এক মসজিদ থেকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেন ১৫৫৭ জন!

ডক্টর মাওলানা শামসুল হক সিদ্দিক:

সোনাগম্বুজ মসজিদের ( Seri Petaling Mosque) বাইরে প্যাকড তাঁবুতে শুয়ে পড়েন মুসল্লিরা। ভোরে তারা ঘুম থেকে ওঠেন, এবং মসজিদটির কেন্দ্রীয় হলের সম্মুখে সারি সারি সাজানো নামাজের বিছানাগুলোয় সিজদায় অবনত হওয়ার জন্য হেঁটে যান। আর এ পুরোটা সময় জুড়েই সবার দৃষ্টি এড়িয়ে করোনাভাইরাস ঘুরে বেড়ায় অতিথিদের মাঝে শানিত-প্রাণিত-ফুরফুরে মেজাজে।

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের উপকণ্ঠে বিস্তৃত মসজিদ কমপ্লেক্সে গত মাসের শেষের দিকে অনুষ্ঠিত হয় ষোল হাজার মুসুল্লির (তাবলিগি ইজতেমা), যা পরিণিত হয় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কয়েকশো মানুষের করোনভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার হটপটে।

মঙ্গলবার এই ইভেন্টে অংশ নেওয়া ৩৪ বছর বয়সী এক মালয়েশীয় ঢলে পড়েন মৃত্যুর কোলে। চলে যান না ফেরার দেশে। মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী আদহাম বাবার ভাষ্যমতে, মালয়েশিয়ার ৬৭৩ জন নিশ্চিত করোনাভাইরাস আক্রান্তদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই চারদিনের ওই ইজতিমার সাথে জড়িত। কে প্রথমে ভাইরাসটি নিয়ে এসেছিল তা পরিষ্কার নয়। (রয়টার্স – https://tinyurl.com/yx57vkjb)

কাঁধে কাঁধ
সোশ্যাল মিডিয়ার ছবি থেকে দেখা যাচ্ছে মুসল্লিরা কাঁধে কাঁধ লাগিয়ে মসজিদে নামাজ পড়ছেন। পরস্পরে খাবার শেয়ার ছবিও মেহমানদের কেউ কেউ পোস্ট করেছেন। মালয়েশিয়ার অধিবাসী কয়জন তা পরিষ্কারভাবে জানা নেই। তবে পুরো দক্ষীণপূর্ব এশিয়া জুড়ে ওই ইজতিমার সাথে সংযুক্ত লোকদের করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা প্রতিদিনই ভেসে আসছে।
‘আমরা একে অপরের কাছাকাছি বসি’ ৩০ বছর বয়সী কম্বোডীয় একব্যক্তি কম্বোডিয়ার বাটাম্বাঙ্গ জিলায় অবস্থিত একটি হাসপাতাল থেকে বললেন, যেখানে তিনি করোনা পজিটিভ টেস্টের পর চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।

ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের লোকদের সাথে মুসাফাহা করা হয়। যখন আমার কারও সাথে দেখা হয়েছে, মুসাফাহা করেছি। এটা ছিল স্বাভাবিক। আমি জানি না কার মাধ্যমে আমি সংক্রমিত হয়েছি।
উক্ত সম্মেলন নেতাদের কেউই হাত ধোয়া সম্পর্কে কিছু বলেননি। করোনাভাইরাস ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যাপারেও তারা কিছু বলেননি। তবে অধিকাংশ মেহমানগণ নিয়মিত হাত ধৌত করেছেন। দুইজন মেহমান এমনটি বললেন। শরীরের অন্যান্য অংশের সাথে হাত ধোয়া মুসলিম ইবাদতের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
কম্বোডিয়া থেকে আরেকজন অংশগ্রহণকারী বললেন, বিভিন্ন দেশের মেহমানগণ খাবার প্লেট শেয়ার করেন।

ওই সম্মেলনের সাথে জড়িত ৫০ জন ব্রুনাইয়ের নাগরিক আক্রান্ত হওয়ার কথা বলেছে সরকার। ব্রুনাইয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৫৬ জন। ওই সম্মেলন থেকে আক্রান্ত হয়েছে সিঙ্গাপুরের পাঁচজন। কম্বোডিয়ার ১৩ জন, এবং থাইল্যাণ্ডের দুইজন।
(আল-জাজিরা ডট কম- https://tinyurl.com/rar6bhs )

ফলোআপ নিউজ-
অধিক সংখ্যক মুসল্লিদের খুঁজে বের করার সময় মালয়েশিয়ায় করোনাভাইরাস আক্রান্তদের সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
————————————-
রয়টার্স, তারিখ: ২১ মার্চ ২০২০
মালয়েশিয়ায় করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের সংখ্যা বেড়ে গিয়ে গত শনিবার ১১৮৩-তে ওঠে গেছে। মৃত্যুবরণ করেছে ৮ জন। কর্তৃপক্ষ আগামী সপ্তাহে হঠাৎ ঊর্ধ্বগতির আশঙ্কা করছেন। একটি বৃহত্তর ধর্মীয় সমাবেশে যোগ দেওয়া লোকদের খুঁজে বের করার সময় তারা এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী শনিবার আরও পাঁচজনের মৃত্যু এবং নতুন ১৫৩ জনের আক্রান্ত হওয়ার কথা রিপোর্ট করেন। এদের মধ্যে ৯০ জন ওই মসজিদের ইভেন্টের সাথে যুক্ত ছিলেন দুই ডজনেরও অধিক দেশ থেকে মুসল্লিরা ওই সম্মলেনে অংশ নিয়েছিলেন।

তাবলিগ জামাতের চারদিনব্যাপী ওই ইভেন্ট থেকে, যা রাজধানী কুয়ালালামপুরের কাছে একটি মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, বর্তমানে ৭১৭ মালয়েশীয়- যা মোট আক্রান্তদেও ৬০% – এবং দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় ৮৪০ জন আক্রান্ত হয়েছে।
– রয়টার্স- https://tinyurl.com/tqhuzy5 )