একটি নতুন যুগের জনক আল্লামা সুলতান যওক নদবী

একুশে জার্নাল

একুশে জার্নাল

ফেব্রুয়ারি ১৪ ২০২১, ০১:৫৩

খন্দকার মুহাম্মদ হামিদুল্লাহ

কিছু মানুষকে ঘিরে কোমল পবিত্রতার রেশমি আবেশ তৈরি হয়। চারদিকে অপার্থিব শুদ্ধতার সুরভি ছড়িয়ে থাকে। যতক্ষণ আপনি তাঁর সান্নিধ্যের সৌরভে অবস্থান করবেন, কোনো তরল চিন্তা, উদ্বেগ, অস্থিরতা ও অস্বস্তি আপনার কাছে ঘেঁষতে পারবে না। এমন অনুভূতির অভিজ্ঞতা অনেকের আছে; আপনারও থাকতে পারে। বিশ্বাস ও হেদায়তের অদৃশ্যবাগানে যার বিচরণ যতো বেশি এমন অভিজ্ঞানও তার ততো সমৃদ্ধ। এগুলো হৃদয়ঘটিত বিষয়, অনুভবের ব্যাপার-স্যাপার ! তথ্য-প্রমাণ দিয়ে এর মূর্তরূপ হাজির করা সম্ভব নয়। এখানে আত্মা আর পরমাত্মার আধ্যাত্মিক রসায়নের মেলবন্ধন রচিত হয়েছে।

উন্নত অভিরুচি, সংস্কারভাবনা ও প্রাগ্রসর চিন্তাধারায় এতো অগ্রবর্তী একজন মানুষকে দূর থেকে অনেকেই চিনতে পারে নি। জাতির ভবিষ্যতের ইমারত নির্মাণে যিনি নিজের পুরো যৌবন খরচ করে বার্ধক্যের প্রান্তসীমায় অবস্থান করছেন, তিনি সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্ম গ্রহণ করেন নি, বিন্দুকে সিন্ধুতে পরিণত করে, একটি ছোট্ট চারাগাছকে তিলে তিলে পরিচর্যার মাধ্যমে বিশালবৃক্ষে রূপ দিয়েছেন। যার ফুল-ফসল নিজের চোখে প্রত্যক্ষ করে প্রাণ জুড়ানোর ইতিহাস গড়েছেন; তিনি কীর্তিমান কিংবদন্তী আল্লামা সুলতান যওক নদভী।

তিনি একটি গল্প, একটি ইতিহাস, একটি প্রতিষ্ঠান বরং একটি নতুন যুগের জনক। …কঠিন অর্থসংকট, একের পর এক জীবনের ঘাত-প্রতিঘাত ও চ্যালেঞ্জ পার করে তিনি নতুন ধারার নন্দিত একটি বৃহৎ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই গড়ে তুলেন নি বরং স্রোতের বিপরীতে সটান দাঁড়িয়ে একটি অগ্রসর প্রজন্ম, চৌকস একদল আলেম ও শিক্ষিত এক দুর্দান্ত কাফেলার বিজয়ী নাবিকরূপে মিশন শেষে সোনালী বন্দরে নোঙর করেছেন এই মর্দে মুজাহিদ, সমকালের পুরোধা সংস্কারক। শ্বেতশুভ্র কেতাদুরস্ত এই সোনার মানুষটি বাইরে ঝলমলে পরিপাটি, আধুনিক আর অন্তরে আদর্শবাদী আকাবির আসলাফের ভক্তি-ভালোবাসায় অন্তঃপ্রাণ। তাঁদের স্মরণ করতেই তিনি ডুকরে কেঁধে ওঠেন, সজনে-বিজনে।

সালাম হে ইতিহাসের কিংবদন্তি, ইলমে নববীর মহীরূহ, রাহবারে মিল্লাত…আল্লাহ আপনাকে সুস্থ রাখুন, আপনার ছাঁয়া দীর্ঘায়িত করুন আমাদের ওপর।