্রিল) সকালে দিবসটি পালনে জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে অভিবাদন জানিয়ে শহীদদের গণকবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন

এ সময় জেল সুপার নিশাত তামান্নার সভাপতিত্বে আলোচনাসভায় বক্তব্য রাখেন একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট আইনজীবী এসএম আব্রাহাম লিংকন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রুহুল আমিন, সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল বাতেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন অর রশীদ লাল ও জেলা ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি জ্যোতি আহমদ প্রমুখ।

সেদিনের শহীদদের মধ্যে কারারক্ষী সাজ্জাদ হোসেন, লাল মোহাম্মদ প্রামাণিক, আনছার আলী আকন্দ ও জহির উদ্দিন- এই ৪ জনকে কারাগারের নিরাপত্তাপ্রাচীরের বাইরে পূর্ব দিক ঘেঁষে গণকবর দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া কারাগারের ইনচার্জ হেদায়েত উল্ল্যাহকে কারাগার লাগোয়া সাবেক পৌর চেয়ারম্যান আব্দুস সালামের বাড়ির আঙিনায় সমাহিত করা হয়েছিল। সেদিন ৬ জনের মধ্যে ঘটনাস্থলে নিহত হন ৪ জন। আর গুরুতর আহত হন ইনচার্জ হেদায়েত উল্ল্যাহ ও কারারক্ষী আবদুল জলিল পাইকার। এর মধ্যে ইনচার্জ হেদায়েত উল্ল্যাহ ওইদিন মধ্যরাতে মৃত্যুবরণ করেন। আর গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হওয়ার পরও ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান কারারক্ষী আবদুল জলিল পাইকার।

কারাগারের সংলগ্ন ব্যাপারী পাড়ার অধিবাসী বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন অর রশীদ লাল জানান, ১৯৭১ সালের ৭ এপ্রিল পর্যন্ত কুড়িগ্রাম মহকুমা কারাগারে হাজতি এবং সাজাপ্রাপ্ত কয়েদিরা ছিলেন। তাদের পাহারায় ছিলেন কারারক্ষীরা। কারাগারের সামনে উড্ডীয়মান ছিল মানচিত্রখচিত স্বাধীন বাংলার পতাকা। এ অবস্থায় ৭ এপ্রিল বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পাক বাহিনী ট্রেনে চড়ে রংপুর থেকে কুড়িগ্রামে আসে। এরপর তারা বর্তমান সার্কিট হাউসের সামনের রাস্তায় দাঁড়িয়ে (তখন সার্কিট হাউস ছিল না) প্রায় ২০০ মিটার দূরে অবস্থিত কারাগারে দায়িত্ব পালনরত কারারক্ষীদের হুইসেল বাজিয়ে এবং হাত দিয়ে ইশারা করে ডেকে আনে। এরপর কোনো কথা না বলে তাদের লাইন করে দাঁড় করে গুলি করে হত্যা করে পাক বাহিনী। তারপর আবার ট্রেনে চড়ে রংপুরে ফিরে যায় পাক বাহিনী।

এদিকে পাক বাহিনী চলে যাওয়ার পর বাসায় লুকিয়ে থাকা কারাগার ইনচার্জ হেদায়েত উল্ল্যাহর স্ত্রী স্বামীর কোমরে গুঁজে রাখা চাবি নিয়ে এসে কারাগার খুলে দেন। এরপর কারাগারে থাকা হাজতি-কয়েদিদের সাহায্যে শহীদ কারারক্ষীদের গণকবর দেন।