আল্লামা বাবুনগরী;তালেবে ইলমদের অনুসরনীয় একজন আদর্শ উস্তাদ

একুশে জার্নাল

একুশে জার্নাল

জুন ১১ ২০১৯, ১৭:৩০

জুনাইদ আহমদ

বাড়ি থেকে এসেছি গত ৯ ই জুন রবিবার, পরিবারের সাথে ঈদ আনন্দ কাটাতে প্ৰাণপ্ৰিয় শায়েখ আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী হাফিজাহুল্লাহু তখন গ্ৰামের বাড়ি ফটিকছড়ির বাবুনগরে ছিলেন, তাই মাদরাসায় এসে শায়খের সঙ্গে আমার সাক্ষাত হয়নি।

গত রাত শায়েখ বাড়ি থেকে মাদরাসায় আসলেন,শায়েখের গাড়ি মাদরাসায় পৌঁছলে ইন’আম ভাই ফোন দিলেন আমাকে, হুইল চেয়ার নিয়ে নীচে গেলাম শায়েখকে রুমে নিয়ে আসার জন্য, শায়েখকে গাড়ি থেকে নামিয়ে হুইল চেয়ারে বসানো হলো। আমি বাড়ি থেকে আসার পর শায়েখের সাথে সাক্ষাত হয়নি, শায়েখ গাড়ি থেকে নামার পরও আমি শায়েখের সাথে সালাম কালাম করিনি, ভাবলাম রুমে যাবার পর আস্তে ধীরো সাক্ষাত করবো।

তাই হুইল চেয়ার ঠেলে শায়খের রুমে নিয়ে আসলাম, নীচ তলা থেকে শায়েখকে উপরে উঠানোর সময় প্ৰায়ই আমি হুইল চেয়ারের পেছনে ধরি, কারণ উপরে উঠানোর সময় পেছন থেকে চেয়ার ধরলে শায়েখ নিজের মাথা আমার বুকের সাথে লাগিয়ে হেলান দিয়ে থাকেন, শায়েখের মাথা আমার বুকে থাকাটা যে কতটা সৌভাগ্য এবং আনন্দের তা আমার ভাষাশৈলীতে প্ৰকাশ সম্ভব নয়।

রুমের সামনে নিয়ে এসে হুইল চেয়ার নক করছিলাম; এমনি আমার উপর শায়েখের চোখ পড়লো, আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বললেন, “আরে জুনাইদ! বাড়ি থেকে কখন আসছো তুমি? বললাম, গতকাল এসেছি।

শায়েখ আবার জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমার বাড়ির সবাই কেমন আছেন? বললাম, আলহামদুলিল্লাহ সবাই ভালো আছেন।

কেমন আদৰ্শ উস্তাদ হলে একজন ছাত্ৰ বাড়ি থেকে এসে মোলাক্বাত করার আগেই নিজ থেকে আগ বাড়িয়ে ছাত্ৰের সাথে এমন সহজ সরলভাবে কুশল বিনিময় করতে পারেন!

রুমে নিয়ে যাবার পর আবারো জিজ্ঞাস করলেন, “রাতে খাবার খেয়েছো? মাদরাসা থেকে রাতের খাবার কি দিয়েছিল? বললাম”আলু গোস্ত”।

“শায়েখ একটু মজা করে বললেন “আলু গোস্ত,নাকি গোস্ত আলু? আমি হেসে বললাম, “শায়েখ তরকারীতে যেহেত আলুর পরিমাণ বেশি আর গোস্তের পরিমাণটা কম তাই গোস্ত আলু নয় বরং আলু গোস্তই হয়াটাই অধিক যুক্তিযুক্ত হবে বলে মনে হয়,আমার কথা শুনে শায়েখ মুচকি হাসলেন, সাথে সাথে আমরাও হাসলাম, শায়েখ মাঝে মধ্যে এভাবে হাসি মজাক করে থাকেন।

আম্মুর দেয়া আমের আঁচার শায়েখের সামনে পেশ করলাম,শায়েখ জানতে চাইলেন কি এগুলো? বললাম, আম্মুর হাতে বানানো, আমাদের গাছের আমের আচার, আম্মু আপনার জন্য হাদিয়া পাঠিয়েছেন।

আঁচারের বয়াম খুলে দিলাম, শায়েখ এক টুকরো আঁচার নিয়ে খেলেন, মনটা আমার খুশীতে ভরে গেলো, শায়েখ চাইলে পরেও খেতে পারতেন কিন্তু আমার সামনে এক টুকরো খেলেন;সম্ভবত এর দ্বারা শায়েখ আমার মনটা খুশি করলেন।

বাস্তবেই কারো জন্য খাবারের জিনিস হাদিয়া আনার পর যদি সেই হাদিয়া থেকে সামান্য পরিমাণ হলেও তিনি খান তাহলে হাদীয়া দাতার মনটা খুশিতে ভরে যায়, আল্লামা বাবুনগরী হাফিজাহুল্লাহু থেকে এটা আমাদের জন্য অনেক বড় শিক্ষনীয় ও অনুসরনীয় একটি বিষয়।

প্ৰকৃত উস্তাদ কখনো নিজ সন্তান ও ছাত্ৰের মাঝে প্ৰাৰ্থক্য রাখেন না,আমি শায়েখের একজন নগণ্য ছাত্ৰ,দীৰ্ঘদিন পর আমি বাড়ি থেকে এসেছি তাই শায়েখ নিজ থেকে আগ বাড়িয়ে আমার নিজের হালত, পরিবারের হালত, এবং রাতে খাবার খেয়েছি কিনা সেটার খবরও নিয়েছেন, আদৰ্শ উস্তাদ আর কাকে বলে?

গাড়ি থেকে নামিয়ে হুইল চেয়ারে বসানোর পর নতুন পুরাতন বহু ছাত্ৰ শায়েখের সাথে সাক্ষাত করলো,শায়েখ একে একে সবার সাথে মুসাফাহা করলেন এবং হাসিমুখে সবার সাথে কুশল বিনিময় করলেন।

আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী মুসলিম উম্মাহর ঈমান আকিদা রক্ষার অতন্দ্ৰপ্ৰহরী, মসজিদের মিম্বারে একজন যোগ্য খতীব, বাতিলের বিরুদ্ধে হকের ময়দানে বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর, হাদীসের মসনদে মুকুটবিহীন সম্ৰাট, দরসের জগতে যমানার আব্দুল্লাহ ইবনে মোবারক, এবং লাখো তালেবানে ইলমের জন্য অনুসরনীয় একজন আদৰ্শ উস্তাদ।

আল্লাহ তায়ালা সুস্থতার সহিত শায়েখকে দীৰ্ঘ নেক হায়াত দান করুন, আমিন।

 

শিক্ষার্থী, দারুল উলুম হাটহাজারী।