কুড়িগ্রামে ইভিএম বুঝাতে ধীরগতিতে হচ্ছে ভোট, ভোট দিয়ে স্বস্তি ভোটারদের 

একুশে জার্নাল ডটকম

একুশে জার্নাল ডটকম

জানুয়ারি ৩১ ২০২২, ১৬:১৫

রোকন সরকার, কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা: সারাদেশের ন্যায় ষষ্ঠ ধাপের ইউপি নির্বাচনে ভোট গ্রহণ চলছে কুড়িগ্রামের দুটি উপজেলায়। চিলমারী এবং ভুরুঙ্গামারী উপজেলায় প্রথমবারের মতো ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট প্রদান নিয়ে ভোটারদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। নতুন এই পদ্ধতিতে ভোট প্রদানে অভিজ্ঞতার অভাবে সময় লাগছে ভোটারদের।

ভোটারদের ইভিএম মেশিনে ভোট প্রদানের পদ্ধতি বুঝাতে গিয়ে সময় লাগছে ভোট গ্রহণের ক্ষেত্রে। এর ফলে প্রভাব পরছে ভোট গ্রহন প্রক্রিয়ায়। লাইনে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে ভোটারদের। বিশেষ করে নারী ভোটারদের ভোগান্তি বেশি লক্ষ্য করা গেছে।

অপরদিকে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট প্রদানের পর স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ভোটাররা। লাইনে সময় লাগলেও ভোট দিতে কোন অসুবিধা হয়নি বলে জানিয়েছেন ভোটাররা।

৩১ জানুয়ারি (সোমবার) চিলমারী উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নের একাধিক ভোটকেন্দ্র ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

থানাহাট ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের পুটিমারী রুকুনোদ্দৌলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় সেই কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ২১৬১ জন হলেও ১২ টা পর্যন্ত প্রায় ৬০০ ভোট গ্রহণ হয়েছে। কক্ষের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা ভোটারদের লাইন দীর্ঘ হলেও ভোট প্রদানের সময় লাগছে জন্য কিছুটা দেরি হচ্ছে বলে জানান কেন্দ্রটির দ্বায়িত্বে থাকা প্রিজাইডিং অফিসার।

কেন্দ্রটির ভোট গ্রহণের দ্বায়িত্বে থাকা এক সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার বলেন, ভোটারদের ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট প্রদানের ব্যাপারে ধারণা না থাকায় প্রায় সবাইকে বুঝিয়ে দিতে হচ্ছে। এজন্য প্রায় দ্বিগুণ সময় বেশি লাগছে।

প্রায় ১ ঘন্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা আব্দুল গফুর(৭৫) জানান, কখনও এই মেশিন চোখে দেখিনি। কিভাবে ভোট দিবো জানিনা। ভেতরে যাই দেখি কি হয়। তবে শুনেছি ঝামেলা হয়না ভোট দিতে।

প্রায় দেড় ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে ভোট দিয়ে আসা দামিরন বেগম(৪৫) জানান, প্রথমে ভয় লাগছিলো, কোথায় ভোট দেই আর কোথায় যায় এটা নিয়ে চিন্তায় ছিলাম। এখন দেখছি ভালোভাবেই ভোট দেয়া যায়।

ছেলের সহযোগিতা নিয়ে ভোট দিয়ে আসার পর বৃদ্ধ কিসমত আলী(৮৫) জানান, কাগজে চেয়ে হামার মেশিনে ভালো। ঝামেলা কম হয়।

কেন্দ্রটির প্রিজাইডিং অফিসার আবু মোতালেব বলেন, নির্বাচনে ধীরগতি হলেও অন্য কোন ধরনের সমস্যা ছাড়াই ভোটগ্রহণ চলছে। যাতে ভোটাররা দ্রুত ভোট দিতে পারেন সে ব্যাপারে আমার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।