কুড়িগ্রামে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, ভাঙ্গনে সর্বস্ব হারিয়েছে শতাধিক পরিবার

একুশে জার্নাল

একুশে জার্নাল

জুলাই ০৪ ২০২১, ১৯:৫৮

রোকন সরকার , কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :

কুড়িগ্রামে পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও ধরলায় ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে নদ নদীগুলোর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ফলে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় লোকজন। ব্রহ্মপুত্রের নুনখাওয়া ও চিলমারী দুটি পয়েন্টে পানি বাড়ছে দ্রুত।

তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৩৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও নদীসংলগ্ন ৩০টি চরের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। দুধকুমার নদের পানি (নুন খাওয়া পয়েন্টে) ২৫.৯৮ সেন্টিমিটার বিপদ সীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।ব্রহ্মপুত্র অববাহিকতার বেশ কয়েকটি চরের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পাট, বীজতলাসহ ফসলের ক্ষেত ডুবে গেছে।

সীমান্তবর্তী ভুরুঙ্গামারী উপজেলায় ভারি বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে ধরলা, দুধকুমার কালজানী ও গদাধর নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে উপজেলার পাইকের ছড়া চরভূরুঙ্গামারী, তিলাই, বঙ্গ সোনাহাট, বলদিয়া, ভূরুঙ্গামারী সদর ও আন্ধারিঝাড় ইউনিয়নের চরাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে কয়েক হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে স্বল্প মেয়াদী বন্যার পূর্বাভাস দিয়েছেন পাউবো। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্রের ২৫টি পয়েন্টে ভাঙন তীব্ররূপ নিয়েছে। গত চার দিনে এসব এলাকায় শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

জেলার উলিপুর উপজেলায় মাত্র ৪ দিনের ব্যবধানে খরস্রোতা তিস্তা নদীর করালগ্রাসে ৬০টি পরিবার তাদের ভিটা-মাটিসহ সর্বস্ব হারিয়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়ে বৃষ্টির মধ্যে খোলা আকাশের নীচে নিদারুন কষ্টে দিনাতিপাত করছে। গোড়াইপিয়ার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, গোড়াইপিয়ার পিয়ার দাখিল মাদরাসা, গোড়াইপিয়ার জামে মসজিদসহ শতাধিক বাড়ী-ঘর এখন হুমকীর মূখে রয়েছে।

একই ইউনিয়নের হোকডাঙ্গা, বকশিবাজার এলাকায়ও ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে । থেতরাই ইউপি চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী সরকার জানান,”দীর্ঘ ১৫-২০ বছর থেকে এই এলাকাটি নদীর ভাঙ্গন থেকে নিরাপদ ছিলো। সম্প্রতি গোড়াইপিয়ারের উজানে দলদলিয়া ইউনিয়রে তিস্তানদী তীরবর্তী করপূরা এলাকায় পাউবো’র তীররক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে সেখানে স্রোত বাঁধা প্রাপ্ত হয়ে সরাসরি গোড়াইপিয়ার এলাকায় আঘাত হানলে আকস্মিকভাবে গ্রামটি নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়। ইতোমধ্যে গ্রামটির প্রায় ৬০টি বাড়ি তিস্তার গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। এখন মাত্র ২০ গজের মধ্যে ভাঙ্গনের অপেক্ষায় রয়েছে গোড়াইপিয়ার পিয়ারিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, গোড়াইপিয়ার পিয়ারিয়া দাখিল মাদ্রাসা, গোড়াইপিয়ার জামে মসজিদ।” একই উপজেলার বজরা ইউনিয়নের পশ্চিম বজরা, কাশিমবাজারে তীব্র ভাঙ্গনের সাথে সাথে গুনাইগাছ ইউনিয়নের নন্দু নেফড়া কাজির চক এলাকায়ও ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে।

একই চিত্র রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নেও। সেখানেও তিস্তা স্বপ্ন ভেঙেছে অর্ধশত পরিবারের। সদর উপজেলার সারডোবের বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধটির কিছু অংশ ভেঙে যাওয়ায় ৫০টি গ্রাম নদীর পানিতে প্লাবিত হয়েছে। চরম দূর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন সেখানকার মানুষজন।

কুড়িগ্রামের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র রায় জানান, “গতকাল শনিবার থেকে আজ রোববার সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘন্টায় জেলাজুড়ে ২৮.০৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। মধ্য জুলাই পর্যন্ত হালকা থেকে মাঝারি ও কোনো কোনো সময়ে ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভবনা রয়েছে।”

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম জানান,” মধ্য জুলাইয়ের আগে বড় বন্যার আশঙ্কা নেই। জেলায় ২৫টি পয়েন্টে নদী ভাঙন চলছে। এর মধ্যে দুই-একটি পয়েন্ট বাদে বাকি অংশে জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা করা হচ্ছে।”

বন্যার আগাম পূর্বাভাসে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। সম্ভাব্য বন্যা মোকাবিলার বিষয়ে প্রস্তুতি নিয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানান,”স্থানীয় প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যেন বন্যা মোকাবিলায় বিভিন্ন বিভাগগুলো প্রস্তুত থাকে। বন্যা পরিস্থিতিতে প্রয়োজনে বন্যা কবলিত মানুষদের উদ্ধার করে যেন আশ্রয়কেন্দ্রসহ নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া যায় সে প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।পাশাপাশি উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের পর্যাপ্ত চাল এবং টাকা বরাদ্দ দেওয়া আছে।”