ইমরান খানের ‘ভাগ্যনির্ধারণী’ অধিবেশন শুরু, রাত ৮টার পর শুরু হবে অনাস্থা ভোট

একুশে জার্নাল ডটকম

একুশে জার্নাল ডটকম

এপ্রিল ০৯ ২০২২, ১৭:৩৭

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ভাগ্য নির্ধারণের জন্য জাতীয় পরিষদের অধিবেশন দীর্ঘ বিলম্বের পর আবার শুরু হয়েছে। অধিবেশন মূলত দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত মুলতবি করা হলেও বিরোধী দল ও সরকারি দলের সদস্যরা বৈঠকে বসার কারণে তা বিলম্বিত হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক ডন জানিয়েছে, ভাগ্য নির্ধারণী ঐতিহাসিক এই অনাস্থা ভোটের অধিবেশনে এখনও অংশ নেননি প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইফতারের পর অর্থাৎ রাত ৮টার পর অনাস্থা ভোট অনুষ্ঠিত হতে পারে।

সূত্রের বরাত দিয়ে জিও নিউজ বলছে, অধিবেশনটি ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্বিত করা হয়েছে এবং ইমরান খানের রাজনৈতিক দল পিটিআই এর মন্ত্রীরা তাদের বক্তৃতা দীর্ঘ করার চেষ্টা করছেন।

পাকিস্তানের সিনিয়র সাংবাদিক ও বিশ্লেষক হামিদ মীর বলেছেন, অধিবেশন মুলতবি হওয়ার আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি বক্তব্য রাখছিলেন, বিরতির পর তিনি আবারও ভাষণ দিচ্ছেন। তাকে যাতে কমপক্ষে তিন ঘণ্টা কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয় তার জন্য প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান নির্দেশ দিয়েছেন।

এ ছাড়া দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন জানিয়েছে, অধিবেশন স্থগিত করার পর স্পিকার আসাদ কায়সারের চেম্বারে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেছে বিরোধী দলগুলোর একটি প্রতিনিধিদল। জাতীয় পরিষদে তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করে যেতে স্পিকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তারা।

এদিকে আজ ভোটগ্রহণ যাতে না হতে পারে সেজন্য অধিবেশন দীর্ঘায়িত করার সরকারের পরিকল্পনার পাল্টা কৌশল নিয়ে আলোচনা করতে বিরোধীদলীয় নেতা শাহবাজ শরিফের চেম্বারে পরামর্শক বৈঠক করেছে বিরোধী দল।

পরে অবশ্য সরকার ও বিরোধী দল সংসদে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে বক্তৃতা দেওয়ার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে।

সাংবাদিক মীর বলেন, আসাদ কায়সারের চেম্বারে সরকার ও বিরোধী দলের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। উভয় পক্ষই সহযোগিতা করতে সম্মত হয়েছে এবং উভয় পক্ষের বক্তৃতার সময় তাদের কেউই হস্তক্ষেপ করবে না বলে কথা দিয়েছে। আজ রাত ৮টার পর সংসদে অনাস্থা ভোট অনুষ্ঠিত হবে বলে নিশ্চয়তা দিয়েছেন শাহ মাহমুদ কুরেশি।

বিরোধীদলের পক্ষ থেকে মাওলানা আসাদ মাহমুদ ট্রেজারি বেঞ্চের সদস্যদের আশ্বস্ত করেছেন যে তারা সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া বক্তৃতায় বাধা দেবেন না। তবে, তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন যে ট্রেজারি বেঞ্চের এমএনএরা যদি হট্টগোল করেন, তাহলে বিরোধী দলের নেতারাও তার প্রতিক্রিয়া জানাবেন।