একাত্তর টিভির সিনিয়র সাংবাদিকের বিরুদ্ধে শিশু বলাৎকার চেষ্টার অভিযোগ

একুশে জার্নাল

একুশে জার্নাল

ডিসেম্বর ২৬ ২০২০, ২৩:০১

আবির আবরার:

সহকর্মী সাংবাদিকের আট বছরের শিশু পুত্রকে ধর্ষণচেষ্টা এবং নিপীড়নের অভিযোগ পাওয়া গেছে সাংবাদিক হোসেন সোহেলের বিরুদ্ধে। ভিকটিমের বাবার করা এক লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, হোসেন সোহেল ওই সাংবাদিকের বাসায় এক পার্টিতে অংশ নিয়েছিলো। আড্ডার এক পর্যায়ে রাত চারটায় ওই সাংবাদিকের আট বছরের শিশু সন্তানকে একা পেয়ে স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিতে থাকে। ওই শিশুর প্যান্টও খুলে ফেলে সোহেল। এসময় ওই শিশু চিৎকার করে বলে, আপনি আমার প্যান্ট টানছেন কেনো, You gay, psycho, sick.

এসময় ওই শিশুর বাবা ঘরে ঢুকে দেখে সোহেলেরও প্যান্ট-শার্ট খোলা। ওই শিশুর সাংবাদিক বাবা, যিনি নিজেও একাত্তর টিভিতে কর্মরত, তিনি বিচার চেয়ে টিভি কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন। ঘটনার সময় সোহেল মদ্যপ ছিলেন বলেও জানা গেছে।

এদিকে গত তিন দিন আগে হোসেন সোহেল তার ফেইসবুক প্রোফাইলের ওয়ালে নিজ ছেলের ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, “মনে রেখো আমারও একজন দেবদূত আছে…”

পোস্টটি দেখে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানিয়েছেন, হোসেন সোহেলের বিরুদ্ধে যে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে, সেটিকে সত্যায়ন করছে তার এই পোস্ট। তার দুই লাইনের স্ট্যাটাসটিতে এমনটাই বোঝা যায় যে, বলাৎকারের অভিযোগকারীদের যেন তিনি কিছু একটা বার্তা দিতে চান। এজন্যই তিনি এই স্ট্যাটাস দিয়েছেন এবং তার সেই বক্তব্যটি তিনি ত্রিবিন্দুতে অনুল্লেখিত রেখেছেন, যেন যারা বোঝার তারা বুঝে যান আর যারা জানে না তারা যেন কিছুই না বোঝে।

হোসেন সোহেলের বক্তব্য জানতে তার নিজস্ব ফেসবুক প্রোফাইলের ইনবক্সে মেসেজ দিয়ে উক্ত বলাৎকারের অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য চাওয়া হলে তিনি এখনও পর্যন্ত কোন উত্তর দেননি।

জানা যায়, সাংবাদিক সোহেলের যৌন নিপীড়নের ঘটনা এবারই প্রথম নয়। ওয়াইলড লাইফ ও ইনভাইরোমেন্ট নিয়ে সাংবাদিকতা করা সোহেল জঙ্গল বাড়ি ট্যুর এন্ড ট্রাভেলস নামে একটা ভ্রমণগ্রুপ পরিচালনা করতো। সেই গ্রুপের উঠতি বয়সি নারী সদস্যদের কুপ্রস্তাব ও অ্যাবিউজের অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে।

একুশে জার্নাল পাঠকদের জন্য ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া উক্ত অভিযোগপত্রটি হুবহু তুলে ধরা হলো:

২৪.১২.২০২০

বরাবর

প্রধান সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক

একাত্তর মিডিয়া লিমিটেড

মাধ্যম: প্রধান বার্তা সম্পাদক

বিষয়: আমার ছেলের প্রতি যৌন নিগ্রহের ঘটনা প্রসঙ্গে

জনাব,

আমি দীর্ঘ দশ বছর ধরে আপনার প্রতিষ্ঠানে কাজ করছি। সম্প্রতি একটি দুঃখজনক ঘটনার শিকার হয়েছি আমি। এবছরের ১১ মার্চ আমার স্ত্রীর মৃত্যুর পর থেকে আমি একাই আমার ছেলের দেখাশুনার সব ধরনের দায়িত্ব পালন করছি। মায়ের মৃত্যুর পর থেকে ছেলেটি নানা রকম ভাবে মন মরা হয়ে থাকে আর আমি চেষ্টায় থাকি তাকে উজ্জীবিত রাখার। বাসায় কোন অতিথি আসলে তাদের সাথে গল্প করতে পছন্দ করে সে। সে কারণে নানা সময়ে আমার বন্ধু ও সহকর্মীদের বাড়িতে আসতে বলি আমি। গত ১১ ডিসেম্বর রাত ৯ টা/সাড়ে ৯ টার দিকে আমার সহকর্মী হোসেন সোহেল তার দুই বন্ধুসহ আমার বাসায় আসে। আমরা আড্ডা দিচ্ছিলাম। আমি বিছানায় বসে ছিলাম। আর আমার ছেলে আমার পেছনে শুয়ে ছিল। সোহেল ও তার বন্ধুরা আমার সামনের চেয়ারে বসেছিল। আড্ডার এক পর্যায়ে সোহেল আমার ছেলের কাছে যায়। আমার সামনে বসা সোহেলের বন্ধুরা মিলে গল্প করছিলাম। হঠাৎ আমার ছেলে জোরে জোরে বলতে থাকে এই তুমি আমার প্যান্ট টানছো কেন? You gay, psycho, Sick আমি পেছনে তাকিয়ে দেখি সোহেল দাড়িয়ে প্যান্ট পরছে। তখন রাত প্রায় ৪টা। আমি বলি অনেক রাত হয়েছে, আপনারা বাসায় যান, আমরা এখন ঘুমাবো। আমার মা অসুস্থ। এই মুহূর্তে সোহেলকে কিছু বলিনি। ওরা চলে যাবার পর আমার ছেলেকে আমি জিজ্ঞেস করি, বাবা কি হয়েছে? আমার ছেলে বলে, সোহেল আমার পাছুতে হাত রাখছিল এবং আমার প্যান্ট বারবার খুলতে চাচ্ছিল এবং সে এও বলে তোমরা যখন বারান্দায় গিয়ে সিগারেট খাচ্ছিলে সোহেল তখন আমার কাছে একা ছিল, তখন সে আমাকে বলে তার বাসায় যেতে এবং মিডেল ফিঙ্গার দেখিয়ে বলে অনেক মজা হবে। আমি ঘটনা দেখে এবং ছেলের কাছ থেকে শুনে ট্রমাটাইজ হয়ে পড়ি। কি করবো বুঝে উঠতে পারছিলাম না। তিন দিন পর আমি আমার আরেক সহকর্মী শাবিবকে জানাই। সে আমাকে মিল্কি ভাই, শাকিল ভাই এবং বাবু ভাইয়ের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেয়। এরপর আমি শাকিল ভাইকে জানাই ১৭.১২.২০২০ তারিখে।

আমি চাই এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং প্রতিকার। আমি চাই আর কোনো শিশু যেন এমন ঘটনার শিকার না হয়।

নিবেদক

(ভাইরাল হওয়া অভিযোগপত্রটির নিবেদক এর স্থানে লেখা নাম ঠিকানা সবুজ কালি দিয়ে ঢাকা ছিল।)

এই সেই ভাইরাল হওয়া অভিযোগপত্র