করাচিতে সন্ত্রাসী হামলা করিয়েছে ভারত: ইমরান খান

একুশে জার্নাল

একুশে জার্নাল

জুলাই ০১ ২০২০, ১০:৫৬

করাচি স্টক এক্সচেঞ্জে চালানো হামলার নেপথ্যে ভারত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। মঙ্গলবার (৩০ জুন) পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, এ বিষয়ে পাকিস্তানের কোনো সন্দেহ নেই। ইমরান খানের দাবি, ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলার মতো ঘটনা করাচিতে ঘটাতে চেয়েছিল ভারত। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডনের প্রতিবেদন থেকে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য জানা গেছে।

গত সোমবার (২৯ জুন) সকালে হামলার কবলে পড়ে পাকিস্তানের করাচি স্টক এক্সচেঞ্জ ভবন। চার সশস্ত্র হামলাকারী ভবনের প্রবেশমুখে গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিরাপত্তাকর্মী ও কর্মকর্তাদের ওপর গুলিবর্ষণ শুরু করে। এতে তিন নিরাপত্তা কর্মী এবং পুলিশের এক সাব-ইন্সপেক্টর নিহত হয়। পরে নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা অভিযানে হামলাকারীদের মৃত্যু হয়।

ওই ঘটনার জন্য ভারতকে দায়ী করে মঙ্গলবার পার্লামেন্টে পাক প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুম্বাইয়ে যা ঘটেছিল, সেই একই ঘটনা তারা করাচিতে ঘটাতে চেয়েছিল; তারা অনিশ্চয়তা ছড়াতে চেয়েছিল। আমাদের কোনো সন্দেহ নেই যে, এটা ভারত করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ২০০৮ সালে মুম্বাইয়ের সন্ত্রাসী হামলার দিকে ইঙ্গিত করে মন্তব্যটি করেছেন। ওই হামলায় ১৬০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। ওই হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে থাকে ভারত।

করাচির হামলায় নিহত পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষী প্রশংসা করে তাদের ‘পাকিস্তানের বীর’ আখ্যা দেন ইমরান খান। তিনি বলেন, তারা আত্মবিসর্জন দিয়ে বড় ধরনের ঘটনা প্রতিহত করেছে। আমাদের অস্থিতিশীল করতে ভারত ওই ঘটনার পরিকল্পনা করেছিল।

হামলাকারীদের কাছে বিপুল অস্ত্র ও বিস্ফোরক ছিল জানিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, তারা বহু মানুষ জিম্মি করতে চেয়েছিল। ইমরান খান বলেন, আমার মন্ত্রিসভা এবং মন্ত্রীরা সকলেই জানেন, আমাদের সব সংস্থাই অতিরিক্ত সতর্ক রয়েছে। আমাদের সংস্থাগুলো অন্তত চারটি বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার চেষ্টা প্রতিহত করেছে। এরমধ্যে দুটি ইসলামাবাদে চালানোর চেষ্টা হয়। তিনি বলেন, আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত… এটা আমাদের বিশাল জয়।

উল্লেখ্য, সোমবারের হামলার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এর দায় স্বীকার করে পাকিস্তানে বেআইনি ঘোষিত বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। সশস্ত্র এই গোষ্ঠীটি বেলুচিস্তানের স্বাধীনতার দাবিতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। যদিও হামলার পর সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পাকিস্তানের প্যারামিলিটারি রেঞ্জার্সের প্রধান বলেন, এর মধ্য দিয়ে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা র’য়ের বড় ধরনের হতাশার প্রতিফলন দেখা গেছে।