আদর্শ সমাজগঠনে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার বিকল্প নেই; আল্লামা আহমদ শফী

একুশে জার্নাল ডটকম

একুশে জার্নাল ডটকম

জানুয়ারি ১৭ ২০২০, ১৯:৫৪

কওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাক ও নূরানি তালিমুল কুরআন শিক্ষাবোর্ড চট্টগ্রাম বাংলাদেশ -এর চেয়ারম্যান আল্লামা শাহ আহমাদ শফী বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বিরাজমান অরাজকতা ও অনৈতিক কাজগুলো আমাকে ভীষণভাবে আহত করছে। আমি বারবার এসব দূরীকরণের লক্ষ্যে কথা বলে যাচ্ছি দেশ ও জাতির স্বার্থে। শিক্ষাক্রমে দ্বীনি শিক্ষার প্রতি আরও গুরুত্ব আরোপ করতে হবে। প্রকৃত আলেম দ্বারা দ্বীনি ও নৈতিক শিক্ষা দিতে হবে। আর্দশ ও সুন্দর সমাজগঠনে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার বিকল্প নেই।

আজ (১৭ জানুয়ারি) শুক্রবার, সকাল ১০টায় বাংলাদেশের দ্বীনি ও সাধারণ শিক্ষার সমন্বিত প্রাথমিক শিক্ষার বৃহত্তম বোর্ড “নূরানী তা’লীমুল কুরআন বোর্ড চট্টগ্রাম বাংলাদেশ” -এর অধীনে দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় সনদ পরীক্ষায় এ+ প্রাপ্ত ছাত্র-ছাত্রীদের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে আল্লামা শাহ আহমদ শফী এসব কথা বলেন। বোর্ডের মহাসচিব মুফতি জসিমুদ্দীনের সভাপতিত্বে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাওলানা আনাস মাদানী অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মেখল মাদরাসার পরিচালক ও বোর্ডের সহসভাপতি আল্লামা নোমান ফয়জি, বোর্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা জমিরউদ্দীন, মাওলানা মীর আনিস, মাওলানা ইবরাহীম খলিল, মাওলানা সলিমুল্লাহ খান, মাওলানা আবুল হাশেম, মাওলানা মাসুদুর রহমান, মাস্টার আনিসুল ইসলাম ও মাওলানা মোক্তার প্রমুখ।

আল্লামা শাহ আহমদ শফী আরও বলেন, নৈতিকতাসম্পন্ন সুশিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। এ কথাটি এখন আর উচ্চারিত হয় না। শুধু শিক্ষিত হলে চলবে না, আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতাসম্পন্ন সুশিক্ষিত করতে হবে। তবেই তারা দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করবে, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তারা কখনো দুর্নীতিগ্রস্থ হবে না, অন্যের হক নষ্ট করবে না।

আমিরে হেফাজত আরও বলেন, আমাদের দেশে অনেক শিক্ষিত ব্যক্তি আছে যারা তাদের কর্মক্ষেত্রে বসে প্রতিনিয়ত মানুষদের হয়রানি করছে, প্রতারিত করছে, নৈতিক ও আর্দশিক শিক্ষায় শিক্ষিত না হওয়ার কারণে দূর্নীতির মাধ্যমে দেশ ও জাতির অকল্পনীয় ক্ষতি সাধন করছে তারা। মনে রাখতে হবে দেশকে সুসন্তান, সুনাগরিক উপহার দিতে হলে অবশ্যই সুশিক্ষিত হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, অভিভাবকগণ এক বুক প্রত্যাশা ও বিশ্বাস নিয়ে সন্তানদের সুনাগরিক হিসেবে তৈরি করার জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠান। তাদের আশা, আমার সন্তান শিক্ষিত হবে, মা-বাবার মুখ উজ্জ্বল করবে, সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। অথচ সেই শিশুই খোদ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই শিক্ষক দ্বারা অথবা সহপাঠি দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছে। ফলে স্বপ্নগুলো চুরমার করে দিচ্ছে। যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও লজ্জাজনক। এসব থেকে আগামির ভবিষ্যতকে পরিত্রাণ দিতে হলে পাঠদান পদ্ধতি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভিন্নতা আনতে হবে।

বক্তব্য প্রদান শেষে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি আল্লামা শাহ আহমদ শফী বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের পুরস্কার তুলে দেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের কেন্দ্রীয় সনদ পরীক্ষায় ‘নূরানী তালীমুল কুরআন বোর্ড, চট্টগ্রাম বাংলাদেশ’ -এর অধীনে সারা দেশের দুই লক্ষ উনিশ হাজার পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। গত ২৪ডিসেম্বর পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এতে পাশের হার ছিলো ৯৫.০৫%। দেশব্যাপী ১ম-৩য় স্থান অধিকারীদের নগদ অর্থ পুরস্কা, সনদ ও পুস্কার প্রদান করা হয় এবং পরবর্তী ২০তম স্থান অধিকারীদের বিশেষ বৃত্তি ও পুরস্কার এবং দশ সহস্রাধিক এ+ প্রাপ্তদের পুরস্কার প্রদান করা হয়।