করোনা সংকট উত্তরণে ইমাম ও খতীবদের করণীয়

।। সৈয়দ শামছুল হুদা ।। 

বিপুল জনসংখ্যার এই দেশে জনগণ যখন চরমভাবে দিশেহারা তখন আমি মনে করি, এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে ইমাম ও দাঈদের। সরকারের প্রতি, সরকারী ব্যবস্থাপনার প্রতি, বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা ও মিডিয়ার প্রতি জনগণের যে আস্থার সংকট রয়েছে তা আমরা সকলেই অনুভব করি। তাই আমার দেশের সম্মানিত ইমাম ও দাঈগণের প্রতি আবারো কিছু নিবেদন করতে চাই।

* দেশের সকল মসজিদে স্বপ্রণোদিত হয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করুন।আমাদের দেশের মসজিদ সমূহের সাথে দেশের মানুষের রয়েছে গভীর সম্পর্ক। গত দু’দিন যাবৎ লক্ষ্য করছি,মসজিদে মুসুল্লি অনেক বেড়ে গেছে। সে জন্য মসজিদগুলোকে নিরাপদ রাখার স্বার্থে মসজিদের সকল কার্পেট সরিয়ে ফেলুন।

* প্রতিদিন পাঁচওয়াক্ত নামাযের পর বিশেষভাবে ফ্লোর পরিস্কার করার উদ্যোগ নিন। ওযুখানা, টয়লেট, সিড়ি, পাপোষ রাখার জায়গা, সবকিছু নিখুতভাবে পরিস্কার করতে প্রয়োজনে এলাকার যুবসমাজের সহযোগিতা নিন। অনেক জায়গায় খাদেমের অভাব রয়েছে। এজন্য মুসুল্লিদেরকে স্বেচ্ছাসেবি হিসেবে কাজ করতে তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করুন।

* নামাযে মিশে মিশে না দাঁড়িয়ে একটু ফাঁক রেখে কাতারবদ্ধ হতে উৎসাহিত করুন। মসজিদের জমায়েতকে নিষিদ্ধ করার আগেই নিজেরা সতর্ক হোন। গায়ে গায়ে, লেগে লেগে দাঁড়ানোর মাসআলা পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত সবাইকে মেনে চলতে উৎসাহিত করুন।

* অযু করার পরপর কেউ যেন কাউকে স্পর্শ না করে সে বিষয়ে সকলকে সতর্ক করুন। মুসুল্লিদের বাসা-বাড়ি থেকে অযু করে আসতে উদ্ধুদ্ধ করুন।

 

* স্বাভাবিক ঠান্ডা, সর্দি, কাশি হোক বা সম্ভাব্য করোনার লক্ষণ হোক এই ধরণের কোন রোগি যেন পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত মসজিদে না আসে তা নিশ্চিত করুন।

* জনগণের সহযোগিতায় সকল মসজিদের অযুখানা ও টয়লেটে হারপিক, সাবান, টয়লেট পেপার ব্যবস্থা করুন। জনগণকে এ ব্যাপারে সহযোগিতা করতে উদ্বুদ্ধ করুন। জনগণকে ভাইরাসের ভয়াবহতা সম্পর্কে বুঝাতে পারলে তারা স্বেচ্ছায় এসব ব্যাপারে সহযোগিতা করবে আশা করা যায়।

* কিছু মানুষ মসজিদে গমনকে নিরুৎসাহিত করতে চায়। পারলে তারা মসজিদে তালা মেরে দিতে চায়। এ জন্য নিজেদের থেকেই এসব উদ্যোগ নিন। তাহলে সকলেই উপকৃত হবে ইনশাআল্লাহ।

* বিশ্বের অন্যান্য দেশের ইসলামিক স্কলারদের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করুন। বিশেষ করে মুফতি তাকী উসমানি সাহেব যে সকল সিদ্ধান্ত কুরআন ও হাদীসের আলোকে বর্তমান সংকট মোকাবেলায় জানাচ্ছেন তা সকলে অনুসরণ করার চেষ্টা করুন।

* অনেক ইমাম সাহেব আছেন যারা স্যোসাল মিডিয়ার সাথে সম্পর্ক রাখেন না। বা মিডিয়া থেকে দূরে। তারা অনেক কিছুই জানেন না। দয়া করে তাদেরকে জানাতে চেষ্টা করুন। বুঝাতে চেষ্টা করুন।

* অনেক ইমাম ও মুয়াজ্জিন আবেগের সাথে কথা বলেন। বাস্তবতা সম্পর্কে উনাদের অনেকের ধারণা না থাকায় ধারণার জোরে কথা বলেন। এদেরকে দয়া করে বাস্তবতা বুঝাতে উদ্যোগ নিন। এদের উল্টা-পাল্টা বক্তব্যের কারণে অনেক আলেমকে গালি শুনতে হয়।

* দেশের সকল মসজিদে করোনা ভাইরাস বিষয়ে জনগণকে সতর্কতা অবলম্বনের আহবান জানিয়ে লিফলেট ইত্যাদি বিতরণ করতে পারেন। মসজিদ মহল্লায় গণসচেতনতা তৈরী করুন।

* মসজিদে মসজিদে স্বেচ্ছাসেবি বাহিনী গঠন করুন। আল্লাহ না করুন কোন মহল্লায় এই ভাইরাসের ভয়াবহ প্রকোপ শুরু হয়ে গেলে যেন আপনারাই তাদের নিয়ে করণীয় কাজে নেতৃত্ব দিতে পারেন।

* দেশের দাঈগণের প্রতি বিশেষ আহবান, আপনারা আন্তর্জাতিক দুনিয়ার ইসলামিক স্কলারদের বর্তমান তৎপরতা পর্যবেক্ষণ করে বাংলাদেশের মুসলমানদের করণীয় বিষয়ে সময়ে সময়ে জাতিকে ব্রিফিং করুন। মানুষ যেন হতাশ হয়ে না পড়ে, মানুষ যেন আল্লাহ মুখি হতে পারে, সে দিকে বিশেষভাবে উদ্যোগ নিন।

* অতীতেও মানবজাতির ওপর দিয়ে এমন ভয়াবহ দিন গিযেছে। সেই সব ঘটনা মানুষকে স্মরণ করিয়ে সতর্কতা অবলম্বনে করণীয় কি তা আলোচনা করুন। মানুষ যেন আল্লাহকে ভুলে না যায়, দ্বীনের ফরযিয়্যাত ভুলে না যায়। এসব বিষয়ে অবহিত করুন।

* দেশের চিকিৎসকগণের সাথে যোগাযোগ রাখুন। তাদের পরামর্শ গ্রহন করুন। প্রয়োজনে দায়িত্বশীল চিকিৎসকদের মসজিদে এনে মুসুল্লিদের সামনে তাদেরকে আলোচনার সুযোগ করে দিন। কোন রাজনীতিবিদকে তাদের বাগাড়াম্বর শোনানোর জন্য মসজিদে কোন আলোচনার সুযোগ দিবেন না।

লেখক: জেনারেল সেক্রেটারী

বাংলাদেশ ইন্টেলেকচুয়াল মুভমেন্ট (বিআইএম)