ওসমানীনগরে কঠোর লকডাউনে হার্ডলাইনে পুলিশ

একুশে জার্নাল ডটকম

একুশে জার্নাল ডটকম

জুলাই ০১ ২০২১, ২১:১০

আহমদ মালিক, ওসমানীনগর প্রতিনিধি: কোভিড সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে সারাদেশে সাত দিনের সর্বাত্মক লকডাউন শুরু হয়েছে। সকাল থেকে সারাদেশে পুলিশ, র‌্যাবসহ সেনাবাহিনীর সদস্যরা মাঠে রয়েছেন।

সারাদেশের ন্যায় সিলেটের ওসমানীনগরে শুরু হয়েছে কঠোর লকডাউন। করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির ফলে ৭ দিনের কঠোর লকডাউনের প্রথম দিনে আজ বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও তৎপর রয়েছেন। ওসমানীনগর উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রয়েছে পুলিশের চেকপোস্ট। আর এসব চেকপোস্টে জরুরি পরিসেবার যানবাহন ছাড়া সবকিছু ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে। সকাল থেকে ওসমানীনগরের বিভিন্ন বাজারের অলিগলি সহ চেকপোস্ট এলাকা ফাঁকা । তাছাড়া ঢাকা সিলেট মহাসড়কের আগের দিনের তুলনায় দয়ামীর, তাজপুর , গোয়ালাবাজার,শেরপুরে মানুষের উপস্থিতি ছিল কম । সেনাবাহিনীর সদস্যদের গাড়ি নিয়ে টহল দিতে দেখা গেছে।

ভয়ঙ্কর করোনা মহামারী থেকে রক্ষা পেতে সমস্ত কার্যক্রমের পাশাপাশি জনসচেতনতায় বাজারে বাজারে মাইকিং করে পুলিশ প্রশাসন সবাই একে অন্যকে সহযোগিতা করার জন্য করোনামুক্ত সমাজ গড়ার আহবান জানান।

সিলেট জেলার প্রবেশপথ ওসমানীনগর উপজেলার শেরপুর টোল প্লাজায় সারিবদ্ধ গাড়ীর কোন যানজট নেই। শেরপুর টুল প্লাজায় আসা যাওয়া অনেকেই পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়েন। অহেতুক বাইরে আসায় অনেককেই বাসায় ফিরিয়ে দেয় পুলিশ। প্রয়োজন ছাড়া বের হওয়ায় অনেককে যানবাহন থেকে নামিয়ে দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এ সময় পথে বের হওয়া মানুষজন মাস্ক না পরায় তাদের সর্তক করে দিতে দেখা গেছে পুলিশ সদস্যদের। জরুরি পণ্যবাহী যানবাহন ছাড়া সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। কেবল অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজে ব্যবহৃত যানবাহন চলাচল করছে।

করোনামুক্ত নিরাপদ জীবনের প্রয়োজনে ওসমানীনগর সার্কেল এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম, ভুমি সহকারি কমিশনার (ভূমি) জনাব আফসানা তাসলিম ও ওসমানীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ শ্যামল বণিক দিনব্যাপী সিলেটের প্রবেশদ্বার ওসমানীনগরের শেরপুর টোলপ্লাজা সহ বিভিন্ন স্থানে কর্ম ব্যস্ততায় ছিলে।

সরকার ঘোষিত সর্বাত্মক লকডাউন সফল করতে মানুষকে ঘরে থাকায় উদ্বুদ্ধ করতে মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন, সাধারণ মানুষ যাতে লকডাউনে অপ্রয়োজনে ঘরের বাইরে বের না হন, সে ব্যাপারে কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল বিক্রি করা প্রতিষ্ঠান ও রেস্তোরাঁগুলোর জন্য নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। রেস্তোরাঁর ভেতরে খাবার পরিবেশন করা যাবে না। ক্রেতাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাইরে থেকেই সরবরাহ করা যাবে। নির্দেশনা ভঙ্গ করলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ওসমানীনগরের অধিকাংশ এলাকা ছিলো জনমানবশূন্য। পুলিশ চেকপোস্ট ছাড়াও সেনাবাহিনী গাড়ি রাস্তায় দেখে গেছে। কোথাও কোথাও কয়েকজনকে দেখা গেলেও আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা তাদের বুঝিয়ে ঘরে যেতে বলছেন।

ব্যক্তিগত গাড়ি দেখা গেলে, গাড়িগুলো দাঁড় করিয়ে বাইরে বের হওয়ার কারণ জানতে চেয়েছে পুলিশ।

সাদিপুর এলাকার রিকশাচালক সানোয়ার বলেন, এতদিন তো রিকশা চালাতে পেরেছি। আজ তো বাস্তায় কোনো মানুষ নেই। কী করে সংসার চালাব।

এলাকার সিএনজি অটোরিকশা চালক তৈয়ব আলী বলেন, রাস্তাঘাট ফাঁকা। কোনা যাত্রী নেই। সামনের দিনগুলো কেমন চলবে?

প্রসঙ্গত, জনসাধারণ ও যানবাহন চলাচল এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পরিচালনার বিষয়ে কঠোর বিধি-নিষেধ ও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে বুধবার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

এবার লকডাউন কঠোরভাবে বাস্তবায়নে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও আনসারসহ সেনাবাহিনী মাঠে রয়েছে।