ইউপি সদস্য ইরনের প্রেমের ফাঁদে সর্বহারা বিশ্বনাথের নিলুফা ইয়াসমিন

একুশে জার্নাল

একুশে জার্নাল

এপ্রিল ০১ ২০১৯, ০৯:২৭

সিলেট প্রতিনিধি

সিলেটের বিশ্বনাথে পূর্ব বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের উপর হামলার অভিযোগে ইউপি সদস্য সহ ৫জনকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার (২৭মার্চ) উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের পূর্বপাড়া (নোয়াগাঁও) গ্রামের ইদ্রিস আলীর মেয়ে নিলুফা ইয়াসমিন (২১) বাদি হয়ে বিশ্বনাথ থানায় এই মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-১৩। অভিযুক্তরা হলেন- পূর্বপাড়া (নোয়াগাঁও) মৃত আস্তফা মিয়ার পুত্র ও স্থানীয় ইউপি সদস্য ইরন মিয়া (৩৫), তার ভাই সোহাগ আহমদ চন্দন (৩৬), তোতা মিয়া (৩৭), একই গ্রামের মৃত আব্দুল করিমের পুত্র আব্দুল মছব্বির (৫০) ও তার পুত্র ফটিক মিয়া (২৫)।
মামলার এহাজারে বাদী নিলুফা ইয়াসমিন উল্লেখ করেন- তিনি ২০১৮ সালে অভিযুক্ত ইরন মিয়া মেম্বারের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ (১) ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। এনিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে বাদীর পরিবারের বিরোধ চলে আসছে। উক্ত মামলার হাজিরা দিতে গত ১২ মার্চ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যালে হাজির হন বাদী (নিলুফা ইয়াসমিন)। তিনি আদালতের এজলাস থেকে বের হলে তাকে মামলা করার সাধ মিটিয়ে দিবে বলে হুমকি দেন অভিযুক্ত ইরন মিয়া ও তার ভাই সোহাগ আহমদ চন্দন। এরপর গত ১৫ মার্চ সকাল সাড়ে ১১টায় অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাদির ঘরে প্রবেশ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে নিলুফা ইয়াসমিন ও তার মা রিনা বেগমকে খুঁজতে থাকেন অভিযুক্তরা। তাদের এমন আক্রমণাত্মক ভাব দেখে রান্না ঘরের পিছনের দরজা দিয়ে নিলুফা ইয়াসমিন ও তার মা রিনা বেগম দৌড় দিয়ে বাড়ির পার্শ্ববর্তী মসজিদের গেইটের সামনে পৌছা মাত্র তাদের উপর অতর্কিতভাবে হামলা করেন অভিযুক্তরা। এসময় তাদের চিৎকারে পার্শ্ববর্তী বাড়ির ফখরুল আহমদ ও ফাহিম আহমদ এগিয়ে এলে তাদের উপরও আক্রমন করেন অভিযুক্তরা। অভিযুক্তদের হামলায় নিলুফা ইয়াসমিন, তার মা রিনা বেগম এবং পার্শ্ববর্তী বাড়ির শফিক মিয়ার পুত্র ফখরুল আহমদ ও ফাহিম আহমদ গুরুত্বর আহত হয়েছেন। ঘটনার পর আহতরা সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা গ্রহন করেন।

নিলুফা ইয়াসমিন জানান পরিবারের বড় মেয়ে নিলুফা ইয়াসমিন বয়স যখন চৌদ্দ, তখন থেকে তার প্রতি লোলুপ দৃষ্টি দেন আপন চাচাতো ভাই সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার দৌলতপুর ইউপি সদস্য ইরন মিয়া। নিলুফার পিতা প্রবাসে থাকার সুবাধে অভিভাবকের ছলে তাদের ঘরে অবাধে যাতায়াত শুরু করে সে। সপ্তম শ্রেণীতে পড়ুয়া নিলুফা ইয়াসমিনকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে গড়ে তুলে শারীরিক সম্পর্ক। এভাবেই টানা নয় বছর সম্পর্ক চলে তাদের। এর মধ্যে একবার গর্ভবতীও হয়ে পড়ে নিলুফা। ইরনের চাপে গর্ভপাত করে সে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ায় আত্মহত্যার চেষ্টা করেও ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া নিলুফা, ইরনের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে থানা পুলিশের দারস্থ হয়। পুলিশ উল্টো তাকে আটকের ভয় দেখিয়ে ফিরিয়ে দেয়। সর্বশেষ, গতকাল (১৯সেপ্টেম্বর) মঙ্গলবার বিয়ের দাবীতে অনশন করেও ফল না পেয়ে ইরনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে ফের থানার দারস্থ হয়েছে সে।

সরজমিন বুধবার (২০সেপ্টেম্বর) দুপুরে ইউপি সদস্য ইরনের গ্রামের বাড়ী দৌলতপুরের পূর্বনোয়াগাঁও গ্রামে গেলে তাদের ঘরের মূল দরজা বন্ধ পাওয়া যায়। তবে, ভেতরে থাকা তার ভাবীর সাথে কথা হলে তিনি জানান, তার দেবর বাড়ীতে নেই। ইরনদের পাশের ঘরেই নিলুফার বসবাস থাকায় কথা হয় তার (নিলুফা ইয়াসমিন) মা রিনা বেগমের সাথে। তিনি জানান, নিলুফার বাবা দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার সুবাধে বিদেশ থেকে পাঠানো টাকা-পয়সা তার চাচাতো ভাই, ইউপি সদস্য ইরনের মাধ্যমে আমাদের কাছে আসত। এ জন্যে আমার ঘরে প্রায়ই তার আসা যাওয়া ছিল। এই সুযোগে আমার বড় মেয়ে নিলুফার সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলে সে (ইরন)। প্রথমে ঘটনাটি বুঝতে পারিনি। যখন বুঝতে পারি, তখন সে (নিলুফা) ৫মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

এ প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় নিলুফা’র। সে জানায়, ২০০৯ সালে সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী থাকাবস্থায় আমাদের ঘরে যাওয়া আসার সুবাধে নানা প্রলোভন দেখিয়ে চাচাতো ভাই ইরন প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেন। তার কথামত আমি লেখাপড়াও বন্ধ করে দিই। বিয়ের প্রতিজ্ঞা করাতে এক সময় সেটা শারীরিক সম্পর্কে গড়ায়। গত বছরের শেষের দিকে আমি অন্তঃস্বত্ত্বা হয়ে পড়ি। ২০১৭ সালের ২২ শে মার্চ পাঁচ মাসের অন্তঃস্বত্ত্বা থাকাবস্থায় তার চাপে আমি গর্ভপাত করি। এরপর তিনি আমাকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানালে চলতি বছরের ১৩ আগস্ট আমি বিষপান করি। এযাত্রায় ভাগ্যক্রমে বেঁচে গিয়ে ২০ আগস্ট ইরনের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে থানায় যাই। থানার এসআই রফিক আমাকে আটকের ভয় দেখিয়ে ফিরিয়ে দেন। গতকাল বিয়ের দাবীতে তার ঘরে অনশন করি। পরে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আমাকে থানায় নিয়ে আসে। রিমার একটাই দাবি ‘আমি ইরনের স্ত্রীর মর্যাদা চাই’।

থানার এসআই রফিক জানান, মেয়েটি (নিলুফা ইয়াসমিন) যখন থানাতে এসেছিল, সে তখন অসুস্থ ছিল। তাকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে থানাতে আসতে বলেছি।