আল্লাহ তায়ালা তাবলীগ জামাতকে হেফাজত করুন

একুশে জার্নাল

একুশে জার্নাল

ফেব্রুয়ারি ১১ ২০১৯, ১৭:৪৫

মনোয়ার শামসী সাখাওয়াত: তাবলীগ জামাতে প্রধানত মজলুম গরীব মুসলমানদের অংশগ্রহণই বেশি। খেটে খাওয়া অল্পশিক্ষিত মুসলমানরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে জামাতবদ্ধ হয়ে দ্বীনের প্রচারে সফরে নিয়োজিত হয়। এক সুন্দর ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কে আবদ্ধ হয়। এভাবে দুনিয়াবি জীবনের পাকেচক্রে বন্দী মুসলমানেরা অন্তত অল্প কিছুদিনের জন্য হলেও দীর্ঘস্থায়ী আখিরাতী জীবন সম্পর্কে সচেতন হয়ে ওঠে। পারস্পরিক শিক্ষা ও দীক্ষার এক সৌহার্দ্যপূর্ণ শেয়ারিং ও কেয়ারিং কালচারে যুক্ত হয়। মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত শ্রেণীও তাবলিগে অংশ নেয়। তবে তাদের জন্য তো হাজ্জ্বসহ আরো অনেক রকম সুযোগ সুবিধা রয়েছে যা গরীব মজলুমদের জন্য নেই।

এখন এই তাবলীগ আন্দোলন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কোটি কোটি মুসলমানকে স্পর্শ করেছে। এর নেতৃত্ব নিয়ে দ্বিধাবিভক্তি দেখা দিয়েছে। কেন এই দ্বিধাবিভক্তি? এত বিশাল আন্দোলনের অস্পষ্ট ও নেপথ্য (কিছুটা লোকচক্ষুর আড়াল) সাংগঠনিক ও নেতৃত্ব কাঠামোতে যে এতদিন কোন নেতৃত্বের সমস্যা হয়নি আমি তো মনে করি সেটাই একটা মিরাকেল। মুসলিম উম্মাহ আজ বিভক্ত, বিপর্যস্ত। খেলাফত নেই প্রায় ১০০ বছর হয়ে গেছে। ঔপনিবেশিক ও সাম্রাজ্যবাদী অনুপ্রবেশ ও প্রভাবে ব্যাপক অদলবদল ঘটেছে মুসলিম উম্মাহর সর্বত্র। আধুনিক ও সেক্যুলার পাশ্চাত্য শিক্ষা ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রভাবে মুসলিম উম্মাহর ভেতরে দ্বিধাবিভক্তি অনেক আগে থেকেই কার্যকর।

এতকিছুর পরেও তাবলীগ আন্দোলন বিংশ শতাব্দী পেরিয়ে ব্যাপক সাফল্যের সাথে একবিংশ শতাব্দীতে পদার্পণ করেছে। সমগ্র মুসলিম উম্মাহতে বিপর্যয় থেকে উত্তরণের জন্য ইসলামের পুনর্জাগরণে যে বহুমুখী উদ্যোগগুলো বিকশিত হচ্ছে তাবলীগ আন্দোলন তারই একটি তৃণমূল প্রকল্প।

ইসলামবিদ্বেষী দেশি ও আন্তর্জাতিক শক্তিসমূহ হয়তো এতদিন তাবলীগ আন্দোলনকে একটি নিরীহ ধার্মিকতামুখী ও পরকালমুখী উদ্যোগ হিশেবে গণ্য করেছে। তবে এখন থেকে কি একে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ক্ষমতা ও সম্পদের মালিকানা ব্যবস্থাপনায় একটি সম্ভাব্য তৃণমৌলিক হুমকি বলে বিবেচনা করছে? আর তারই প্রতিফলন কি আমরা অবলোকন করছি গতবছরের ইজতেমাপূর্ব সময় থেকে?

এটা তো বুঝতে রকেট সাইন্টিস্ট হতে হয় না যে মুসলিম উম্মাহর ভেতরে আলেম ও জেনারেল শিক্ষিত শ্রেণীর মধ্যে নানারকম দূরত্ব আছে। এখন গরিব মজলুম শ্রেণীকে উস্কানি দিয়ে পরস্পর বিরোধী করে তোলা এমন কোন কঠিন কাজ নয়। নিম্নবর্গ ও মজলুম জনগোষ্ঠীই তো সহজে বিভক্ত হয়। সুইজারল্যান্ডের ডাভোসে যে বড়লোকদের বাৎসরিক সম্মেলন হয় মজলুমেরা তো আর তাদের মত সংগঠিত হয়ে শানশওকতের সাথে সম্মেলন করতে পারে না। তাদের তো সেইরকমের রিসোর্স ও স্কিলস কোনোটাই নেই।

দুঃখের বিষয় হল মুসলিমদের শত্রুদের হাতে ব্যবহৃত হবার জন্য কিছু উৎসাহী বান্দা সর্বকালে ও সর্বস্থানেই স্বেচ্ছাসেবী সেজে মুখিয়ে থাকে। আমার আশংকা যে রক্তপাত এবারের বিশ্ব ইজতেমার প্রেক্ষাপটে সংঘঠিত হল তা কি কোন অসদুদ্দেশ্য প্রণোদিত উদ্যোগের প্রাথমিক আলামত? তার মানে এটিই হয়তোবা এই প্রবণতার শেষ ঘটনা নয়। অবশ্য আমি ভুল প্রমাণিত হলে যারপরনাই খুশী হব।

আল্লাহতায়ালা তাবলীগ জামাতকে হেফাজত করুন!